সাম্প্রদায়িকতার বিভৎস রুপ
- আমিনুর রহমান (তপু রায়হান)
খুব শান্তিতে ছিলাম একসময়,
তখন কোন হিংসার প্রভেদ ছিলনা
ছিল অনাবিল শান্তির পরশ,
ছিলনা ভ্রাতৃঘাতি দ্বন্দ।
দিনের কর্মব্যস্ততা ছেড়ে চালাঘরে বসে
আপন মনে গান করতাম
সকলেই যেন কতো মায়ার
ছিল মায়ার বন্ধন।
সাতচল্লিশে সাম্পদায়িকতা শুরু হলো
হিন্দু-মুসলিম বিভক্ত হলো
কেউ অখন্ত হিন্দুস্তান,
নতুবা নয়া রাষ্ট্র পাকিস্তান।
এতকাল সবাই মিলেমিশে ছিল
হঠাৎ যেন সবার চোখ খুলে গেল,
ধর্মের দেয়ালে মুখ ধুবড়ে পড়ে
মানবতার প্রথম মৃত্যু হয়।
এরপর সর্বাত্মকবাদী নীতি এলো
কট্টরপন্থীদের শুদ্ধি অভিযান হলো
বাস্তুহারা হলো শত-কোটি নিরীহ
নিরপরাধ জনগন।
একটা মতবাদ আচ্ছন্ন করেছিল
মাদকের নেশার মতো
শত খুন আর রক্তে জ্বলা বারুদ শেষে
উপহার পেল একেকটা দেশ।
ধর্মের বাণী হলো শোষনের মন্ত্র
চারিদিকে শুধু বারুদের গন্ধ
আমার আমিকেই হত্যা করে চলে ওরা
শুধা পায় যেন অমৃতের।
সাম্রদায়িকতার বিষবাস্প ছড়িয়ে পড়ে
তাই আল্লাহর নামেই চলে
বাংলায় নিধন,মুসলিম বোন ধর্ষণ
যুদ্ধের খেলায় ছাড় পেলনা শিশুরাও।
যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় গৃহযুদ্ধ লেগেই আছে
অযোধ্যায় বাবরী মসজিদ ধ্বংস হয়,
গো-পুজারীরা জ্যান্ত মানুষ মারে-
যদি কেউ গরুর মাংশ ভক্ষণ করে।
এভাবেই নব মন্ত্রে দীক্ষিত হয়
কেউ আর মানুষ নয় এখন
পরিচয় শুধু হিন্দু -মুসলমান
ধর্মীয় বিভেদে কেউ নয় আপন।
সংযত হঠাৎ করেই উদ্ধত
বিপ্লব করে বিপ্লবীরা
মাথা চাড়া দেয় সবার
নীতি একটাই এদেশ আমাদের।
দ্বীধা-বিভক্ত সবাই,দিশেহারা
দেশ ভাগ হলো,জনগন কি পেল?
গুজরাটে লাশের স্তুপ জমা হলো
অপরাধ ছিল ওরা মুসলমান।
বুলেটে বুক ঝাঁঝরা হয়ে যায়
শোষিত-নিপিড়িত হয় জনতা
দেয়ালে ঠেকা পিঠ তাই
কেউ কারো অনুগত নয়।
এভাবেই রক্তের বন্যায় মানবতা ভেসে যায়
ইতিহাস রচিত হয় বিজয়ীদের
সাধারন জনগন বারবার নিষ্পেষিত হয়
ক্ষমতাসীনরা গোপনে কলকাঠি নাড়ায়।
(আমার এ লেখাটা সাতচল্লিশের ভারত উপমহাদেশ বিভক্তের পেক্ষাপটে হলেও সাপ্রদায়িকতার বিষবাস্প এখনো প্রতিটি জনপদে বিদ্যমান।)
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।