আজ ২৮ আষাঢ় ১৪২৭, সোমবার

জীবন্মৃত
- হিমেল তাওসিফ জয়

এতসব ডাকিনী আর জুজুদের ভীড়ে
আমার যে তেমন বাঁচা হয়ে ওঠে না।
.
আমার জিঞ্জির-বাঁধা মুখ আমাকে বাঁচতে দেয় না,
না দেয় বিষাক্ত চৌচির এ হৃদয় বাঁচতে;
কেবল প্রবলভাবে হাতছানি দিয়ে ডাকে ঐ জীবন্মুক্তি।
.
আমাদের অনিবার্য গন্তব্য মৃত্যুর দিকে-ই,
আমরা প্রতিটি মুহূর্ত ব্যয় করি মৃত্যুকে ডেকে আনবার জন্য;
জীবনের বিদায়ী সংগীতে যেন অনাকাঙ্খিত সুর না বাজে,
এটাই আমাদের প্রত্যেকের প্রত্যাশা।
.
অথচ আমরা লোভে পড়ে হোক কিংবা বিবেকহারা হয়ে
মৃত্যুচিত্রে প্রতিনিয়ত কালো রং দিয়ে নিষ্প্রয়োজনীয় আঁকিবুঁকি করে-ই চলেছি।
যেটার ভিত্তি-ই নেই,
সেটাকে মহাস্থাপনা বলে নিয়মিত বন্দনা করে যাচ্ছি আমরা।
আর আমার এ অপ্রেমের ভাব এসেছে প্রেমে পড়ে-ই;
আমরা মানবতার বাজারে শুধুমাত্র দেহের এ প্রেমকে
সয়লাব হতে দিতে পারি না।
.
আমি কোনো স্থবিরাত্মা নই যে আমাকে কেউ বিদ্রূপ করতে পারবে।
আমি টগবগে খুনের দুঃসাহসী এক জীবাত্মা।
আমি নিত্যদিন প্রেমকে বাম হাতে ঘুরিয়েছি এবং
আমি কোনো ব্যর্থ প্রেমিকও নই।
আমার প্রাক্তন প্রণয়িনী এখনো আমার পথ চেয়ে বসে থাকে।
আমি কোনো আমিত্বধারী উদ্ধত অহংকারীও নই।
.
কারণ আমার কবিতা আমাদের, আমার কবিতা আপনাদের এবং
আমার কবিতা চিরন্তন কল্যাণের।
আমার ভীতি আমাকে ভয় পেয়ে পালিয়ে গিয়েছে।
.
জীবনের সমস্ত প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে যায় অনায়াসেই,
কিন্তু এ পূর্ণ হওয়াটাই যে এক বিশাল অপূর্ণতা
এটা কেবল আমার মতো একটা উজবুক-ই বুঝে।
.
আমার রুধির প্রবাহ ক্ষুধার্ত লাগামহীন;
অন্তর্গুপ্ত বিদ্রোহী এভাবে টিকতে দেয় না;
আমার কেবল ইচ্ছে হয় খাদ কেটে-খাদ কেটে-খাদ
পাতালের দাবানলে মিশে যেতে।
.
হৃদয়ের দুয়ার এবার বন্ধ;
বোবা কান্নারাও এখন স্তব্ধ;
তবু আমার স্থিতি নেই-
নেই শান্তি,
শুধু আছে দোলাচলার অবরুদ্ধতা।
.
আমি উন্নত মস্তকে বলতে পারি নিজেকে যাযাবরের হাসি,
আমি খোলামেলা কথা বলতে ভালোবাসি; কেননা
আমার নির্বোধ অনুভূতিগুলো আজ নিরুদ্দেশ, অপহৃত;
আর আমি অবলীলায় উপাধি পেয়েছি একটা: জীবন্মৃত।

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ
মশিউর ইসলাম (বিব্রত কবি)
২৪-০৫-২০২০ ০৫:৫০

অসাধারণ লেখনী।
প্রতিটি চরণে পাঠকের জন্য বিশেষ কিছু রয়েছে।
মুগ্ধ হলাম

হিমেল তাওসিফ জয়
২৪-০৫-২০২০ ০৬:১০

ধন্যবাদ প্রিয় কবি

গোলাম কিবরিয়া সৌখিন
০৪-০৬-২০২০ ১২:৩৩

চমৎকার লাগলো, কবি । শুভেচ্ছা নিবেন