এ আজব নশ্বরতা, শুনিতে কি পাও
- ইকবাল হোসেন বাল্মীকি - অদ্য পুরাণ (অপ্রকাশিত কাব্য)

লক্ষ ফারেন হাইট তপ্ত আগুনে চুবিয়ে
বানানো কৃপানের গায়ে ছিদ্র বড় হচ্ছে ক্রমশ
উকি দিচ্ছে সুণিতে রক্তঘন, মেরুদণ্ড ক্ষয় ইত্যাদি
ডাক্তার বলেছেন কর্মকারের কাছে আবার যেতে
নার্স ব্যর্থ জনন দণ্ড উত্তলনের নিয়ম মাফিক প্রক্রিয়ায়
মেদ জমে উঠছে জানালার শিকে, বৃষ্টিতে।

গোপন গোপাঙ্গনা মনে করছেন-
যে কোনো একাদশির সন্ধায় আমায় শাকান্ন ভুক্ত করবেন
এমন নিরহি হচ্ছে ইদানিংকার চাল চলন
সে দিন এক কুমারী আমার কুলে বসেছিল, পূর্ণ যুবতি।
কেমন যেন পিতৃস্নেহের পাথর আহত হল।
ডুকরে কেঁদে উঠে কৃপানের সুচাগ্র, বোধহীন মায়ায়
বাঞ্চিত নিয়েমে প্রবেশ করছে দেখে নিয়ম ভাঙ্গার দিন।

তপ্ত দিন, চুল উড়া হাওয়া, তাসের মোনাজাত
কিছু হিরের টুকরো হারিয়ে ফেলার মতো বিলাসিতা
এখন খুব বেশি ঝুকি পূর্ণ,
স্পিরিটের বোতলে এলকোহলের মাত্রা কমে যাচ্ছে দিন দিন
পঞ্চাশ দিয়ে শুরু করেছিলাম, এখন ত্রিশের নিচে।
হাসপাতালে বৃহদন্ত্রের পরীক্ষা করতে গিয়ে যৌনাঙ্গের পরীক্ষা দিয়েছি
ডাক্তারী পেশা এত ভাবলেশ কেন, রোবট মহিলা ডাক্তার।
না কি আমাকে দেখে তার আর গলে যাওয়ার মতো
মম হাতে নেই, গির্জায় রবিবার টাঙ্গানো হচ্ছে
আমার কাছে কিছু অবশিষ্ট নেই, তাঁর পান পাতায় অনাগ্রহ
তিনি ঘুমের বড়ি গিলে ডিউটিতে আসেন।

দুঃখ করোনা, দুঃখবাদ আমাকে শাসায়।
এ ক্ষনস্থায়ীত্ব আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারিনা।
কোষ বিভাজন বন্ধ করার জন্য কৌশল জানতে গিয়ে দেখি মর্কট
আরো দ্রুত, আমাকে তাড়াচ্ছে ভাগাড়ের দিকে।
এত সুন্দর সব কিছু ছেড়ে যেতে ইচ্ছা করে না। ইচ্ছা করে না।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।