কছিমুদ্দিনের জীবন চরিত
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
কাছিমপুরের কছিমুদ্দিন গাঁ ছাড়িয়া চলে যেতে চান ,
রাজশাহীর এক শাহী দূতাবাসে সাজিবেন দারোয়ান ।
গাঁয়েতে ছিল পাঁচ ক্লাশ পাশ আক্কাস নামে চৌকিদার ,
শিখিয়া লহেন সালাম স্যালুট ঘুরিয়া ঘুরিয়া পিছে তার ।
পঞ্চম তিথি পার হইলে সমাপ্ত দেখিলাম আদব সকল ,
এমন আদব শিখিলেন যে ভুলিলেন তিনি আসল নকল ।
আদবের ঠেলায় নাওয়া নিদ্রা ছাড়িয়া তিন বেলার ভাত ,
চক্ষের সামনে যাহাই দেখেন স্যালুটের তরে উঠান হাত ।
কেবা গুরুজন কেবা চামুদ্দার সময় নাই অত দেখিবার ,
শিখিয়াছেন তিনি স্যালুট করিলেই সমস্যা সকলি পার ।
সময়ের ব্যবধানে ...
দূতাবাসে চলিলেন তিনি তার দারোয়ানী কর্মের সন্ধানে ।
মহাশয় আসিলেন দিলেন স্যালুট বাদ থাকিল না চালক ,
ভোর বেলাতে স্যালুট মারিলেন আসিল যবে বুয়ার বালক ।
বালকে আসিয়া কহিল যবে জননী তাহার অসুখে কবল ,
আজিকে জননী আসিবেন না ভুগিতেছেন তিনি জ্বরে প্রবল ।
কছিমের আঁখ কপালে উঠিল পড়িলেন তিনি দ্বিধার জালে ,
উলট পালট স্যালুটের তরে চাকুরি হারায় বুঝি কোন কালে ।
করিলেন স্থির ...
যারে তারে আর স্যালুট দিয়া নত করিবেন না উন্নত শির ।
হঠাত একদিন মহাশয় বাবু বাহির হইলেন লুঙ্গি পড়িয়া ,
কছিমবাবু স্যালুট না দিয়া দাঁড়াইয়া রহিলেন ফটক ধরিয়া ।
মহাশয় বড় বিগড়ে গেলেন নয়ন করিলেন রাগেতে লাল ,
কাছেতে আসিয়া চটকান মারি ফাটাইয়া ফেলিলেন গাল ।
সেই থেকে কছিম বদলে গেলেন ধরিয়া নিজের নাক কান ,
ইঁদুর আসিয়া চিক করিলেই স্যালুটের তরে দাঁড়াইয়া জান ।
যুগান্তর কাটে ... কছিমুদ্দিন আর হয় নাই বদল ,
মহাশয় শেষে বিদায় দিলেন ভাবিয়া ভবের মূর্খ পাগল ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।