দুই কবিরাজের গল্প।
- ইকবাল হোসেন বাল্মীকি - ঝং ধরা ডায়েরীতে মিথ্যা গোলাপ। (অপ্রকাশিত কাব্য।)

অনেক কিছু তো শুনলেন
এবার এক কবিরাজের গল্প শুনন
একজন নয় কবিরাজ দুজন।

তাদের গ্রামে আসছে-
পানি বাহিত মরিকী কলেরা
বাতাস বাহিত মরকী কালাজ্বর
স্থল বাহিত মরকী গুটি বসন্ত।
এসব যৌত আক্রমানে সবাই পাগল হয়ে যাবে।

এ সব আক্রমণের পর গ্রাম শহর হয়ে যাবে
নদী কে ছাঁকনের জন্য বসানো হবে ওয়াপদা
বাতাস কে বিশোধনের জন্য এসিড রেইন
আর মাটির মর্দামির উপর রেলপথ সড়ক মহাসড়ক।

তখন তাঁরা গ্রামবাসীকে বলল-
মোড়ক আসছে সবাই এক পুরিয়া কবিতা খেয়ে নাও
নতুবা দেশ শুদ্ধা সাবাই ছাগল হয়ে যাবে
ইউরিনাম খাবে, ইউরিয়া খাবে, ম্যালামাইন খাবে—ইত্যাদি।

গ্রামের মানুষ তো
স্বনির্ভর সম্রাট বরারব-ই
ইয়া ইয়া বুজালী হাতে
কবিরাজদের কে বলল-
চুপ, একদম চুপ, ফালতু বাত।

কবিরাজ দুজন মনের দুঃখে
দুজন দুজন কে কবিতা শোনাল
আর আরোগ্য বটিকা খেয়ে ঘোমাতে গেল।

পরের দিন তাঁরা ঘুম থেকে জাগে
বাসের হর্নে, ট্রাকের বেপুর শব্দে, ট্রেনের হুইশেলে
বুকের উপর চেপে ধরা সিটি কর্পোরেশনের ‘বিল’।
এবং বন্দুক হাতে যারা বুজালী নিয়ে তাড়া করে ছিল।

তাঁরা বলতে লাগল-
এই মহা গুটিবসন্তের গ্রামে কেমন গুপিটি মেরে থাকা নিরাপত্তা
এই মহা উদরাময়ের গ্রামে কি উদার জীবন, গনতান্ত্রিকতা
এই মহা জ্বরাগ্রস্থ গ্রামে সব কিছুই ক্রয় ক্ষ্মমতার ভিতরে।

তাঁর আরো বলল-
এই তোমরা কবিরাজ একজন কে ছাগলের মতো
আর অপর জন কে ঠিক পাগলের মতো লাগাছে।
এখন মুক্ত স্বাধীন নাগরিক অধিকার চাইলে খাও
আমাদের তৈরী বটীকা, নতুবা সোজা পাবনায়।

কবিরাজ ভাবলেন ‘জানে বাঁচলে বাপের নাম’
সুতরাং তাঁরা যতাক্রমে -
ইউরোনিয়াম ফসপেট খেলেন
কার্বন মনোক্সাইড শুকলেন
ফরমানিল অক্সাইড পরান জোড়ালেন
লিড অক্সাইড ফুসফুসে ভরলেন অম্লজান রূপে।

এর পর একজন আরেক জন কে জিজ্ঞাসা করেন
এ্যাই তুই পাগলের মতো না ছাগলের মতো
এ্যাই তুই বেড়ার মতো না বখরির মতো
এ্যাই তুই গাঁদার মতো না গরুর মতো
এ্যাই তুকি শেয়ালের মতো না শকুনের মতো।

তখন গ্রাম তথা নগরবাসি আরশি এনে ধরেন তাদের সম্মুখে
তখন তাঁরা যমালয়ের দিকে দৌড় শুরু করেন, এখনো দৈড়াচ্ছেন।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026