মহানগর ট্রেন যাবে সুখপুর , ভায়া রংপুর।
- ইকবাল হোসেন বাল্মীকি - অদ্য পুরাণ (অপ্রকাশিত কাব্য)
ক।
আমি বসে আছি মনের উপর হুইল চেয়ার বসিয়ে
হুইল চেয়ার খানা বসিয়েছি কয়েকটা পানি ভর্তি বস্তার উপর খুটীতে
খুটির নীচে এক ভিখারিনী বসিয়েছে বিশাল পাতিলে রান্না
ভিখারিনীর স্বামী স্বত্ব দাবী তোলেছেন,জেল ফেরত এক পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা।
আমি বসে আছি আমার ট্রেনের জন্য।কমলাপুর স্টেশানে।
স্টশানের অস্তিত্ব আমার রক্তের গ্রুপে টের পাচ্ছি।
‘ডি এন এ’র চুল অবিন্যস্ত করে ট্রেন আসবে বলছে ট্রেনের চুকানি
এই মহানগর এক্সপ্রেস প্রাপ্ত বয়োস্কদের নিয়ে কিশোরগঞ্জে থামবে না
সোজা সুখপুর চলে যাবে তবে ভায়া রংপুর হয়ে। সুখপুর কতো দূর?
আমার আয়রন পায়ের নিচে পাটের বস্তায় রাখা মদ পানি হয়ে গেছে।
আমার রক্তের গ্রুফ বদলে গিয়ে রোমান হরফ ঢুকছে ঝংগার নিয়ে।
মনে হয় আমি যে তীমিরের কামরায় আছি তার ছাদের সূর্য গাঢ় কালো।
মনে হয় এখনে পাঁচটা মৃত পাতিলের মতো চন্দ্র অমাবস্যার আলো জ্বালে।
আমাকে কারা বলে গেছে কালের অন্তপুর থকে এখানে বসে থাকতে
এখানে বসে ভিখারি আর মাতালদের যুগসাজসে একটা কিছু করতে।
আমার অনতিদূরে ডাকঘর মারা যাচ্ছে।
ইন্টারনেটে ক্রেডিট ভরছে নতুন বউ- প্রেমের বিবাহ।স্বামীর মৃতদেহ দেখবে।
ডাকঘরের ছাদে মরা কবুতর পত্র মুখে উড়ে এসেছিল যৌন আনন্দের মতো।
ডাকঘরের ছাদের রাত ভর করেছে, বাস গুলো ধোঁয়ায় ধূসর, ভিতরে যাত্রি।
আমি আমার চশমা হারিয়ে ফেলিনি এখনও তাই বাসযাত্রীদের নাড়ী দেখছি
এরা সরীসৃপ প্রাজাতির মতো, তাপমাত্রা মায়নাসে নামিয়ে নিয়েছে, মহাশীত আসেছে।
বাসযাত্রি গন আবার হাত নাড়ছে আরো কয়েক মিলিয়ন মৃতদের উদ্দেশ্য
যারা আমার চারপাশে মাছির মতো একে অন্যকে পাশ কেঠে যাছে
বাসি লাশের গন্ধে আমার গা ভমি ভমি করছে। ফার্মেসীতে বসেছেন আমলা তন্ত্র।
মহাগরের পর মহানগর অতিক্রম করে যাবে ট্রেন।
ভৈরবের ব্রিজ ক্রমশ যমুনা ব্রিজের দিকে সাঁতরে যাচ্ছে।
যদি ট্রেনের গতি এবং দোলনী বাড়ানো যায়, তবে সুখপুর তাড়াতাড়ি পৌছাবো।
কাঁচের গ্লাস রাঙ্গিয়ে দেবে পানীয়, সন্ধার আগে আমাদের গন্তব্যে যাওয়ার কথা।
না কি পানীয় রাঙ্গাবে কাঁচের পাত্র, সাবেক প্রেমিকার কাছ থকে জেনে নেয়া সম্ভব।
নব্বইয়ের দশকে আমার প্রেমিকা আমাকে ছেড়ে চলে গেছেন।ঘোষখোর গোসালের সাথে।
তিনিও একই ট্রেনে আমার সাথে সুখপুর যাবেন।কোন ক্লাসে বসবেন এ নিয়ে ভাবছেন।
খ।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ থেকে লোহা খুলে স্ক্রেচ বানানো হবে, পুঙ্গ মুক্তিযোদ্ধা তাই ঢাকায় এসেছেন।
শাঁখারী বাজার থেকে কামার এসেছেন মেপে নিতে তার মনের কোথায় জখম
কোথায় গুলি লেগেছিল ? কোন সালে? হৃদয়ের চামড়া কত ইঞ্চি পুরু? ক্ষতের গভীরতায়
কি কি মাছের চাষ দিয়েছেন , এই না মরা, জীবিত, সেঁওলার মতন মানুষেরা।
ভিখারিনীর সাথে খুব দরদাম করছেন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা, ট্রেনের ভাড়ানিয়ে।
এবং বার বার বলছেন তিনি সাবেক অমুক, তিনি মুক্তি বাহিনীর লোক।
তিনি হাজং পাহাড়ে গুলি করে মেরিছিলেন হানাদার কালো কালো ভাল্লুকের সেনা।
ভাল্লুকের ছাল দিয়ে তৈর ভিখারিনীর চামড়া, চামড়া ফুঁড়ে আত্মসম্মান বোধ ডুকেনা।
গ।
অনিতিদুরে ঠিকিট কাউন্টারে বসে আছেন, ক্লিন সেভ থানেদার রিসালদার টিকিট মাষ্টার
চোখ বুলাচ্ছেন যাত্রীদের ব্যাগেজ গুলোর উপর, কে কতো মন সোনা চুরাচালান নিচ্ছেন।
ব্যাগেজ গুলো ইস্পাতের তার দিয়ে বাঁধা কিন্ত ফুটো দিয়ে ছুঁইয়ে নামছে জলের চোখ
ছানি পড়া চোখের আলনায় রাখা লাখ লাখ কষ্টের জৈইলশা পানি ও প্রভাতের স্বপন।
চুস্ত থানেদার টপকে টপকে পার হচ্ছেন একটা লাগেজের পর আরেকটা লাগেজ
তার ছোঁয়াল নামেনা, হাঁ করে দেখছেন এত্তো গুলা বছর পরেও মানুষ ভুলেনা স্মৃতি
গনহত্য, গন ধর্ষণ, গন ডাকাতির কাহিনী ভর্তি বাক্স গুলো মহা দুর্নীতির তালা মারা।
থানাদার আঁতকে ওঠেন, বাক্সের মালিক গন সবাই দেশি ছাল-চামড়া দিয়ে গড়া
বাক্সের হেন্ডেলে চাপচাপ রক্তের হীরা মানিক, মুক্তো গুলো সদ্যজাতকের না ওঠা দাঁত।
এই বাক্স গুলো যদি বে খেয়ালে মাটিতে আছড়ে পড়ে মহাবিস্ফোরনের আশঙ্কা...।
থানেদার ফোন লাগান জিরাফের সিক্রেটারিয়েটে-
অয়ভ মন্ত্র উচ্চারিত হয় অন্যপাশে, ভয় নেই যমুনা ব্রিজে বোম মারা হয়েছে, নির্ভয়ে যাও।
লোহার ট্রেন জলে ভেসে ওঠার কোনো ইতিহাস নেই।
তার উপর আছে চালক বিহীন ড্রোন, চক্কর দিচ্ছে, ট্রেন যমুনায় ভাসবেনা নিশ্চিত যেতে পারো।
মানবাধিকার কমিশনের মাথায় কথাটা উঠে-
তারাও আস্বস্থ হয়েছেন বিয়োগান্তিকা ভর্তি এ পেটরা গুলো জলে ডুবিয়ে দেয়া উত্তম।
ইতিহাস এভাবে খুঁড়িয়ে চলতে পারেনা, ইতিহাসের পিছনের ইতিহাস অন্ধকার হয়
এসব অন্ধকার পুড়িয়ে অথবা ডুবিয়ে দেওয়া নিয়ম।
সত্যের মতো ইতিহাস কোনো কোনো সয়ম বদমায়েশি করে বিস্ফোরণ ঘটালে-
নূতন পৃথিবীতে ধাতস্থ হতে মানুষের মন এখনও প্রস্তুত নয়
বক্তিগত জামা জমি পুত্র পুত্রী এসব এখনও জীবন্ত জখমের মতো রক্তপায়ী।
ঘ।
ট্রেন যাচ্ছে যমালয়ের দিকে রোদ্রের আলোয়, টিকিট মাষ্টার মনে করে দিচ্ছেন যাত্রীদের।
আমরা অল্প কিছুক্ষনের মধ্যে আকাশের ত্রিশ হাজার ফুট উপর দিয়ে ট্রেন চালিয়ে নেব।
বাস, ট্রাক, টেস্কি গুলোও আমাদের অনুসরন করে যমুনা ব্রিজে লেন্ডিং করবে, তার পর বোমা।
টিকিট চ্যাকার যাত্রীদের ভুড়ি দেখ নাড়ির খবর সম্প্রচার করছেন আকাশ বানীতে।
আমরা শূন্য প্লাটফর্মের দিকে থাকিয়ে দেখি সাবই শুনশান, কবেল ভিখারিনী বাদে।
ভিখারিনী ট্রেনে উঠতে পারেনি, কারণ তার ঝু্লো বুকের উপর দিয়ে ট্রেন চালিয়ে যাবো।
ঙ।
ট্রেন যাচ্ছে সুখপুর রংপুর দিয়ে, হরেক কিছিমের রঙ মাখা মুখ, শেয়াল থেকে বনবেড়াল
সিংহ থেকে শুরু করে চামচিকা কেউ বাদ পড়েনি।সবার চোখে অনতিদূরে সুখপুরের ছবি
কিন্ত ব্রিজ গুলি থেকে স্লিপার তোলে নেয়েছেন জিরাফের গাছ, অমরিল বৃক্ষ নিশঙ্ক চিত্তানন্দ।
আমরাও কম কিশে মনানন্দের দল, যমুনার কালোজলে মরণ, আমার ভগ্যলিপি পড়তে জানিনা।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।