পদ্মার বুকে নিমজ্জিত জলযান রহস্য
- ইকবাল হোসেন বাল্মীকি - অদ্য পুরাণ (অপ্রকাশিত কাব্য)

মা বলেছিল-
--পুতরে, ইলিশ কি আর মরেনা পদ্মায়
----বউয়ের চোখ বলে এক খানা রেশমি শাড়ির শখ
-----মেয়েটা দৌড়ের পায়ে এক গাছি সোনার নুপুর
-------বোন টা কি উদ্ভুদ মায়াবতী,চায় গজমতির বালা ।

তিনশত পঞ্চাশতম লাশ টি খুব অপরিচিত
সে আমার লাশ- আমি এইমাত্র মৃত্যুপুরি থেকে
মিনিট ত্রিশেকের ছুটি নিয়ে এলাম
শোনাতে লঞ্চ ডুবির আসল কাহিনী।

রেদোয়ান ফেরেশতার হাতে গজিয়ে দিয়েছি
বঙ্গবন্ধুর ছবি সহ এক হাজার টাকার নোট
তিনি উৎকোচ নিতে এদিক ওদিক করছিলেন
কারণ টাকা নয় ছবিটা তাঁর ভয়ের কারণ।

এই টাকা টা নিয়ে তিনি যদি ধরাখান
তবে স্বর্গে তুলকালাম কাণ্ড বেঁধে যাবে
জাতীর জনকের ছবি নিয়ে ঘোষের লেন দেন
তাও কি না লঞ্চ ডুবির মতো বেহুদা ইস্যুতে।

তাই তিনি বললেন-
অন্য কোনো ছবি অন্য কোনো নোট দাও
ধর হাজি দানেশ, কমরেড মনি সিং
ধর রাশমনি হাজং, চারু মজুমদার ।
ভাবি গোমরাহ গুলো স্বর্গে এল কি করে?

বলাম ভাই-
আমাকে মাত্র ত্রিশ মিনিটের ছুটি দিন
আমি দেশের মানুষদের আসল খবর দিয়ে আসি
লঞ্চ ডুবির সময় পকেটে ছিল টাকশালের ছাপা
সদ্য একখান কড়কড়ে হাজারি নোট। আর---

ফেরশতার ধর্যচ্যুতি ঘটে, ঘাড় ধাক্কা দিলেন
আর চীৎকার করে বললেন-
যা বেটা যা বলে আয়, তুই লঞ্চ ডুবিয়েছিস।
এক হাজার টাকা দিয়ে একটা পদ্মার ইলিস
এক হাজার টাকা দিয়ে একটা কনক নুলক
এক হাজার টাকা দিয়ে একটা রেশমি শাড়ি
এক হাজার টাকা দিয়ে একগাছি গজমতি চুড়ি
কিনতে পারবিনে বলে জলে সমাধি চেয়েছিলে
তোর পায়ের টেলায় লঞ্চ কাঁত হেয়ে ডুবে গেছে।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।