হতচ্ছাড়া
- এ কে সরকার শাওন - আপন-ছায়া

রান্নার স্বাদ বিস্বাদ বিবাদে
মাকে জ্বালিয়েছি বহু আগে!
কিশোর বয়সে বাসন কোসন
ভেঙ্গে চুরমার করেছি রাগে!

"হতচ্ছাড়া-পাজি-পাষাণ" বলে
লাঠি হাতে মা এসেছিলেন তেড়ে!
ততক্ষণে প্রাণ বাঁচাতে ভৌ দৌড়ে
জগলু তিন রাস্তার মোড়ে!

যখনই নীজেকে শেঠ ভাবছে,
ভাবছে কে আর পায় তারে!
সেই কুলক্ষণে দাড়িয়ে পিছনে
তারে থাবা দিয়ে ঘাড়ে ধরে!

সে ছিলো ভাই হাফ ডাক্তার
সোনার ছেলে, মায়ের সেনাপতি!
রংপুর ঝালকাঠি গোপালপুরে
অপ্রতিরোধ্য তার ক্ষিপ্র গতি!

মায়ের হাতের চড়-থাপ্পড়
আজো কানে বাঝে বেশ!
তাঁর সব স্মৃতি মনে ভাস্বর
সবখানেই আছে তার রেশ!

সে সব চার দশকের বাসী কথা
মা বাবা বরযাখী হয়েছেন কবে!
জগলু তথৈবচ বাঁকাই আছে
আজো নিরবে সরবে গরবে!

হোম কোয়ারেন্টাইনে গিন্নির রান্নায়
করেছিনু স্বাদ নিয়ে তালবাহানা!
ছোট্ট মা বলে, "ঢ়ের স্বাদ হয়েছে,
এবার খেয়ে ফেলো সোনা!"

করেছে অনশন অভুক্ত বিলক্ষণ,
মুখ ভার করে বসে চুপচাপ!
"পারো তো ভাল পাকিয়ে দেখাও
দেখি কেমন রান্না করো বাপ!

যাওনা বাপু, শুধু দু'মুঠো ভাত
রান্না করে আনো দেখি তুমি!
তবেই বুঝবো তুমি বেশ গুনি,
দেখাও বৎস, ছাড়ো গোয়ার্তুমি!"

বাবা বুঝিয়ে বলে, "শোন জগলু,
আমরা বেশ কর্মপটু, লোকে বলে!
পারবো না বলিনি কোন কালে
করে দেখা যদি হস আমার ছেলে!"

গায়ে পেল বল বাড়লো মনোবল
অমর খিচুড়ি করিবেই সে রান্না!
খিচুড়ির স্বাদে ঘ্রাণে আধমরা হবে
"আরো চাই" বলে লোকে করবে কান্না!

চুলা-চাল-ডাল-মসলা-ঝাল
সব নিয়ে রান্নায় আয়োজন!
রান্না বান্নায় এত কিছু লাগে
এত কিছুর হয় প্রয়োজন!

নহে শখ, নহে অভিনয়;
চাল ডালে খিচুড়ী পাকাই!
ধোয়ায় চোখ করে থৈ থৈ,
শূণ্য জঠর করে খাই খাই!

সরল সহজ অকপট প্রকাশ
স্বীয় কাজ স্বহস্তে সাধন!
প্রারম্ভটা যদিও কষ্টের
সফলতায় নাচে তনুমন !

সহজ সরল মেহনতি মানুষ
কারো ধার নাহি ধারি!
যা মনে আসে করি সহাস্যে,
টুকিটাকি আনন্দ করি!

আমার কাছে সবাই কাছের
সীমা পরিসীমা ছাড়িয়ে!
আপন তাপন শত্রু মিত্র
হোক না ভিনদেশি নেয়ে!

যদি কোন অতিথি আসে
আমি যারপরনাই খুশি হই!
মানুষের মনে মন মিলিয়ে
মানুষের মনে বেঁচে রই!

হাড়ে হাড়ে অনুভবে শিখেছি
খড়ি পাতায় রান্না কত কষ্টের!
এভাবেই সংসার ঠেলে ঠেলে
মা মানুষ করেছিলেন মোদের!

শুধু একটু খিচুড়ি পাকিয়ে
হাত পা দিয়েছি ছেড়ে!
ঘেমে ঘেমে উঠেছি নেয়ে
জানে বাঁচিয়েছি বড়ি খেয়ে!

সৃজন চালন নয়তো সহজ
তা বহু শ্রম ও কষ্টের ফল;
তবু আমরা বুঝে না বুঝে
সমালোচনায় মত্ত অনর্গল!

মায়ের দুঃখ বুঝতে বুঝতে
প্রায় জীবনটাই হলো পার!
অনুশোচনায় অনুতপ্তে
অশ্রুসমেত বুকটা হলো ভার!

এসো সবাই দোয়া করি
দু'হাত আসমানে তুলে!
"রাব্বি হামা হুমা কামা
রাব্বিয়ানা সগীরা" বলে!


শাওনাজ, ঢাকা!
১৩.০৪.২০২০


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026