ইন্তা বুড়ো
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
এই বালা এদিক আয়... দেখিস না চোখে ,
সাত দিন হল ময়লা জমেছে আমার আঙুলের নখে ।
এই অইচা শোন তুই কেন হইলি এতো কাম চোরা
ঠ্যাঙে এক লাঠির বাড়ি দিয়ে করবো তোরে খোঁড়া ।
বলতে দেরী হয়ে গেলো খোঁড়া করতে হল না দেরী ,
সে অইচার কত কষ্ট আসিল নেমে চাহিল না ফিরি ।
কাজের ছেলে ভোলায় কেবলই আসিল মাঠ থেকে ,
কান'টা ধরে গরুর চাড়ির নিকট আনিল তারে ডেকে ।
এই ভোলা খৈল কই পানি কেন টলটলা দেসনা গুঁড়া ?
ফকন্নির পোলা জমিদার ঘরে এসে হইছিস কি কুড়া ?
প্রতিদিন প্রতিলগ্নে এমনেই অবিচার চলিত তার ঘরে ,
গ্রামের হীন মানুষগুলি এমনেই তার কাছে এসে মরে ।
একদিন এক ফকির আসিল ঘরে ডাকিল মা বলে ,
বুড়োর গর্জন ওই ফকুন্নির পোলা যাহ্ শীঘ্রই চলে ... ।
যদি নাহি যাস তুই ফিরে ,
বাঁধিব তোরে ঘরের তীরে ।
হাত পা বাঁধি বস্তায় ভরে ,
পাঠায়ে দিবো আরশ 'পরে ।
বড় ভীত চিচু ফকির চাহিতে বেরিয়ে যেতে ঘর থেকে ,
ফের তারে আঙুলের ইশারায় আনিল খুব কাছে ডেকে ।
ট্যাঁউরের ভাঁজ থেকে চার আনা করিয়া সে বাহির ,
রক্তচোখে অবহেলাভরে দিয়ে তাহা করিল সে যাহির ।
দিতেই পয়সা'টা মাটিতে পড়িয়া ধূলায় গেলো ঢেকে ,
জলদী ফকিরটা পয়সাটার ধূলি'টা বসনে নিলো মেখে ।
আদবের সাথে পয়সা'টি ইন্তাকে চাহিল ফেরত দিতে ,
ফকিরের হাতে পয়সা সে আর চাহিল না ফেরত নিতে ।
সম্মান তার নাকি পুরোই যাবে বড়লোকের অহংকার ,
ক্রমে ক্রমে একদিন এই অহংকারের হয়েছে সৎকার ।
যেতে যেতে সব চলে গেছে দলিলের জমাজমি তার ,
শেষে দিন আর কাটেনা তার থাকিতে হয়েছে অনাহার ।
অবশেষে ভিখ মাঙ্গেও যায়নি দিন বেঁচেছিল ধিকধিক ,
জানতে পেরেছিল মরণের আগে...
অহংকার পতনের মূল কথাটি খুব সত্য খুব ঠিক ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।