জন্ম আমার চিড়িয়াখানায়
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
সার্থক আমার জনম সার্থক কেবল সৌভাগ্যবানকেই মানায় ,
আমি সৌভাগ্যবান যে আমার জন্ম এক সফল চিড়িয়াখানায় ।
জন্ম অবধি দেখে আসছি হরেক রকম প্রাণীর বিচরণ ,
প্রাণী গুলির মুখ থেকে দেখেছি অগ্নি স্ফুলিঙ্গের বিচ্ছুরণ ।
প্রতিদিন দেখা হয় বানরের সনে উলঙ্গ হয়ে ভেঙচি মারে ...,
তারা দিনের আলোয় নৃত্য করে নাদানের ফুরসৎ ঝাড়ে আঁধারে ।
দেখা হয় হররোজ শিয়ালের সনে লোলুপতা চোখটা লাললাল ,
চোখের সামনে কিছু পেলেই নিজেকে করতে পারে না সামাল ।
ভোগের লীলায় দিশাহীন হয়ে বারে বার জিহ্বা চটকায় ,
সামনে পেলেই টেনে হিঁচড়ে পায়ের নখেতে তারে লটকায় ।
রক্তের নেশায় মেতে ওঠে খুনের রক্তে হলি খেলে নৃত্যে নিত্য ,
মহাজন শিয়ালের পায়ে ক্ষুদ্র প্রাণী গুলো ক্রন্দন করে সেজে ভৃত্য ।
দেখা হয় সর্পের সনে মুখে ঝরে বিষ ক্ষুধায় ক্ষোভে শিক কামড়ায়,
বিষের ফুলকি জ্বলে আকাশে বাতাসে ভূমণ্ডলে আর সন্ধ্যা তারায় ।
আপনা বিষের জ্বালায় আপনাকেই ছোবল দেয় প্রতিক্ষণে ,
সুযোগ পেলে ছাড়ে না সে ছোবল দিতে কোন চলমান জনে ।
বিষ যেন তার সদা প্রবাহিত ধড়ে গ্রীবায় দন্তে চোখে আর মস্তকে ,
বিষের চোরাবালিতে এক করে ফেলে দিগ দিগন্ত আর দৈর্ঘ্য প্রস্থকে ।
দেখা হয় ব্যাঘ্র সিংহের সাথে , গর্জনে ফেটে যেতে চায় নীল গগণ ,
ঘর্মে তাদের অঙ্গার শরীর অনিমেষে শীতল করে প্রকৃতির হিমপবন ।
তাদের পাঁয়তারা চক্রাকারে মাঝে মাঝে করে ফেলে কিম্ভূত ,
অনুভব করি যেন ব্যর্থ জীবনের এক নগ্ন বিভ্রাটে সেজেছে ভূত ।
জীবনের পরাজয় গ্লানি মনের নিভৃতে পোষে পোষে পাগল সে প্রায় ,
চৌকস উজানভাটি সুপ্তে সুপ্ত গগণের নীল সমুদ্রের নীলে এসে দাঁড়ায় ।
দেখি সদা হরিণের রোনাজারি , প্রাণ বাঁচানোর এক নিরলস প্রয়াস ,
যদিও বেড়ার হেফাজত তবু যেন পাতার ঝনঝনানিতে কাঁপে অনায়াস ।
দেখেছি ঘোড়ার শুদ্ধ বিচরণ , ডিম পাড়ে লাদের ঘোর গভীরে ,
পায়ের গীরা গুলো রগের চাপায় পটকা ফুটায় লেজের পেছনে ধীরে ।
ময়ূরের পেখম ফুটি রঙধনুর সাজে আর সাজেনা বেমানান অন্ধকারে ,
ভালুকের গতরে থাবা থাবা মাংসপেশী কোনই কাজে আসেনা ভাগাড়ে ।
সব দেখি সব করি অনুভব , দোলা দেয় নয়নে ভাসি ,
আপনাকে সার্থক ভাবি বড় নিরুপায়ে হয়ে বঙ্গ নামে চিড়িয়াখানাবাসি ।।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।