আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, শনিবার

সভ্যতার চাকা
- রবিন - বেলা অবেলা

আমাদের হিস্যা আমাদের দাও,
তোমাদের হিসাব তোমরা মিলাও।
কেউ পাবে কেউ পাবে না,
এমন বিভেদ হতে পারে না।

ভুলেছ কি এই বজ্রমুষ্ঠির একাত্মতা,
এই খেটে খাওয়া হাত কেবল ইমারত গড়েনি,
শুধুই সভ্যতাকে গড়ে ক্ষান্ত হয়নি
ইতিহাসও গড়েছে ঢের।
এই বুভুক্ষু চোখ শুধু চুপসে থাকেনি
রক্তচক্ষুতে চোখ রেখে প্রতিবাদও করেছে অজস্রবার।

ভুলে যেও না যেন ইতিহাসের পাতা,
আঠারো'শ ছিয়াশি সালের পয়লা মে
কিংবা উনিশ'শ একাত্তরের সুদীর্ঘ নয় মাস
রচিত হয়েছে বজ্রমুষ্ঠির একাত্নতায়।
একবিংশ শতাব্দীতেও থেমে থাকার নয়, তাও জেনো।

ভুলেছ কি এই খেটে খাওয়া মেহনতি হাত
তাড়িয়েছে বহু বুর্জোয়া ধনিক,
সাম্রাজ্যবাদের পতনে বাজালো সাম্যের সুর।
চাওয়া পাওয়ার হিসেব মিলেনি তাই
সোচ্চার আজো ভেঙে দিতে সব বৈষম্যের শ্রেণি।

ভুলে যেও না, সাধু সাবধান!
শ্রেণিহীন সমাজের দিয়েছ আশ্বাস,
রন্ধ্রে রন্ধ্রে রেখেছ তবু তার
বৈষম্যের অলিখিত বিভেদ বারতা।
আপনার স্বার্থ চরিতার্থ করে
বঞ্চনার নাগপাশে ঠকাবে শুধুই,
এমন বিভেদ হতে পারে না।

যার গায়ের অস্পৃশ্য ঘাম
শুষে নিলো তোমাদের গায়ের সুতোর বুনন,
তোমাদের ইমারত, ইট-বালু-সিমেন্ট,
সেই সব অল্পতুষ্ট তপস্বী শ্রমিকের গল্প শুনো;
হাতে হাত রেখে শক্ত বন্ধনে গড়ো
স্থিতিশীল সমাজ, অর্থনীতির শক্ত ভিত।

আমরা দিতে জানি শরীর নিংরানো তপস্যার বিন্দু,
ভরসা রেখো ক্লান্তিহীন এই ইস্পাত দৃঢ় হাতে
ঘুরিয়ে যাবো সভ্যতার চাকা অবিরাম।
বিনিময়ে শুধু নিজের জন্য, পরিজনের জন্য
দু'বেলা দু'মুঠো খাবার চাই,
মাথা গুজার এক ঠাঁই চাই।

ভুলে যেও না—
যার যা আছে প্রাপ্যতা,
দিতেই হবে তাকে তা।

পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম
১ মে, ২০১৯ ইং।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ