আজ ৪ চৈত্র ১৪২৫, মঙ্গলবার

বৃদ্ধ বনিতা
- রবিন - বেলা অবেলা

দুঃখিনী, তোমার দুঃখ কিসের?
আদরে সোহাগে বেড়ে ওঠা অবাধ্য সন্তানেরা
আজ তোমায় আর ভালোবাসে না!
জরাজীর্ণতায় ধুঁকে ধুঁকে কাটে দিনরাত্রি!

দুঃখ করো না, অচিরেই যাবে মরে
চোখের মেকি জলে তোমার সৎকার হবে।
কী হবে আর এই ভর্ৎসনায় বেঁচে!
জানো তো, তোমারে ভালোই বাসে না কেউ।

তোমায় ভালোবেসে যাঁরা বুকের ছাতি পেতেছে
সুপ্রসন্ন ললাটে তাঁরা অমর হয়েছে,
তোমার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য যাঁরা লড়াই লড়েছে
এতোদিনে তাঁরাও মরেছে।
আর, যারা পেয়েছে তোমায় এমনি এমনিই
তাদের কাছে আজ হয়ে আছো অবজ্ঞার পাত্রী,
অবজ্ঞায় অবহেলায় হারিয়ে যৌবনের স্ফুরণ
পৌঁছেছো আজ তুমি বন্ধ্যাত্বের কোঠায়।
আজ তুমি কারোর কাজের নও,
তোমকে নিয়ে বাড়াবাড়ি— শুধুই আদিখ্যেতা।
আজ তোমার সময় কাটে বৃদ্ধাশ্রমের জানালার পাশে
মৃত্যুর প্রহর গুনে গুনে।

যৌবনে তোমার রূপে মজে যাঁরা জীবন বাজী রাখতো,
সেই কবে পঁচে গেছে তাঁরা!
তুমি জানো তো, আজ রূপহারা তুমি,
ভাঁজ পরা চামড়ার কদর্যে ঢাকা তোমার শরীর।
কত শত ষোড়শী আজ কেড়েছে নজর!
তোমার থেকে সবাই তাই মুখ ফিরিয়ে—
কেননা, তোমার দুর্বোধ্যতা
তোমার আবেদন হীনতা
তোমার দৈন্যতা, অপূর্ণতা, আরো কত কী যে!
আজ হারিয়ে দিয়েছে তোমায় রেসে।

ধীরে ধীরে তোমার আদুরি কোলে বেড়ে উঠা
যত্তসব বহুভাষী সুধীজন
জুটেছে তোমায় ছেড়ে যাওয়ার মিছিলে—
কারণ, ওরা ওদের শিকড়ের উপলব্ধিহীন।

দুঃখ করো না মা,
আমার দুঃখিনী মা!
তবু রয়ে যাবে তুমি আমার জন্মধারিনীর প্রাণে
যেহেতু তোমাকে ছাড়া আর কাউকে জানে না সে,
তুমি রয়ে যাবে অগণিত প্রান্তিক মানু‌ষের মনে
তোমাকে ছাড়া ওঁরা আর কাউকে জানে না যে,
তোমাকে ছাড়া যাঁরা অসহায়;
ঠিক তোমারই মতো।
তাই, যতদিন রবে বেঁচে—
থেকো তাঁদের বুকে বুক আলিঙ্গনে।

আমার দুঃখিনী মা!
দুঃখ করো না আর, এও জেনে—
মৃত্যুর পর তোমার কবর হবে না
হবে পোস্ট মর্টেম,
বিলাসী বাবুরা মমি বানাবে তোমার লাশে,
জাদুঘরে রাখা হবে সেই লাশ।

ওগো, মা আমার! দুঃখিনী বাংলা ভাষা!
সইতে পারি না তোমার এ নির্বাক কান্না!

পতেঙ্গা, মঙ্গলবার
২৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ইং।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ
রবিন
১৩-০২-২০১৯ ১৩:১০

ভাষার কবিতা। পড়ার জন্য সবাইকে নিমন্ত্রণ জানাই।