খাদ্যের সন্ধানে
- পরিমল বর্মণ | Parimal Barman

‘'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়…
পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি…"
কিশোর কবি লিখেছিলেন একথা…
তা আজও প্রত্যক্ষ করে মানুষ…
বেদবাক্যের মতো চিরন্তর সত্যি…||

ভবঘুরে ক্ষুধাতাড়িত,নয় কোনো গদ্যে…
চুলকায় মাথা, আঁচড় কাটে নিজের পেটে…
চোখের চাহুনি বুঝিয়ে দেয় খিদের জ্বালা…
একটুকরো ঝলসানো রুটির প্রতীক্ষা…
পরনে নোংরা প্যান্ট আর গায়ে আলখাল্লা…||

এই বেশে এক পৌঢ়কে দেখা গেল স্টেশনে…
সকলেই ভাবলো পাগলের সংখ্যা বেড়েছে…
কিন্তু মানুষের ক্রমশ আগ্রহ থাকে বাড়তে…
ক্ষুধার্তের চারপাশে তখন ভিড় মানুষের…
কিন্তু কোনওদিকে খেয়াল নেই প্রৌঢ়ের…||

রেল লাইন থেকে নেওয়া পাথরের টুকরা…
তা দিয়েই লোকটি বাজালো বাজনা…
সঙ্গে বেশ কিছু গান সবার মাতালো মন…
খিদের জ্বালা নিয়ে তখন তার গানের দ্বারা…
ধীরে ধীরে রঙিন হয়ে উঠছে...রেল স্টেশন…||

অবাক বিষ্ময়ে সকলেই শুনছে গান…
এক মুঠো অন্নের জন্য পথই জীবন তাঁর…
নাম অনন্ত। বাড়ি ছিলো গঙ্গা নদীর তীরে…
গঙ্গার ভাঙ্গনে এখন ওই বাড়ির উঠোনে…
নদী তাঁর ক্ষুধা মিটায় জলের স্রোত বেঁয়ে…||

গানের ভাষায় স্পষ্ট তাঁর আবেদন…
আর কোথাও দাঁড়ায় না ছন্নছাড়া মন…
ক্ষুধার্ত খাদ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে…
এটা আজও সভ্য জগতের কাছে লজ্জা…
কখন কে করবে দয়া তখন জুটবে খাওয়া…||

দৈনন্দিন জীবনে আমরা খাবার করি নষ্ট…
ক্ষুধাতের ক্ষুধা বুঝিনা..বুঝিনা এদের কষ্ট…
ভবঘুরে আজ জীবনমুখী কথা মনে করিয়ে দিল…
খোলা আকাশের নিচে জীবনটা কেমন কখনও দেখেছ?
করো সাহায্য আমি বড় অসহায়,খুব ক্ষুধার্ত…||

হলেও সামান্য শিল্পী আর শিল্পের মর্যাদায়…
সাহায্য যে একেবারেই ওঠেনি, তা কিন্তূ নয়…
সাহায্য নিয়ে নাটুকে মঙ্গলকামনা বা নয় ঈশ্বরস্মরণ…
শুধু ধরিত্রীর বুকে সেই কবির কথা করায় স্মরণ…
এমন জীবন তুমি করিবে গঠন, মরিলে হাসিবে তুমি, কাঁদিবে ভুবন…||
ধন্যবাদ (06-11-2018)


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।