প্রিয় কবি ও প্রিয়তম শহরের গণিকা বৃন্ধ।
- ইকবাল হোসেন বাল্মীকি - অদ্য পুরাণ (অপ্রকাশিত কাব্য)
রাত নিরব হলেও রাস্থা নির্জন হতে দেরি দেখে
আমি গলিপথ দিয়ে শহরে প্রবেশের চেষ্টা চালাই
আমি হেটে যাচ্ছি আমার প্রিয়তম শহরের দিকে
বাম পাশে প্রিয় কবির চিন্তাসূত্র, মাটির সাথে মল্লযুদ্ধে তুমুল ভাবে পরাজিত
সামনে ইতিহাসের নদী- রূপালি খনিজে মাছ গুলো গড়িয়ে গড়িয়ে সাঁতরায়
কেউ অলৌকিক ভাবে বেঁচে আছে কিং ব্রিজ দেখেছে তাঁর যৌবন, এমন পক্ত।
আমার বাম পাশে গোরস্থানের কয়েজন ফরিস্তা বন্ধী দশায় মজনুন
একটা ট্রায়ারের দোকান, পুরাতন কলকব্জা, হাসি ধুলো নিয়ে বসে আছে
একটা নর্দমায় খেলা করছে কয়েকটি হালাল শোঁকর, দাঁতাল বন মাছি
একটা বৃক্ষ ছিল এই খানে,মিউনিসিপালটির আরাকসি কমিশনারের ‘ফাত্তি’ হয়েছে।
আমার পথ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে না কেনো ধোসর চাঁদ
আমি আমার মমি টাকে খুব যত্নকরে কাদে বহন করে চলেছি।
প্রিয় কবি মমি হতে চায়নি, তাই জৈব সার হয়ে আমার সাথে হাটছে।
স্বর্গ পায়নি বলে ফিরে এসেছে তাঁর পরিত্যক্ত প্রেমিকার কাছে
প্রেমিকার পায়ের ধূলতে, তালুতে, হাহাকারের নিচে তাঁর বসবাস
তাঁর সেই প্রেমিকা আজ শহরের নাম করা গণিকা, খুঁটে রাজা মহারাজা।
কবি শহরের টাণ্ডা দেহ থেকে চোখ দুটো কেনো পেতে চায়
অনাথ, নিষঙ্গ, কর্কস কাকের মতো শ্বেতকায় অক্ষিগোল দুটি
কবির অস্তিনে কি তবে লোকানো আছে হিরক আলপিন
নগর পাল জানলে খবর আছে। কবির বিধবা তাঁর রক্ষিতা।
কি করছে কবির প্রিয়তমা, আয়ফল না বাতাবি লেবু তাঁর বুকে
না লাউ লটকে আছে। এ নগর জানি এখন খবই রঙ্গিলা হয়েছে।
এই শহরে আজ কোনো প্রেমিকা আসেনা শুধু রাজশ্রী স্ত্রীদের মেলা বসে
স্ত্রী গুলো দরদামে বেজায় সিদ্ধ হস্ত। দোকানির মুখে চুনকালি মাখায়।
সাথে নিয়ে ঘোরে লতা বেগুনের মতো উস্তাদ তরুনী। কুমারী, বহুগামি।
কবি প্রায়-ই বলে তাঁর সিনার হাড় দিয়ে বনভোজন বসে, রেস্টহাউসে
খাসির রান আর মেয়েদের রান,রাত, বিদেশি মদ জমে উঠে বেশ খাসা জলসা
নিপুন খসাই ছিল বলেই পাঁজরের কয়েকটা হাড় এখনো কথা বলতে পারে।
তাদের ডানে সার্কিট হাউস, লোহার থাম গুলো চোরি করেছেন পৌর প্রশাসক।
আমি নিষেধ করা সত্তেও আমার কবি একে একে সবাই কে প্রশ্ন করে
--কে রাঁধে আমার পাঁজর দিয়ে আলকাতরার সুপ, পলিথিনের গান্দা সুরুয়া
--কে কতো দাম দিয়ে কলার কৌলিন্য কিনে, একটা যাদুঘর নেই।গৌড়েশ্বর রাজা।
--কে তবে রাজত্ব করে পুলিশ ফাঁড়িতে, রাধারমণ, শিতাংশাহ ফকির নাকি বল্মিকি।
কবিকে অনুসরণ করে একদল ভিখারী যারা কবির সাথে মরেছিল আমলকির বিষে।
কয়েক হাজার কোটি পলিথিনের ব্যাগ আর লাল নীল সাদা স্কার্ফ, সাপের চামড়া
এক দল অদৃশ্য দুঃস্বপ্ন নাগরিক বিঁধান, জলচকি, লাটি সড়কি, পাঠান নকর,খোঁজা বাঁদি।
আমার কবি উভয়-কামী ছিল।বালক বালিকা সাবাই তাকে অনুসরণ করে, নতমুখে।
কবির সাথে আমার মুখামুখি সংঘর্ষে
-নিহত হয় প্রথম শহীদ মিনার, মিনারাইয়ের টিলায়
-আহত প্রাচীন রাজা রাজকোষ নিয়ে পালায়, বটেস্বরের দিকে হটেস্বর
-খোঁজার গ্রাম না খোঁজার খলা মানে কি, দিল্লি হেরেমের চালান এখান থেকে যেতো।
-কবির খুসি কে দেখ! যখন সে জানতে পারে তাঁর দেবতা ও দরবেশ ছিলেন সুশীল সমকামী।
ইদানিং আমার শহরেরও উচ্চ রক্ত চাপ
যে কোনো সময় গল গল করে নাক মুখ দিয়ে রক্ত বেরয়
পাঠান মোগল ইংরেজ সাবাই এখানে গোলটেবিলে বসে রংগের পাশা খেলেছে
আমার শহর দর্শনে সাবালক হয়েও রাজনীতির কাছে বারবার পরাজিত। কেনো?
এ শহরের সতী সহমরণে পুড়ে আর বিদেশি বেশ্যারা জিতে নিলো মনি মানিক্য, কেনো?
আমার কবি উদ্ভাস্তুর মতো খেত খেত করে হাসে।
সে একদিন বিসাল বিসাল বর্ষার গাছ রূপণ করেছিল বলে হাসে
শিরিস শিমুল জাম জারুল নাগেশ্বর ছাতিম রূপণ করেছিল বলে হাসে
রজকিনি নিয়ে রাত ভর নাও দৌড়িয়েছিল বলে হাসে আর বলে হায়রে শহর!
সিলিকনের দরজা জানালার উঁচা গ্যাস ভবনের নিচে রজকিনির বিল খিল খিল করে হাসে।
রাত গভীর রাস্থা নির্জন। আমি আমার কবির কাব্যগ্রহ্ন বের করি কবিতার ঝুলা থেকে।
কালো সাদা লোম উঠা লোম ছাড়া বিড়াল আর পেঁচার চোখে আলো, ল্যাম্পপৌস্ট নিবাই।
রূপালী ক্ষিররের নদী পার হয়ে, দরজায় কড়া নাড়ী, কবির হারানো নারী উলুধ্বনি তুলে।
সমস্ত শহর বাড়িঘর নিষঙ্গ হলে কবির নারী মাসারির টাঙ্গায়,আমি পাঠ করি গণিকা মঙ্গল।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 1টি মন্তব্য এসেছে।
১৫-০২-২০১৫ ০৫:৫২ মিঃ
কবি শহরের টাণ্ডা দেহ থেকে চোখ দুটো কেনো পেতে চায়
অনাথ, নিষঙ্গ, কর্কস কাকের মতো শ্বেতকায় অক্ষিগোল দুটি
কবির অস্তিনে কি তবে লোকানো আছে হিরক আলপিন
নগর পাল জানলে খবর আছে। কবির বিধবা তাঁর রক্ষিতা।
♦ প্রিয় কবিতাদের একটি হয়ে থাকল।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।