পাঁচ কবিতায় পঞ্চফুল
- মাহমুদুল মান্নান তারিফ - পঞ্চফুল ২১-০৬-২০২৪

পাঁচ কবিতায় পঞ্চফুল

এক. নাবী কামলিওয়ালা
মাহমুদুল মান্নান তারিফ
------------------------------------------->><<>
মক্কায় জন্ম নিয়ে হিজরত করেন মাদিনা
মক্কার জমিনের ফুল মাদিনারই খাজিনা।
নূরের সে ফুল ঘ্রাণ ছড়ালো
মনের সাথে মন জড়ালো
আগমনে হলো যাঁরই তামাম ধরা উজালা
নাবী কামলিওয়ালা নাবী কামলিওয়ালা।।

শ্রেষ্ঠ জাতি কুরেশ হারালো তাঁর গুপ্তধন
আ-বূ জাহেলগণ, তাদের ছিল সুপ্তমন।
কুরেশ জাতির গর্ব তিনি
খোদার প্রিয় হাবিব যিনি
তিনি হলেন নূরমুহাম্মাদ শান মুবারক আলা
নাবী কামলিওয়ালা নাবী কামলিওয়ালা।।

সকল নাবীর শেষে এলেন তিনি দুনিয়ায়,
তাঁরই শানে সঙ্গীত না'তে রাসূল শুনি আয়।
দরূদে দশ নেকি মিলে
প্রশান্তিও আসে দীলে
দরূদ পড়ি তাঁরই নামে আল্লাহুম্মা ছাল্লে আলা
নাবী কামলিওয়ালা নাবী কামলিওয়ালা।।

রচনা; ১৩ জানুয়ারি ২০২৩

দুই. মুহাব্বাতের টানে
মাহমুদুল মান্নান তারিফ
------------------------------------------->><<>
প্রিয়নাবীর ওসিলাতে রোজ-কেয়ামাত হবো পার,
পুলসিরাতের দুঃখ বার্তা বুকে ধাক্কা দেয় আমার।
ওগো নাবী তোমার দরূদ পড়ছি উম্মাত নিরালায়,
তোমার প্রেমে মত্ত হয়ে জ্বলছি ওগো জী জ্বালায়।

দয়াল নাবী দয়া করে দাওগো দিদার স্বপনে,
সকালসন্ধে ব্যস্ত আছি প্রেমেরই বীজ বপনে।
করছি আশা যাবো আমি দেখতে সোনার মাদিনা,
যে মাদিনা নূরের আলোয় ঝকঝকে এক খাজিনা।

ও-নাবীজী তোমার মায়া বুকে আছে সীমাহীন,
দরূদে বুক সাফ করেছে বুকটা এখন ঘিণাহীন।
আমি তব প্রেমের রশি ধরতে চাইগো খুব জোরে,
আমার ঘরে নেমন্তন্ন তোমার জন্যে লোভ দোরে।

ও-নাবীজী ওগো আমার মনের ঘরের সান্ত্বনা,
পড়ছি দরূদ দিন-রজনী মন তো তবু ক্লান্ত না।
মুহাব্বাতের টানে আমার বুকটা ধুধু বালুচর,
পাঠাই সালাম এ উম্মাতে দরূদ পড়ি তোমার 'পর।

তোমার প্রতি শেষ নিবেদন দাওগো দিদার আমারে,
শান্তি বুকে পাইগো কেবল তোমার প্রেমের বাহারে।
আচ্ছালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ!
আচ্ছালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া হাবিবাল্লাহ!

রচনা; ১৮ জানুয়ারি ২০২৩

তিন. টোকাই জীবন
মাহমুদুল মান্নান তারিফ
------------------------------------------->><<>
ছেঁড়াজামা গায়ে পরে টোকাই,
ভাবছে পথে পাত্র কিছু থোকাই।
রাতের খাবার মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি,
ভাবছে পুরো জীবনটারে ত্রুটি।
বাবা হারা, মায়ের একলা ছেলে,
চুরি করে ছ'মাস থাকে জেলে।
মাছি বসছে তারই পান্তাভাতে,
দেয় না কেউই একটি রুটি হাতে।

কুড়াল নিয়ে গেলো চলে বনে,
কানে তারই ধরলো জনগণে।
কাটবে বলে গাছেরই ডালপালা,
তার বদলে পেলো বাড়তি জ্বালা।
উফঃ টোকাইয়ের স্নেহভরা মুখে,
আবছা কালো পড়ছে শুধু দুখে।
তারে দেখি ভটের খালের তটে,
করছে ক্ষুধায় কেবলই ছটফটে।

এসো ময়না নাও একশত টাকা,
ক্ষুধার জ্বালায় মেরুদণ্ড বাঁকা!!
আমরা কতো খাদ্য কি না ফেলি!
সেইটুকু না তাদের দিকে ঠেলি!!!
টোকাই জীবন হায়রে কতো কষ্টের,
এ জীবনটা পুরোই মাথা নষ্টের।

রচনা; ১৯ জানুয়ারি ২০২৩

চার. মা'য়ের জন্যে পরাণ কাঁদে
মাহমুদুল মান্নান তারিফ
------------------------------------------->><<>
কেমনে বলো ভুলতে পারি মা'কে
মা' যে আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয়,
ভাল্লাগেনা মা'কে ছাড়া জগত
মা'কে আমার একটু দোআ দিও।

হারিয়ে গেছেন আমার থেকে মা'যে
দেখতে পাইনা মুখখানা আর তাঁর,
ঐ মা'য়েরই জন্যে পরাণ কাঁদে
পরাণ কাঁদে জন্যে মা-বাবার।

যখন ছিলাম দশ বছরের শিশু
বাবা হারা হলাম তখন আমি,
এই দুনিয়ার সব পুরুষের চেয়ে
বাবা ছিলেন আমার কাছে দামী।

পেয়েছিলাম মা'য়ের আদর-স্নেহ
আজ অসহায় প্রিয় মা'কে ছাড়া
আমারও যে বাচ্চারাও কাঁদে
তারাও হলো দাদা-দাদি হারা।

১৬ নভেম্বর ২২

পাঁচ. চলো চলো যাই ঈসালে
মাহমুদুল মান্নান তারিফ
------------------------------------------->><<>
ফুলের মানুষ জেনে আমি ভক্ত সেজি তাঁর,
তিনি হলেন প্রিয় আশেক নাবী মুস্তাফার।।
বিশ্বক্বারী ফুলতলী গো পাক কুরানের পাখি,
রাইসুল কুর্রা বলে তাঁকে আমরা সবাই ডাকি।।

ফুলকলিরা দলবেঁধে যায় ক্বিরাত শিক্ষা নিতে,
হাসতো কুসুম যেন গো হায় তাঁরই চাহনিতে।।
হঠাৎ করে নিলেন বিদায়-- ভুবন মায়া ছেড়ে,
শুনছি যখন আমার তখন শরীর ওঠে ঝেরে।।

তিনি হলেন ওস্তাদ আমার সহীহ ক্বিরাত শিক্ষার,
মন্দ চোখে দেখলে তাঁকে, মন থেকে দিই ধিক্কার।।
তাঁর বিদায়ে ভাল্লাগেনা তাঁকেই পড়ে মনে,
তাঁর জানাজায় কেঁদেছিল লক্ষ জনগণে।।

চলো চলো যাই ঈসালে- সাওয়াব উপলক্ষে,
ফুলতলীকে বাসি ভালো প্রত্যক্ষ- পরোক্ষে।।

রচনা; ১৫ ই জানুয়ারি ২০১৫

মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।