বৃক্ষ মানব
- ইকবাল হোসেন বাল্মীকি - অদ্য পুরাণ (অপ্রকাশিত কাব্য)
গাছগুলো ইদানিং খবু মিথ্যাবাদী ,কুঠার ফিরয়ে দিচ্ছে বারংবার।
প্রতিশ্রুতি ভাংছে মানুষের মতো হরদম স্বগর্বে চুমুটাও ফিরিয় দিচ্ছে।
-হে বৃক্ষ প্রশাখায় নত হাত গুলি
আগের মতো মায়াময় নও কেন
হৃদয়ে কি রক্তগন কঠিন অসুখ-বিসুখ
পাণ্ডু রুগীনির শীতলতা তোমাদের দেহে ‘এইসড’এর মত ডুকেছে। দেখছি।
বৃক্ষজন হয়ার বাসনায় আমার ডাল মরা বক আর বঞ্চনার মেদি সারস।
এমন যদি চলতে থাকে তবে বাস গুটাবো, বৃক্ষহীন নক্ষত্রে উড়াল দেবো।
আদি পুস্থক সমূহ বলেছে ইহা পাপ, মহা পাপ
আমি রন্দ্র খোজি আজ বৃক্ষের সুডৌল নাভিতে
মানুষের সঙ্গমে আজ ক্লান্তির নীল হাতির কুর্দন
মানু্যের সঙ্গমে গাছের উত্তেজনা দেখতে মনচায়।
হে বৃক্ষ তোমার বক্ষে মানুষের বীর্যপাত নিতে হবে
হে বৃক্ষ আমার ধারাপাতে তোমাকে আস্বস্থ হতে হবে
আমি নারী হীনা যুগ যুগ একা বেঁচে থাকতে পারি
অতচ তুমি হীনা এক পলকেই সূর্য আগুন ঝরায়
আমার মাটির আঁশ নিকেলে আর সিলিকনে ভরে উঠে।
নাইট্রোজেন মৌল ছিটাচ্ছি মাটির অন্তরে বিকাশের আশায়
তোমরা ফলবতী ফুলবতী হবে,বৃহস্পতি নামবে গাল বেয়ে
তোমরা গোগ্রাসে গিলছ অ্যামোনিয়া ফসপেট , ইউরিয়া
কাঁচ আর শীততাপ সমৃদ্ধ গিলাফের পরিচর্যায় চিকচিক হাস।
মানুষ হওয়ার এ আধুনিক প্রবৃত্তি কেন তোমাদের কে নাড়াচ্ছে,
মানুষেরা উম্মাদ রণে আর প্রজননে, মানুষেরা নয় নরম আঁধার।
হে বৃক্ষ তোমাদের লোহিত ক্ষনিকা গুলো কি কেবল প্লাস্টিডের অণুচক্রিকা খেলা করে
তোমাদের জানা উচিৎ প্রতিটা নিঃসঙ্গ হৃদয়ে খেলা করে বিশাল নিঃসঙ্গ প্রান্তর,
এই নিঃসঙ্গতার আয়ু ক্ষয় নেই। এহেন যন্ত্রায় জেগে উঠে মরুতে অরন্যের বাইনারি বিক্রিয়া।
গাছের রক্তে মানুষের অনুপ্রবেশ এই নিঃসঙ্গতাকে সঙ্কুচিত করে, প্রান্তর খাল নালা হতে চায়।
নিরল বৃক্ষ হে, বিরল বনেলা বাতাস প্রবাহিত করো ঘুমের মতো নগ্ন এবং উদাসী
নিরল বৃক্ষ হে, নিলুয়া দরিয়াটা কে টেনে আনো বুকে পোথাশ্রয়হীন সীমাহীন শুধু কল্লোল
নিরল বৃক্ষ হে, চিরল পাতার ঠোঁটে হাসাও দেশান্তরে যাওয়া এইসব গলগলি হাঁসের হৃদয়
নিরল বৃক্ষ হে, বিরল প্রজাতি হও পরিচিতির গড্ডালিকায় ভেসে গিয়ে মিলিয়ে যেওনা বিলয়ে।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।