আজ ৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, রবিবার

কবিতাসমষ্টি তারিফ১০
- মাহমুদুল মান্নান তারিফ - সোনালি কবিতা

দশ (৭০-৭৫)
মাহমুদুল মান্নান তারিফ৪০৭০
তাং১২১২১৬
বিদিশারা দিশা পেলো

বিদিশারা দিশা পেলো বিদূরিত কালো
মানবতা মুক্তি পেলো ইসলাম জাগে
হযরত এলেন যে লোকমুখে ভালো
দলেদলে দ্বীনে আসে তাঁর অনুরাগে।

আরবসমাজে তিনি নীতিবাদী বেশ
তাওহীদী বাণী মুখে দীল পাকসাফ
সাম্যের জয়গান-ই দূর করে দ্বেষ
অভিশাপ থেকে পেলো মানবতা মাফ।

জানতে হৃদয় চায় তাঁর পরিচয়
জাদুমণি আমেনার হাবিব খোদার
এতিম-অনাথে নবী স্নেহী অতিশয়
আনলেন সংস্কার সমাজ জুদার।

জন্মদিবসে তাঁরই শয়তান কাঁদে
শয়তান ফেলেছে যে কিছুলোক ফাঁদে।

তারিফ৪০৭১ তাং১৪১২১৬
কাঁদে বোন কার মায়?

কেনো আজ চাইবোনা হত্যার প্রতিশোধ?
বার্মায় সুচিদের নেই কেনো গতিরোধ?
জেগে উঠো ঘুমন্ত মুসলিম বিশ্বের
খাঁড়া হও পাশে গিয়ে মুজলুম নিঃস্বের।

ইসলাম ডুবন্ত এশিয়ার বার্মায়
অনুভব করে দেখো কাঁদে বোন কার মায়?
ঘরবাড়ি ছেড়ে দিয়ে জঙ্গলে বসবাস
ভাত-পানি কিছু নেই নির্জনে উপবাস।

খুন আর ধর্ষণে ছেঁয়ে গেছে আরাকন
মুসলিম নারীদের শুনে কে রে আরাধন?
নাফনদ সাগরেও সয়না যে লালখুন
বার্মায় নরপশু পিশাচের ফাল্গুন।

কই আলী,উসমান, ফারুক ও সিদ্দিক
সেনাপতি খালিদের তলোয়ার নির্ভীক?
সালাদিন আয়ুবিও জাগেনা যে কেনো আজ?
ধর্ষিত মা-বোনেরা লাগেনা যে কেনো লাজ?

তারিফ৪০৭২ তাং১৬১২১৬
বিজয়দিবসের কবিতা)
উল্লাসে-সোল্লাসে

আজকে আমার বুকহাসেগো বিজয়সুখের উল্লাসে,
আজকে আমার চোখহাসেও হৃদয়সুখের সোল্লাসে।
বিজয়সুখের ঢোল বাজিয়ে
হাসতে নাচন ফুল সাজিয়ে
আটকাবে কে আমার হাসি খাক বিজয়ের গোল্লা সে।

ধমকে দিতে পাকহানাদার বীরের জাতি পারছিলাম,
নয় পরাজয় বাঙ্গালির জয় ময়দানে কী হারছিলাম?
উড়ছে নিশান বাংলাদেশে
পুড়ছে কিষাণ হামলা?কে সে?
মাতৃভূমি এই আমাদের হামলা ঠেকাই কাড়ছিলাম।

তোমরা কিরে করছিলে না! মানব খুনে শরীর স্নান!
জয় আমাদের পক্ষে ঠিকি গেলেও বহু সশির প্রাণ।
বীরকেশী বেশ বীর বাঙ্গালি
শোণিত স্নানে শির রাঙ্গালি!
রব সহায়ক যাদের কেউ কী মারতে পারে ভবির মান।

বুড়িগঙ্গা ভৈরব এবং নাফনদে বেশ কেশ লাশের,
তিরিশলক্ষ লাশের বোঝা কেমন বইলো দেশ ত্রাসের?
শুদ্ধে হৃদয় বৈরি তাড়াই
যুদ্ধে বিজয় তৈরি ছাড়াই
সফল হলাম সৎসাহসে দেশটা সবুজ নয় মাসের।

আমরা হাসলে দেশটা হাসে হাসলে স্বদেশ আমরাও,
পাঞ্জাবিদের দেখলে আজি তোলে নিতাম চামড়াও।
দেয় বলে দেয় সূক্ষ্ম বিজয়
যাও ভুলে যাও দুঃখ কী সয়!
অনেক সুখে আমরা আছি,পায়নি তারা আমড়াও।

বিজয়সুখের উল্লাসেগো বুকে খুশির জোর জোয়ার,
অশ্রূসিক্ত দু'চোখ ভেবে হৃদয়সুখের ঘোড়সওয়ার।
ডাক দিয়ে যায় বিজয় দুপুর
কাক নিয়ে যায় নিদ্রা কী দূর!
শহিদানের আত্মা বললো দিন হলো শেষ সর নোয়ার।

আত্মা বলে শহিদানের হও না গাজি হও না বের,
বুকফুলিয়ে মুক্তবাংলায় কও না কথা কও না শের।
বিজয়গানে মন ভরে দাও
বিজয়গীতি মন ভরে গাও
আঘাত এলে আবার দেশে হও না কেনো হও না বের?

তারিফ৪০৭৩ তাং২২১২১৬
ফুলতলী সিলসিলা

নশ্বর পৃথিবীতে স্বপ্নের দর বেশ
স্বপ্নতে না ঝুঁকেন আল্লা'র দরবেশ
আল্লা'তে ইত্বাআত ওলীদের সত্য
নবীজীকে ভালবেসে পেয়েছেন তথ্য।

আল্লা'র রহস্য বুঝে কেউ বুঝেনা
সৃষ্টির তথ্যটা রাসূলের খুঁজেনা
হক্কানি ওলীগণ সত্যটা খোঁজেপান
ওলীদের দুশমন না বুঝার করে ভান।

আল্লা'র ওলীগণ ভয়ভীতি না করেন
চিন্তিত তাঁরাতো না আবরিত না মরেন
হকিকত শরিয়ত মারিফতে ইসলাম
তরিকত তাসাউফ চিনতেতো মিশলাম।

ফুলতলী সিলসিলা বিশুদ্ধ আকিদায়
নবীজীর আদর্শ মসলক কায়িদায়।

তারিফ৪০৭৪ তাং২৩১২১৬
উড়ন্ত মনপাখি

উড়ন্ত মনপাখি উড়ছেতো উড়বে,
সমীরণে ভরকরে আনন্দে ঘুরবে,
যতসব আশা তার সবকিছু পুরবে।

যায়না তো দেখা এযে পাখিটারে খুঁজেছি,
চায় না তো বেশকিছু চায় কী তা বুঝেছি,
মুকতির গান গেয়ে সব ব্যথা মুছেছি।

নির্জনে চায় বাস যেথা নেই ভেজালও
থাকতেই নির্ভয়ে চায় না সে প্যাঁচালও
সরলতা তার মাঝে সাথে করে কে চালও?

বিদ্বেষ করেনা সে কারো সাথে দ্বন্দ্বের
দূরীভূত হয়ে যাক অপবাদ মন্দের
অবসান চায় সে তো সব বদ-গন্ধের।

কী করে যে উড়বে সে বন্দিতো খাঁচাতে,
রোগ যদি পায় তাকে আসবে কে বাঁচাতে,
রব ছাড়া কেউ তারে পারেনা যে নাচাতে।

যে খাঁচাতে বন্দি সে তার সাথে সন্ধি,
খাঁচা ছেড়ে ঘুরে ফেরে তার অতি ফন্দি,
রোগহীন খাঁচা হবে ছুটে গেলে বন্দি।

তারিফ৪০৭৫ তাং২৬১২১৬
এখন কেনো রেগোনা?

বর্বরতার যুগ নয় এটি এযুগ সঠিক সভ্যতার
বোদ্ধাসুচি মধ্যে তো নেই সভ্য সুন্দর সত্যতার।
জানতাম আগে ইহুদিরা মানবতার অভিশাপ
করবে তারা রোজহাশরে কৃতকর্মের পরিতাপ।

তাদের সাথে যুক্ত হলো বৌদ্ধজাতি বার্মায়ে
ধর্ষিতারা সম্ভ্রমহারা কাঁদে দেখো কার মায়ে?
সুচির কুকুর মানুষ মারে নির্বিচারে সে দেখে!
তা দেখেও বিশ্বসমাজ এখন কেনো না রেগে?

Mahmudul Mannan Tarif10
TarifVolume10 01715357517

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ