আজ ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, বুধবার

নীরবতা
- সোহরাব হোসেন - নবনীতা

আলো হয়ে যেদিন এসেছিলে এই হৃদয় পথে,
সেদিন হতে আমার পৃথিবী ছিলো জ্যোতির্ময় ঝলমলে।
যেদিন তোমায় পেয়েছিলাম আপন করে,
এক লহমায় হয়েছিল সব একাকীত্বের অবসান।
নিজ হাতে করেছিলে চোখ ধাঁধানো সব সুখের পত্তন,
সেইসব সুখেরা আলো বিলাতো রঙ-বেরঙ,
অপলক মুগ্ধ চোখে দেখে দেখে আপ্লুত হয়ে
সীমাহীন আনন্দে ভাসতাম—
এইতো জীবন! এই তার রঙ!

নীরবে যখন চলে গেলে দূরে,
আমার পৃথিবী আজ আলোহীন আঁধারে
ঢেকে গেছে ঘুটঘুটে অমানিশার নিশ্ছিদ্র চাদরে,
যেন ওখানেই থেমে আছে জীবন!
আরেকটু দীর্ঘায়িত করে দিয়ে
জগতের প্রাণহীন বেঁচে থাকার মিছিল
গহীন অন্ধকারের অতলে ক্রমেই যাচ্ছি তলিয়ে।
তোমার এই মৌনতা দিয়ে যায় বিষের ছোবল,
কষ্টের তীব্রতায় আমি নীল হয়ে রই।
ক্রমশই সং‌কোচিত হয়ে আসা দশদিক
ধেয়ে আসে চার দেয়ালের মতো—বন্দী জীবন।
নিঃসঙ্গ ছায়াপথে ছুটেছি বিরামহীন পথিক,
কেউ নেই, যেন আজ কোথাও কেউ নেই!
একা একা এইভাবে বেঁচে থাকা যায়!

এ তোমার অভিমান, নাকি সাজা!
এমনও কি থাকা যায়! ভালোবাসাহীন!
এই ব্যথা বুঝাবো কারে, প্রাণের মানুষ বিনে!
বলতে অধীর আমি, সইতে পারি না আর ভার,
মন খুলে শোনো সখি, ভেঙে এই নীরবতা
ছলছল এই চোখে চেয়ে দেখ, কতো কাতরতা!
কীভাবে কাটাই দিন, তোমার তো সহজেই অনুমেয়!
কীভাবে তবুও তোমার এই মৌনব্রত!
তুমি ছিলে যেখানে, সেখানে একজীবন খুবই কম
তুমি বিনে এইখানে মুহূর্তও লাগে মৃত্যুসম;
প্রাণহীন হয়ে যাওয়া ইহলোকে
তুমিহীন জীবনের অন্য নাম মরণ।
নীরবতা ভেঙ্গে দিয়ে আসবে বলে তুমি—
প্রতীক্ষার অসীম প্রহর গুনে গুনে হই ক্ষয়।

১৯ জুন, ২০১৯
পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ