মালিক মজুর
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
মালিক হাঁকিয়া কহেন: এই শোন... চান্দু মিয়া ,
আগামী বিশদবারে কিন্তু আমার মেয়ের বিয়া ।
বুধবারে তুই ছাতরা পুকুরে জাল নামাবি রাতে ,
সারারাত ধরে মাছ মারবি, ফিরে আসবি প্রাতে ।
বড় বড় মাছ যাহা পাবি তুই বস্তায় ভরাবি সব ,
বস্তা আটেক না পেলে মাছ, নামবে তোর গজব ।
ছোট মাছ যদি জালে আটকে, দিবি তারে ছেড়ে ,
একটা যদি ছোট মাছ দেখি, ফেলব তোরে মেরে ।
কীরে ... শুনলি কি আমার কথা ... ?
যাহ শুয়ে পড় জলদী , জেগে থাকিস না অযথা ।
চান্দু কাঁপিয়া মৃদু স্বরে কহে ... মালিক মহাশয় ,
সব কাজ পারি তব মাছ ধরিতেই লাগে যে ভয় ।
পারিনা আমি মাছ ধরিতে , পারিনা জাল ধরা ,
বিধাতা মোরে তাতেই যেন পড়ায়েছে হাতকড়া ।
সেই ছোট্টকালে চোখে দেখেছি গাঁয়ের আজগরে ,
মাছ ধরিতে বিলে'তে গিয়ে, গেছে অকালে মরে ।
তারপর থেকে মনে ভয় ঢোকে , মাছ শিকারে ,
মাছ শিকারের কথা শুনলেই ধরে যেন বেমারে ।
মালিক যেন স্বর্গ থেকে নামিয়া আসিলো মর্তে ,
মর্ত্য থেকে ঢুকিয়া গেলো যেন লক্ষ হাত গর্তে ।
রক্ত বরণ চক্ষুখানি,বিষিয়ে উঠিল মালিকের ধড় ,
হাতখানা তার কাঁপিয়া তুলি চান্দুরে মারিল চড় ।
দেরী না করি চান্দুকে সে, করিল ঘরের বাহির ,
মালিকের মালিকত্ব যেন মুহূর্তেই করিল জাহির ।
নিঝুম'রাত, শোন শোন করে, পথিক চান্দু পথে ,
বাস্তবতার নীল জীবনে লাল কষ্টে বেকায়দা রথে ।
এমনই চলিতে দেখছি মম সেই আদিকাল থেকে ,
মালিক অট্টলিকায়, মজুর থাকছে অশ্রুতে ঢেকে ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।