মাজেদ আহমদ চঞ্চল, স্যার কেমন আছেন
- ইকবাল হোসেন বাল্মীকি - অদ্য পুরাণ (অপ্রকাশিত কাব্য)

(প্রিয় শিক্ষক প্রিয় বন্ধুর পদকমলে)

০১।

স্যার কেমন আছেন? কেমন আছে বাবরিচুল
আদুরে গলার কন্ঠ, কেমন আছে কবিতার খাতা।
আমি ভালো, আছি মনে পোষে ভিমরুল
এখনো শিখছি বর্নমালা রাত জেগে যথাতথা।।

স্যার কেমন আছেন? কেমন আছে ইছামতী
আসাম বাংলা সড়কের অশ্বত্থ গাছ, কবির কলম
আমি ভালো আছি, এম ওয়ানে খেলি ভানুমতী
বড্ড ভালবেসেছিলেম বরবক্র নদ, তাই দায় কম।।

স্যার কেমন আছেন? কেমন আছে জকিগঞ্জ
করিমগঞ্জের সাথে সাকুর সিমান্তিক স্বপন, যুক্ত স্বদেশ
আমি ভালো আছি,দাঁতে চেপে ইস্পাতের খঞ্জ
অভিন্ন মন খাচায় পুষে নীল কালো সাদা বর্নালি বেশ।।

স্যার কেমন আছেন? কেমন আছে আল-এমদাদ
বার্ষিক খেলা, স্কাউট, বিকালের নদী, ডরের বাতাস
আমি ভালো আছি, টেমসের জলে প্রবেশ নিষেধ
বউ-বাচ্চাদের দিচ্ছি হাঁড়ের জল,ভালই চলচে অভিবাস।।

স্যার কেমন আছেন? কেমন আছে কবিতার মন
রবিন্দ্রনাথের গান, রাধারমন, শিতালংসাহ ফকিরে কিছা
আমি ভালো আছি, গ্রানাইট পাথরে হাছনের ধন
কস্মোপলিটনে গেরুয়া নিয়েছি, জানিনা কতখানি হাছা-মিছা।

02.
আমি কি চাই বুঝেছিল বনের দৈরল দন-কলসের পাতায় মুখ ডেকে
আমি তার গোস্ত পুড়াই হরিনির হৃদয় থেকে চোঁরাই রক্তের কাঠ কয়লায়।
তাই ডাক আসে পোস মাসে- আরশে মোয়াল্লার নীচে কবিতার দরবার
গ্রিক পুরাণ থেকে শব গুলো জেগে উঠে, রাজার করুন মূর্তি কবির জয়কার।
হঠাত তিনি আমায় প্রশ্ন পুঁছেন? স্বর্গে রসূন খেকোদের প্রবেশ নিষেধ
কারন তারা হত্যার পরেও হত্যাকাণ্ডকে মজা করে ভোগ করেছিল।
নিরামিষ ভোগী যোগিদের কাটা মস্তক তার পাতে তখন কথাবলে।

‘সোমা জায়গীরদার’ আমার প্রজাতি, হেরা গুহায় অন্ধকার ছিন্ন করে
আমারা এসেছি কাবিলের বস্তিতে। আমারা কি ভাই বোন। মানব মাকড়?
ফুটায় ফুটায় আমাদের সুধা যাদের বিলাচ্ছি -
তারাও আমাদের কাটা নাড়ি লটকে দিয়েছে উদ্ভিদ বিদ্যার মৃত বাগানে।

‘মাজেদ আহমদের’ ফোটন কনা চঞ্চল।তকদিরের বস্তনিতে লেখা ছিল কবি
ব্রাহ্মণ হয়েছেন নিজ গুনে। নবদ্বীপ থেকে দূতি সেলাই হয়ে আসেনা আজকাল
গুরু শিস্য হয়ে আমারা বিচ্ছিন্ন হয়েছিলাম মহাবিস্ফোরণের পরে
গুঢ় আঁধার আমাদের অভিন্ন পিতা। কালিডর কালীগঞ্জ আমাদের বৃন্ধাবন।

০৩।

যে ব্রত অবিরত কষ্টের কাসুলী হয়ে হৃদপিণ্ড চেপে আছে
যে হাসি সূতপুত্রের বুকে অজস্র আকাশের অভিমানের মেঘ
তারে দণ্ড দিতে খোলা বুকে দাঁড়ায় বালিকার তোলার শরীর
অনলের তীর ছুড়ে বুজাতে আগুন। শুধু আর্তনাদ জলদেবতায়।

শরীর ঘাটের মরা, মনের বোরকা খসিয়েছি মন্ত্রণা পেয়ে
তাই সূতপুত্রের বাণ রক্তাত করে রাজা সান্তনোর রাজছত্র
অঙ্গরাজ আমি অর্জুন কে দিয়েছি রাজপথ। বিজয়ী ভবাঃ
সত্য জয়যুক্ত হলে আমার রক্ত জলেস্থলে প্রবাহিত হোক।

08।
স্যার, রক্ত নালীতে মাইক্রো ডিভাইস ভরে দিয়েছিলে, মনে আছে?
তা’তে জেনমের সারকথা লিখা।সাবালক নিয়ন্ত্রন করে নভ গুলো
মুচড়ে দিতে পারি আলোর সরল রেখা স্থান-কাল বিধি সব কিছু
আকাশে উড়ন্ত ক্রৌঞ্চ শিকারির গন্ধ নেই তবুও মোর বাল্মিকি নাম।


স্যার সত্যযুগ আবার ফিরেছে দুধেলা ছায়াপথের পৃথিবী পাথরে
নদীর নহর নুপুর পরেছে কৈলাস বনে। শৃঙ্গ নয় স্ফুলিঙ্গ তারা
হোমোসপিনেন্স ক্রমশ দাঁড়াতে জানে বলে দাঁড় বায় তমালের ডালে
আত্মভোলা কিশোরের বুকে লোম, লোমকূপে ‘মেস্কে আম্বর’।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।