আমি টিউলিপ
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
আমার জন্ম খরা চৈত্রে ...একটা ডোবার পাশে ,
তৃণ আর কিছু বেন্না ছিল আমার নিত্যদিনের সঙ্গী ।
বিলফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরম ছিল আমার প্রকৃতি ।
নিযুতের কাছাকাছি আমার দুঃখ । কেউ কোনোদিন
আমাকে জিজ্ঞেসও করতো না আমি কেমন আছি ।
বয়সটাকে দড়ি দিয়ে টেনে বেঁধেও আটকাতে পারিনা ।
বেড়ে চলছে তো চলছেই ... তেপান্তরমুখী হয়ে ।
কোন এক ঋতুতে ঠিক মনে পড়ছে না ... দুর্বল স্মৃতি ।
সম্ভবত বরষা হবে ঋতু'টা । সে কী বৃষ্টি । ডোবাটি
ঘন্টা খানেকের ভিতরই পরিপূর্ণ । বৃষ্টি'টা খালি বারিধারা
নয় , এনেছিল কিছু মাছও ।
প্রথম প্রথম এসেই আমার পায়ে বিনীতভাবে প্রণাম করতো ।
চুমু দিতো আমার সারা অঙ্গে । মন্দ লাগতো না ।
সবচে বেশি আদর পেয়েছি একটা পুঁটি মাছের । সারাদিন
আমার কাছেই থাকতো । আমার কাছেই ঘুরঘুর করতো ।
আমি প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম আমার লক্ষ লক্ষ দুঃখকে ।
সেদিন ছিল শ্রাবণের মাঝামাঝি লগণ , অপরাহ্ন বেলা ।
রিমঝিম বৃষ্টি শুরু হল । পুঁটি মাছটির নাচন কুঁদন দেখছিলাম ।
পুঁটিমাছটার পায়ে গায়ে আলতা, বুঝিয়ে উঠতে পারছি না...কেন?
আমাকে পুচ্ছ দেখায়ে ভোঁ করে দৌড়ে গিয়ে গহীন জলে
উম্মাদনায় আনন্দে নেচে নেচে ফেটে পড়ছে ।
আমাকে আড়াল ঘাসের মাধ্যমে খবর দিলো তার নাকি বিয়ে ।
দুঃখ'টা কম পাইনি । এতো বেশি দুঃখ পেলাম চ্যাঁরে তোলা
মুশকিল হয়ে যাচ্ছিলো । কিন্তু কি আর করার । আমার জীবন তো
আমার । একান্তই তাহা আমার । তার জীবন একান্তই তার ।
সে আমার কথা ভাববে কেন ? কেনই'বা ভাববে আমার বয়স
তার'চে অনেক অনেক বেশি ... ধরতে গেলে আমার বয়স
তাল গাছের সমান । কিন্তু তাতে কি ? বয়স'টা তালগাছ হলেই
কি তাকে বলতে হবে যে ... আমার আগে বিয়ে হোক ?
সে তো সে , আর আমি তো আমি । তার রক্ত লাল । আমার
রক্ত সবুজ । ... অনেক কিছুই আবোল তাবোল ভেবে কিছুতেই
একটা দীর্ঘশ্বাস চাপিয়ে রাখতে পারলাম না । সে দীর্ঘশ্বাসের
উদগিরন আওয়াজ ছিল ... কেউ আমাকে জানলো না ,
কেউ আমাকে চিনলো না ... আমি টিউলিপ ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।