এক রাক্ষুসে মাছের গল্প
- ইকবাল হোসেন বাল্মীকি - ঝং ধরা ডায়েরীতে মিথ্যা গোলাপ। (অপ্রকাশিত কাব্য।)

আসলেই মরে গিয়েছিলাম
গত শাতব্দির মধ্য দশকে
সোনালী মাছ গুলো পরেছিল
লাল সুর্য রঙা দীঘল শাড়ী।
পেরেক টুকে টুকে কপিনে
ওরা গান গেয়ে এগিয়েছিল
কফিনের ঠাণ্ডা পেটে লাশ
পূড়িয়ে ফেলার অপেক্ষা মাত্র।

সত্যি মরে গিয়েছিলাম
মৃত্যুর শুরু ঐ শতাব্দীতেই
আমার মৃত্যু অনিবার্য ছিল
স্ব-প্রজাতির রক্তের হানাদার
আমার ধ্বংস মানে শান্তি
ঐক্যবদ্ধ মাছেরা আঘাত হানে
বাস্তিল থেকে বার্লিন
বেইজিং থেকে স্টেলিনগ্রাদ ।

দু-হিরা ধারালো তর্পুনে-
দেহ কেঁপে কেঁপে উঠছিল যদিও
আমি মরে গিয়েছিলাম নিশ্চিত।
জটরে মন্দার জণ্ডিস নিয়ে
আর কতকাল বেঁচে থাকা যায়
ভেতর থেকেই নিঃস্ব হচ্ছিলাম
শুধু একটা ঝড়ের অপেক্ষায়
ভেসে বেড়াতাম,বর্ষিয়সী পুকুরে।

সোনালী মাছ গুলো
সোনাঝরা দিনের নিসানীতে
আমার মেরুদন্ড ভেংগে দিয়ে
মৃত্যু আসন্ন করেছিল ।
নির্মম সেনানির মতো
হাত নাক চুল কেটে দিয়ে
লোহার কফিনে পুরে নিয়ে চলে
গোর দেবে অন্ধকারের সাথে।

কতিপয় সোনা মাছে
আমার প্রবাহিত মুর্দাপানি দেখে
মায়া করে মাটিতে সোয়ালে
স্বর্নালী মাছেরা তাত্ত্বিকতায় ভোগে।
আমার প্রতি দয়াদ্র হলেই
আমি জেগে উঠি করালের উপর
শব যাত্রিগন হকচকীয়ে উঠে
পিছু হটে আমার লাশে দম দেখে।

আমি ‘ইজার’ কে পেল্টুন
‘কুর্তাকে’ স্যুট
‘ছিনাবন্দ’ কে জ্যাকেট
‘ছিরবন্দ’ কে কাউবয় হেট
বানিয়ে ঘুরে দাঁড়াই।
মাছেরা আমার ক্যারিজমা দেখে
জাল গুঁটিয়ে নায়ে কুড়াল মারে
আমি দ্রুত বেঁচে উঠি পুনঃ জীবনে।

আমি জানি আমার এই জেগে ঊঠা
এর পিছনে আমার পুঁজির বানিজ্য
যার করেন আমার শেষ জ্বলে উঠা
খুব দ্রুত মৃয়মান হবে গোরস্থানে।
আপাতত পরাজিত সোনার মাছেরা
চেতনার অঙ্গনে আরো নিবিড় হলে
কৃত কৌশল হবে ক্রয় ক্ষমতাধীন
তখন ঠন্ডা মাথায় রক্তপাত এড়িয়ে
মরে গেলে শেষ পেরেক টুকে দিয়।

স্মমিলিত বিক্ষিপ্ত মাছেরা
হৃত বিশ্বাস ফেরে পেতে
তাই এখনও অবিশ্বাসের চোখে দেখে
তাদের পূর্ব পুরুষ এই আজদাহ কে
তুর্পুনে এফুঁড় অফূঁড় করেছিল
৫ –ই অক্টোবর ১৯১৭ সালে
স্বাধীন সন্তরণের বদ্ধমূল আশ্বাসে
নির্ভাবনার স্বচ্ছতোয় জলের সন্ধানে।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।