আমার বঙ্গের রূপ কির্তন।
- ইকবাল হোসেন বাল্মীকি - অদ্য পুরাণ (অপ্রকাশিত কাব্য)
আমার বঙ্গের রূপ কির্তন
----------------------
০১।
আর্যরা দ্রবীড় মহিলাদের পানি গ্রহন করেছিল প্রেমে নয়
‘ঘোড়া ছড়িয়া মর্দ’ আসিলেও মাদিদের ফেলে এসেছিল পাথরের পলিতে।
নারী ঘটিত সংকট কাটাতে গিয়ে নারী ঘটিত শঙ্কর জন্ম দিয়েছিল।
শঙ্কর সুশীল শব্দ, আসলে জারজ, তাই সাবল চালায়
প্রত্মতত্ত্বের গভীর ট্যানেলে-
বাংলাদেশ তোমার স্বাধীনতার ঘোষণা কে পাঠ করেছিল? কে লিখেছিল?
এবং কে যৌবনের তেইশটি বছর রক্ত দিয়ে এঁকেছিল পটভূমি?
০২।
আর্যরা আসাম দিয়ে বঙ্গে অনুপ্রবেশ করে।
নদীতে মাছ দেখে মনে করেছিল মিন রাজ্য
দ্রাবীড় কন্যার বক্ষ দেখে ভেবেছিল স্বর্গ রাজ্যে
নরম পলির ভিতরে হিমেল যুগ্ম আনার ফল।
এই কন্যারা এখন দারুন ধুরন্ধতি
তাদের বুকের কমলায় রাজনীতি, অর্থনীতি।
দুধে বিষ, মাড়িতে জখম।
কেউ এ কন্যাদের কথা বিশ্বাস করে না।
বাংলাদেশ তুমি পরিবার তন্ত্র না গনতন্ত্র কোন দিকে যাবে?
বাংলাদেশ তুমি গুপ্ত, পাল, সেন, সুলতান এসব চেখে দেখেছ
বাংলাদেশ একটি বার তুমি, প্লিজ জনতার হও আমাদের হও।
০৩।
দ্রাবীড়দের আর্য সাঁজার প্রাণান্ত দেখে আর্যরা নিজের অনার্য দাবী করে।
ইংরেজ রা যাওয়ার সাত দশক হল। এখনও কাঁটাতার গজাচ্ছে হাতের তালুতে।
বাংলাদেশ তোমার অপুর্নতার কাল স্বাক্ষি।
আমি জানি না আমি বাঙালী না বাংলাদেশী। আমি ঘটী না বাঙ্গাল।
০৩।
হিন্দু মুসলিমের যৌনতা সিদ্ধ কিন্ত বিবাহ রিতি সিদ্ধ হলে
কলকাতায় যাত্র বিরতিতে আমি পানশালায় জলপান করে
ঠাকুরের বাড়ী-টাড়ি ঘুরে মালতিকে বাপের বাড়ি রেখে
আমার পিতা প্রদত্ত ধর্মের শির্নীর দাওয়াত দিয়ে আসতাম।
আমি এখনও মন্দিরে আগুন দিতে পারলে বীরভাবে হিসিকরি
আমি এখনও মসজিদে আগুন দিতে পারলে বীরচক্র লাভ করি
বাংলাদেশ নদী, তোমার উভয় পার আদৌও কোনো চেতনার দাবীদার
বাংলাদেশ তোমার খন্ডিত মুণ্ডুর-
কোন অংশ বনেদী বানু আর কোন অংশ বেহুলা বেশ্যা।
০৪।
আমার বাংলায় পাথর, পিতল-লোহার জীবনের শেষ চিহ্ন আছে
এখন ইলেক্ট্রনিক ইমাজের যুগ বালির বস্তা দিয়ে বানাচ্ছে প্রাসাদ
ইমেজ ধারন কারি মাধ্যম গুলো জনতার নিবিড়ে আসে সাপ নিয়ে
তারাও পাথর পিতল আর লোহার জীবনের মতো শেষ চিহ্ন রেখে যাবে।
এর পর- বাংলায় আসবে বাংলার যুগ। আমি সে যুগের কথা লিখে রাখি।
বাংলাদেশ, প্রিয়তমে, আমাকে আর জন্ম দিয় না , যদি না তুমি বদলাও
যতদিন তোমার এই ভূতুড়ে মূর্তি নির্বাসনে যাবেনা
আমার যেন নির্বাসন চিরকাম্য হয়ে থাকে, আমি যেন হিব্রু ভাগ্যনিয়ে মরি।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।