আতশির জীবন চরিত
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট

জন্ম বালুচরে সন্দ্বীপের এক ঘরে নামখানা আতশি ,
জন্মের পরে বাবা গিয়েছেন মরে হাতে উঠেছে বড়শি ।
যে জীবন হয়নি পুষ্ট তবু হয় নষ্ট জীবনের গতিটানে ,
জীবন বাঁচাতে তাই চলেছে সর্বদাই শিকার সন্ধানে ।
মৎস্য শিকারে মিটেনা দায় ঝিনুকও কুড়ায় সারাদিনে ,
যেটুকু হয় আহরণ হয়না নিবারণ, থাকে অভাব-ঋণে ।
জীবন জীবন করে সারাটি বছর ধরে তপ্ত দাহে ঘুরেঘুরে ,
শুভ্র কোমল ত্বক হারায়ে চকচক সবটাই দিয়েছে পুড়ে ।
কোমল চেহারা প্রকৃতির চাপে সাড়া, সারা অঙ্গে জীর্ণতা ,
তবু মুখে অস্ফুট হাসি হীনতা গ্রাসী মনে নেই সঙ্কীর্ণতা ।
কুড়ানী জীবনের ছকে আসিলে পর্যটকে বাড়ালে দু'হাত ,
হাতে থাকা ঝিনুক দিয়েই পায় সুখ, মিষ্টি তার আঁখিপাত ।
এমনি করে চলিছে যুগ ধরে, একদিন বাদলের সকালে ,
নিয়ে বিষণ্ণতা ছুঁয়ে শূন্যতা চলিছে হাঁটি স্বাভাবিক তালে ।
চলার পথে আপন ব্রতে হাঁটিয়া চলিছে জীবন্ত ঝিনুক ,
ঝিনুকের প্রশস্ততা আনিল মুগ্ধতা, দেখি তার হাসিমুখ ।
বিষণ্ণতা ভুলে হাতে নিলো তুলে চাপিয়া ধরিল সে বুকে ,
এহেন লগ্নে পর্যটক মগ্নে আসিয়া তার কাছে পড়িল ঝুঁকে ।
বেড়ে দিলো হাত ঝিনুক রহিছে তাত পর্যটক নিলো হাতে ,
ভাঙিয়া ঝিনুক মুগ্ধিত মুখ মুক্তোর দানা যে রহিছে তাতে ।
সরল মানব বলে করে নাই ছলে , দেখিয়া মুক্তোর দানা ,
উদার বুকে নিলো তারে ঝুঁকে খুশীতে সে হইল আটখানা ।
খুশীর চোটেতে পকেট হতে বাহির করিল ডলারের থলে ,
আসিল যাহা হাতে দিলো তার সাথে, দিয়ে সে গেল চলে ।
আতশি ডলার পেয়ে জোরপায়ে ফিরে আসিল সে বাড়ী ,
মায়ের হাতে দিয়ে তুলে ঢলিয়া পড়িল কোলে অবলা নারী ।
সে ডলার ভেঙে জীর্ণতা ডিঙে আজ সে কোটিপতি ,
এক আপণ হতে কর্মের ব্রতে তিন আপণের অধিপতি ।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026