হে বনী ইসরাইল।
- ইকবাল হোসেন বাল্মীকি - অদ্য পুরাণ (অপ্রকাশিত কাব্য)
হে বনী ইসরাইল-
শপত, তূর, সিনাই আর গোলান এবং ত্বীন ও জৈতুনেরঃ
আমি তোমাদের উদ্দার কারি মোসা বলছি
তোমরা বকনা বাছুরের পুজা করোনা আর
আর সারা দুনিয়ায় সূদের দোকান খোলে বসোনা।
সুদ তোমাদের জন্য হারাম করা হল
কারণ সুদ ক্রিতদাস প্রথা ফিরিয়ে আনে
তোমরা এক দিন ক্রিতদাস ছিলে ফেরাউনের দেশে
সেই কথা যেন ইতিহাস ভুলে যায়
ভুলে যায় তোমাদের নারীরা ছিল বান্দির মতো রাজার হেরেমে।
বখনা বাছুরের মাংস খেতে পারো
কারণ তোমা্রা ক্ষুধার্ত হলে বাঘিনির মতো বাচ্চা খেয়ে ফেলতে
তাই তোমাদের খাদ্যাব্যাস মানবিক করার জন্য, পুশু সাবক খেতে দিলাম।
হে বনী ইসরাইল-
শপত, স্বচ্ছ প্রবিত্র কুয়ার, আন্দোলিত মজমার, খোদাই করা পাথরেরঃ
আমি তোমাদের অন্য বিবলিকান দের থেকে আলাদা করে দিলাম
তোমাদের প্রতিশ্রুত ভুমির ফাঁদে আটকে দিলাম, কেননা-
তোমরা মহামারীর মতো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়োনা
তোমরা যেখানেই যাবে সেখানে শান্তির নামে মহা যুদ্ধ বেজে উঠবে
তোমাদের জারজ জীবাণু থেকে হিটলারের গোত্রর মতো বনি আদমের উত্থান হবে।
হে বনী ইসরাইল-
শপত, মহান ইহাহুদের, প্রবিত্র কিতাব সমূহের, এবং বালাদ পর্বতেরঃ
আদি পুস্তকের দ্বাদশ আদেশ আরেকটি বার উল্টো করে অধ্যয়ন করো-
তোমরা চোর ছিলে তাই চুরি থেকে বারন থাকতে বলেছিলাম
তোমার এখন তোমাদের আশ্রয় দাতাদের ভুমি চুরি করছো হালাল বলে।
তোমাদের ব্যভিচার থেকে নিবারন করেছিলাম
তোমরা তোমাদের নারীকে বিক্রি করে দিতে অপমানের ভয়ে
আর পরনারীর প্রতি ছিল তোমাদের লিক লিকে লাল জিহ্বা।
এইতো সে দিন তোমাদের মেয়েদের বেশ্যা বানিয়েছে জার্মান বুলডগ
আর এখন তোমাদের মেয়েরা ‘মুসাদ’ নামক স্পাই হয়ে সেই আদি পেশায় নিয়োজিত।
এমন কি অতিব নিম্ম শ্রেনীর ধনকুবের মরু রাজাদের মিসেস হয়ে খবর পাচারে লিপ্ত।
তোমরা বরাবরই ভ্রাত্রী ঘাতক ছিলে
তাই তোমাদের অস্তিনে লোকানো থাকতো চাকু ও ড্যাগার
এখন যেমন লোকিয়ে রেখেছ এটম- নিউট্রন- হাইড়্রোজেন বোমা।
ভাই হত্যার মতো অপরাধ কে ছেলেখেলা ভাবতে বলেই
বার্লিনের রাস্তায় তোমাদের করোটি নিয়ে ফুটবল খেলা হতো।
হে বনী ইসরাইল-
শপত এই রাত ও দিনের মধ্যকার দেয়ালের, সীরাতের, ঐশী নুরেরঃ
আমি কি বলি নাই-
হত্য করোনা মানুষ
স্বজাতির ঘাতক হয়োনা
বোবা প্রাণী কিংবা বিশাক্ত সরীসৃপ নিজে
খুন করেনা আপন জ্ঞাতি কে। তুমারা তাই করলে?
আমার খোদা কি তোমাদের মাঝে অজস্র জ্ঞানি ও গুণীর জন্ম দেন নাই?
তিনি কি তোমাদের শ্রেষ্টতম বিদ্যাপিঠের মালিকানা দান করেন নাই?
তোমাদের মাঝে থেকে প্রথম সাম্যের বৈজ্ঞানিক দাওয়াত উঠিয়েছেন তিনি-ই,
তোমরা তার অপমান করলে?
তোমাদের মাঝে থেকে তিনি ব্রহ্মার আণবিক সুত্র বাতানে ওয়ালা পয়দা দিলেন
তোমরা তার যতার্থ মুল্যায়ন করতে পারনি?
সে কি তোমাদের বলে নাই আমি কেবল ইহুদির নই সমগ্র জাহানের বার্তা বাহক
সে কি তোমাদের বলে নাই অর্তডক্স ধর্ম সমগ্র মানবাতার অভিশাপ।
সে কি তোমাদের বলে নাই ঈশ্বর একজন হলে চলে, জনে জনে ঈশ্বর নিষ্প্রয়োজন।
তোমরা জ্ঞানের বনিক, জ্ঞানের পূজারি নও
তোমরা মুল মন্ত্র জেনেও মুনাফিকির মধ্যে লিপ্ত রয়েছ
তোমরা ইতিহাসের চক্র জেনেও, ইতিহাসের সুত্র বদলাতে চাও
তোমর জানো যুদ্ধ মস্কিলের উদ্দার নয় বরং ঘৃতে অগ্নি সঞ্চালন
তোমরা জানো ধর্মের অন্তঃসার শূন্যতা তবুও ধর্মের জিকিরে দুনিয়া কাঁপাচ্ছ
তোমরা শান্তির মহার্গ বোঝেও অশান্তির দাবানল কেনো জ্বালাচ্ছ দ্বিকি দ্বিকি।
আমি কি তোমাদের বলি নাই – পরধন , পরনারী লিপ্সা থেকে বিরত থাকতে
আজ তোমরা কার ধনে হাত দাওনি? অসহায় শিশু হাসপাতালও তোমাদের দখলে
তোমার লুঠে নিচ্ছ-
--------মোদির দোকান সুপার মার্কেটের নামে
----------পান শালা, পণ্যের নিয়ন্ত্রন, সিন্ডিকেইটের নামে
----------- শ্রমিকের হাড়, শিল্প কারখানা মুক্ত বাজারের নামে
------------কষ্টের সঞ্চয়, স্পতাহিক ওয়াজিস, ব্যাংক বাঁচানোর নামে
-------------শেয়ার বাজার, জীবনের বীমা, হোল্ডিং কোম্পানীর নামে
--------------সমগ্র দুনিয়ায় , পুজিবাদ নামক বিভ্রান্তির নামে
--------------স্বাধীন রাষ্ট্র, সরকার, বিশ্ব ব্যাংক নামক লুটেরার নামে
মনে রেখো তোমাদের বার বার ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে বললেও তোমরা শেখনি
জালিয়াতি তোমাদের রক্তে মিশে গেছে। এই রক্ত বিশোধনের জন্য কেও যদি
------আরকে টা দ্বিতীয় মহা যুদ্ধের বিভীষিকা নিয়ে আসে
------ আরেক টা মাইন কেম্পের মতো কিতাব কে দাবী করে আসমানী
---------আরক টা ‘বনি খুরাইজার’ মতো যুদ্ধের ডাক দিয়ে রক্তে নদী ভাসায়
তবে আমি তাদের পক্ষে ওকিল পাঠাবো
জ্যানেভা কনভেনশান বা আদালতের দুহাই দিয়ে পার পাবে না ।
কারণ তোমরা গনহত্যার সুচনা কারি। তোমরাই প্রথম বুলেট ছুড়েছ।
হে বনী ইসরাইল-
শপত, ভোরের সূর্য উদয়ের, অসীম দিগন্ত আর নক্ষত্র সমুহেরঃ
তোমরা দেশ চেয়েছিলে, দেশ দিয়েছিলাম যেমন কেনান
তোমরা দেশ চাইলে আবার , দিলাম আবার সেই কেনান
অতচঃ কেনো মাতৃভুমি থেকে বারবার বিতাড়িত হও ভেবেছ?
তোমর যখন শক্তিহীন তখন কুকুরের চাইতেও বেশি প্রভু ভক্ত
তোমরা যখন শক্তিমান তখন আজরাইল তোমাদের দেখলে ভয় পান।
তোমরা মিশরের কারাঘারে ছিল ছাগ সাবকের মতো শান্তিময় করুনা কাঙ্গাল
অতচ মুক্তি পেয়ে-ই পৃথিবীর প্রথম গনহত্যার গজব নিরিহ কেনানিদের উপর চাপালে?
তোমরা ফুরারের গ্যাস চেম্বারে ঢুকার সময় পৃথিবীর সব মানুষের কাছে অশ্রু জামা রাখতে
অতচ এই তোমরা-ই গ্যাস চেম্বার খুলে বসেছে তাদের জন্য যারা চল্লিশ বছর ধরে গৃহহীন
তোমরা দেড় হাজার বছর যাযাবরের মতো ঘুরেছ দেশ থেকে দেশান্তরে , একটু আশ্রয়ের আশায়
অতচ আজ তোমারা এক নিমিশে আশ্রয়হীন করে দিচ্ছ দুধের শিশু, ইয়াতিম, আর বাস্তুহারাদের।
হে বনী ইসরাইল-
শপত অস্থমিত বিকালের, ষাট লাক্ষ্য নিহত স্বজনের, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছায়ারঃ
ঘৃণা নিয়ে অনেক খেল তামাশা রক্ত পাশা খেলে, কি পেয়েছ এক মাত্র ঘৃণা ছাড়া?
একটি বার প্রেম পেটরা খুলে বেসাতী বসাও, দেখ এই দুনিয়াটা কেবল অপ্রেমের নয়
তোমরা আজবধি যা বিশ্বাস করে এসেছ তা ভুল এবং এক বিশাল আত্মপ্রভঞ্চনা মাত্র ।
৩১/০৭/১৪। (খসড়া)। বাল্মীকি লন্ডন
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।