বালিকা হাসতে জানে না
- আশরাফুন নাহার

কুঁড়ি খুলে ফুটেছ তুমি বালিকা
পায়ে নুপুর পরোনি কেন?
কেন তোমার ওড়না উড়ে না দখিণা দোলায়?
বকুল কুড়িয়ে জমিয়েছ টুকরী ভরে?
ঝরনাচুলে চিরুনী ধরোনি কেন?
কেন শারদচোখে শ্রাবণ ধারা নামে?
কেন কাঁচের চুড়ি ভেঙেছ,
পড়ে গেছে ভাঙা কলসির জল?
বালিকা আর সেই বালিকা নেই।
যার হাসিতে হাসতো চাঁদের বাঁক,
ছলচ্ছল করতো কলসিতে জল তার চলনে,
নিতম্বতে হারায় শ্রাবণ ঢল তার ঢলনে,
মেঘেরা যে বালিকার বেনী খুলে লজ্জা পেতো,
ফুলেরা নানান ছলে তার কপোলে চুমু খেতো,
বালিকার নুপুর পায়ে একশ ঝুমুর স্বন,
সে বালিকার নোলক হতে ফুলপরীদের নিত্য অনশন।
সে আজ নেই আগের মতন।
এখন তার সিঁথিতে সিঁদুর লাল থেকে সাদা তারপর কালো
চোখের তলা কত বর্ষার না ঝরার ক্লান্তিতে কালো,
আজ বালিকার কান্না দেশে বাড়ি,
তাই ভুলেছে হাসি
বালিকা হাসতে জানে না।
বালিকা তুমি হাসি ভুলেছ
গানের কলি ফোটাও না আর গলে,
বালিকা তোমার ম্লান মুখে শত তুষার ছবি পড়ছে গলে,
বালিকা তোমার টিয়ারঙা ওড়নার পরতে হাসি নেই যে,
মেঘবলাকার ঠোঁটে কর্কশ ডাক শুনি এই যে,
তোমার ঠোঁটে এক ফোঁটা হাসি নেই যে।
তাই থমকে প্রকৃতি তোমায় দেখছে তুমি কি কখনও হাসবে না?
কখনও কি তোমার ধুলোমাখা মনে আগুন ধরিয়ে ফাগুন আসবে না? বালিকা হাসতে জানে না,
সে বালিকা সংস্কার মানে না,
বালিকার ঠোঁটে হাসির আনন্দ হানে না,
বালিকার সাথে কথা বলেছিলেম বিকেলের শেষ প্রান্ত অবধি,
কী কথার ভাঁজে হাসির তরঙ্গে বয়ে গেছে নদী।
সেই বালিকার কথা আর বলব না,
অভিমানীমেঘ জড়ো করে কাঁদে বালিকা সে হাসতে জানে না।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।