আমার প্রাপ্ত পুরুস্কার তোমাদের প্রতি
- ইকবাল হোসেন বাল্মীকি - অদ্য পুরাণ (অপ্রকাশিত কাব্য)
আমার প্রাপ্ত পুরস্কার তোমাদের প্রতি।
--------------------------------
I.
আমি বৃক্ষের প্রশাখা
আমার কন্যাগন
আমি তোমাদের জন্য কৃতজ্ঞ-
আমি আমার কাছে
আমি আমার পিতার কাছে
আমার পিতার পিতার কাছে
এবং তিনিদের পিতার কাছে
এবং পিতৃমনা পিতাদের কাছে
আমি আমার স্ত্রীর কাছে
অতপর আমি আমার মায়ের কাছে
মা’এর মায়ের কাছে
মাতামহীর মায়েদের কাছে
এবং তাদের মায়েদের কাছে
এবং মাতৃমনা মায়েদের কাছে
II.
আমি অস্থিত্ব নামক ধরনের
আমার পুত্রীগণ
আমি তোমাদের কে পেয়েছি-
একটা গভীর গোপন সুড়ঙ্গ থেকে
একটা রহস্যময় সমিকরন থেকে
একটা রাতের স্বর্গ বাগান থেকে
একটা অন্য রখম চক্ষুর মন থেকে
একটা সূর্যের সাথে মেঘের সঙ্গম থেকে
হে মোর পুত্রীগণ-
শহরের আলোয় ভালো থেকো
সহরের হৃদয়ে আচ্ছন্ন থেকো
সধবার উল্লাসে অম্লান থেকো
শুদ্ধতার অন্তরের পালঙ্কে থেকো
শবধার বহনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থেকো
হে অন্তরের টুকরো মাংস
আমি তোমাদের জন্য রেখে গেলাম-
আমার পরিচিত পৃথিবীর আফিম সুমুহ
আমার কবিতা লেখার কি বোর্ড
আমার কম্পিউঠারের চিত্রময় হার্ড ড্রাইভ
আমার পরম অবিশ্বাস গুলোর রূপ কল্পনা
আমার ওয়াসিং মেশিন
আমার প্লাজমা দূরদর্শন ডিভাইস
আমার বিশ্বাস গুলোর দুদোল্যমান নেক্তি
আমার পরিত্যক্ত আনকোরা পাদুকা গুলি
আমার সময়ের আগের গল্প এবং পরের ঘটানা
III.
আমি প্রবাহিত তোমাদের মাঝে
হে আমার কন্যা সন্তানেরা
আমি অবলোকিত তোমাদের কর্মে
তোমারা পাঠোদ্ধার করো-
জীবনের ধুসর লাল-ফিতা মহার্গের
জীবনের নার্ভ গোলোর নভের নির্দেশিকার
জীবনের বিব্রতকর হাতেবেগের ভিতরকার দৃশ্যের
জীবনের চুড়ান্ত অসফল সুন্দরতা সমূহের।
আমি জানি তোমারা আমার অবিকল নকল নও
আমি জানি তোমারা আমার প্রেমের অবিকল কপি
তোমরা উর্নাকে ঝর্ণার রূপালী ধারায় এনো
তোমরা পৃথিবী কে খদ্দের চোখে দেখ না
তোমরা মানুষের মিছিল গুলো আপন করে নিয়
তোমরা আপন তন্তু গিলে খাবার মতো ক্ষুধার্ত হয়ো না
আমি তোমাদের কে অসীম নক্ষত্রের আলো দিয়ে গেলাম
আমি তোমদের কে শুয়ো পোকারও বেঁচে থাকার অধিকার বলে গেলাম
আমি তোমাদের কে মাংসাশী মিনদের থেকে পৃথক করে দিলাম
আমি তোমাদের কে নদীর মতো অমেরুদণ্ডী প্রানের অন্তসার দিলাম
আমি তোমাদের কে পাহাড়ের মতো পাথরের বহমানতা দিয়ে গেলাম
আমি তোমাদের কে পণ্য গৃহে সমদ্রের মতো অস্তিত্ব দিলাম
তোমরা এখন থেকে প্রেম থকে প্রতিশোধের কাঁটা তোলে নেবে
তোমরা এখন থেকে অপ্রেমের হিজল গাছে জোড়া দোয়েল নাচাবে
IV.
আমার মায়েরা দুঃখ পেয়ও না
পিতার অপুর্নতার কাছে
আমার মায়েরা লজ্বিত হয়ও না
পিতার অক্ষমতার কাছে
আমি ভাঙ্গা ‘তালা বাসনের’ মতো ছিলাম
আমি ঝংধরা ট্রেন লাইনের মতো ছিলাম
আমি অপাংক্তেয় ফেরেস্তার মতো ছিলাম
আমি ডান নয় বাম কে পরম করে ছিলাম
আমি জানতাম সুর্যের রক্তচাপ ও নাড়ীর আদি অন্ত
আমি জানতাম মানুষের মূর্খতা ও যুদ্ধের ফর্মুলা
আমি জানতাম প্রেমের ইতিকথা ও যৌনতার দ্বান্ধিক মূল
আমি জানতাম দুঃখের পূর্ণতা এবং সুখের শূন্যতা
আমি জানতাম আমার অহং এবং মানবিক ব্যাকরণ।
আমার বিরল প্রজাতী
সহজাত গুণিন- আমার মেয়েরা
অসুখ লেগেছে আয়নার আবে, সুস্থ করো স্বচ্ছতায়
অসুখ লেগেছে সিম কার্ড’এ, ন্বমর গুলো নির্মল করো
অসুখ লেগেছে প্লাম টপে, ল্যাপ টপে, ডেক্স টপে, এন্টি ভাইরাস চালু রেখ
অসুখ লেগেছে প্রচার মাধ্যমের বায়ুর ট্যানেলে, বাতাসে ছাকন দিয়
অসুখ লেগেছে মৃত মানুষের রক্তে, অণুচক্রিকা গুলোতে জল দিয়
V.
আমার সন্ততি
নিযুত অনাগত দিনের লেখনী
আপন ভবিতব্য অনুর নির্মাতা
হে কালের কবর খনন কারিণী
আমি জানি তোমদের কালকে তোমারা শাসনে নেবে
আমি জানি তোমরা পরিভ্রমণ করবে প্রসারণশীল নক্ষত্র পথে
আমি জানি তোমরা বুতাম চেপে কালকে নিয়ন্ত্রন করবে কৃষ্ণ গহ্বরে
আমি জানি তোমরা দিনে দশবার শরীর বদলাবে
আমি জানি তোমরা চাইলে মৃত্যুকে দুপরের ঘুমের মতো সোফায় সাঁজাবে
উপহাস করো না আমাদের মদ মুর্খ জীবনের চাওয়া পাওয়া কে
উপহাস করো না তোমাদের অদেখা এই করুন অতীত কে
উপহাস করো না আমাদের রক্ত খেকো ক্যানাবলিক স্বংকৃতি কে
উপহাস করো না আমাদের মৃৎ পাত্রে লিখা খড়ি মাটির কবিতা কে
আমাদের ইতিহাস জলের ফুলকা দিয়ে লিখা, আবছা অন্ধকার
আমাদের ইতিহাস বৈকল্য বোধের তামায় লিখা, খনখনে তারল্য বর্জিত
আমাদের ইতিহাস মৃৎ কাঠের ছাই দিয়ে লিখা ,গাছের রক্তের আঁকরে
আমাদের ইতিহাস বানান ভুলে সমৃদ্ধ, রুজি রুটির সংকীর্ণতায় সীমাবদ্ধ
আমাদের ইতিহাস মানুষ শিকারের, বল্লমের সুচাগ্র ছিল সুঁই, রক্ত ছিল সুতো।
আমার প্রিয়তম পুত্রীগণ
তোমরা হাসেত চাইবে না
তবুও পেটের খিল ভেঙ্গে হাসি আসবে
কেননা-
আমরা সামান্য রুটির জন্য গন-উভ্যুত্থান ঘটিয়েছি
আমরা সামান্য ভুমির জন্য শ্রেণী সংগ্রামরে মতো মত্ততা প্রদর্শন করছি
আমরা সামান্য বিদ্যার জন্য অংঙ্কারের মাস্তুলে দেমাগের পাল তুলেছি
আমরা সামান্য বিজ্ঞানের জন্য লক্ষ মানুষ পুশু শোলে ছড়িয়েছি
আমরা সামান্য কামের জন্য নিজের অর্ধাংশ কে অমানুষ করে রেখেছি
আমরা সামান্য প্রেমের জন্য ভিক্ষুকের মতো দারে দারে ঘুরেছি করুণার মতো।
VI.
আমার মেয়েরা
আমি মাতৃশাসনের ডাক দিচ্ছি
তোমাদের দেশ হবে সমগ্র ভ্রমান্ড
তোমাদের মন্ত্রী পরিষদ হবে আকাশের তাঁরা
তোমাদের চুলের ফিতাই হবে তোমাদের পতাকা।
আমার মেয়েরা তোমাদের শাসন প্রতিষ্টিত হলে-
এই দুর্য্যধনের রাষ্ট্র সুমুহ সুমুলে নশ্বর হবে
এই ফুল বাগান ছাড়া সব কিছু বিলুপ্ত হবে
এই গান গুলো ছাড়া সব কিছু বিস্মৃত হবে
এই কবিতার ভাষা ছাড়া সব কিছু নিষিদ্ধ হবে
এই প্রেমান্ধ মন ছাড়া সব মন বাজেয়াপ্ত হবে
এই মন থকে ঘৃণার জড় মূল শুদ্ধা নিপাতিত হবে
আমার মেয়েরা আগামী পৃথিবীতে তোমরা বেড়াতে এসো
আমার মেয়েরা তোমরা পৃথিবীর কালো পাথেরের নিচে কিছু ফসিল পাবে
এদের জন্য তোমাদের একমাত্র অশ্রু বিন্ধু টি রেখে যেও,
আমাদের শেষ প্রশান্তি এখান থকে অজলা ভর্তি করে নেব।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।