অবেলার গোধূলি
- মুহাম্মাদ শরিফ হোসাইন

আঁধার রাইতে ভাঙা বেড়ার ফাঁকে,
পরাবাস্তব,অপরিপক্ব অচিন যুবকের দীর্ঘশ্বাস!
হায়রে সমাজ,হায়রে কাল।

আছিস যারা উত্তরাধিকারসূত্রে উত্তরসূরি এ কালের,
তোরা জানা প্রয়োজন;
কোন পাঁথারে কোন আঁধারে কোনবা হৃদয় করছে ক্রন্দন,হচ্ছে রক্তক্ষরণ।

ওরা সব আকাশচুম্বী পাহাড় জয়ী,
ওরা সকল, উঁচু উঁচু শৃঙ্গের সহোদর।
ওরা ঠিক তাই ভাবে,তোরাতো বুঝিস তারপর।

ও...মা,ওগো মা,ব্যাথা যে পাই বেশ;
ধৈর্য নেই কেন বল,
দয়াল তুই ছিটিয়ে দে
একটুখানি পরিশুদ্ধির জল।
মা আমিও কি হতেম এহেন জগণ্য-রাক্ষুস;
যদি থাকতো, থাকতো যদি,
ওদের মতো সম্পদ আবোল-তাবোল।

ও মশাই বলি,সে তোমার ভাই
ওতো তোমারি ভাইপো।
সে তোমার কিছুই নয় হয়তো,
তাতেই বা কি যায় আসে?
তাও কেন করছো শুধু,
তোমার সুবিধের অতিসাজ্য বলোতো?
সুবিধে যে নয় শুধুই,
এ যে অসুবিধের পরের সুবিধে।
এ পাগল সুবিধেবাধিরা থাকুক তাবৎ অসুবিধেয় ঘিরে।
তোদের পাপক্লিষ্ট পূর্বজরা ভেবেছিলো,
তোরা ভাবছিস আজ।
তোদের পরে ভেবে যাবে,যতো কালপিট আর বদমাশ।
কি হবে?
ওরা বলে,চিরকাল রাজ্য তলানির তলে থেকে আমরা আছি খুব বেশ।

আর কি বলি ভাই!
এ যে অবেলার গোধূলিতে,
অন্ধের রাত্রি যাপন।
তোরা কি বুঝিসনি কখনো?

মানুষ নেই,
মানবতা সেতো শুধুই গল্প।
বোধ করি,সব কুলাঙ্গারের জাত;
যত সব করছে আজ এসমাজটাকে মাত।

কিভাবে বলি?
কেনই বা বলি?
জানতে কি চাও?
সময় করে বুঝতে যেও,
তোমার ঘরের শৃঙ্খলরুপী উশৃঙ্খলতার বাঁও।

ভাই-ভাই খুন-গুম কি মাথায় আসে?

কলুর বলধ হয়ে,একান্নবর্তী পরিবারে
খেঁটে গেলো যে ফেরেশতার মতোন ভাই,
তারই বিপদ পুঁজি করে,
ভিটেখানিও ছিনিয়া নিলিরে চিরতরে!
যদিও বা পারতি আন্তরিকতা ঢেলে সারিয়ে দিতে।
চারপাশের যত ভু-পতি দেখি,
সবই লাগে তোর মতো।
সবাই দেখি করছে হিসেব,
ওর মতো বোকাদের ভুল আছে যতো।

এমন করেই ওদের আপনার আপনটুক কেঁড়ে নিয়ে,
যার কাছে যেতো যতো;
সেই হারামিই চাইতো তার দলে ওদের মতো,ভীরুক শত শত।

কখোনো কি ভেবেছো বসে,তোমার প্রিয়া ধর্ষিতা হয়ে-
কাঁদছে ঝোপে-ঝাড়ে!

দেখেছো নিশ্চয়ই কতো বৈধ নর-নারী'র জুটি,
অবৈধ হয়ে যেতে।

স্বাধীনতার পরেও কেনো সতীত্ব অর্পিত হবে?
খেঁটে খায় বলে,তারটা শরীর নয়কো?
তোরাই কেন দাবীদার ভদ্রলোক আপাদ-মস্তক?
তবে যে আবার করছিস বাঁকিদের হেনস্ত-অপদস্ত।
ভেবেছিস তোরাই বুঝিস,তোরাই পারিস;
তোরাই জানিস,তোদের উপর আর কেও নেইকো।

মূর্খ মাথায় পুষে রেখেছিস,কুটিলতার অস্ত্র।
যেই না মচকালো কারো,অমনি ভেঙ্গে দিলি আরোও।
আলাভোলা বলে গিয়েছিস সেরে,
অতীত ব্যাথার পাতায়।
ওদের এখন আছে শিক্ষার মতো বড় অস্ত্র।
কেনো যে তোরা বুঝেও বুঝিস না,
তখন আর এখনের পার্থক্য।

যাই হউক পৃথিবীটা হয়তো যা খুশি তাই কারো,
ওরাই বাঁ কম যায় কিসে?
তোদের যা খুশি তাই হারিয়ে যাবে,
ওদের হৃদ-মসজিদের অভিশাপে।
ওদের যা খুশি তাই থেকে যাবে,
নিষ্পাপ লেখনী'র নীভে-নীভে।

আমরা ভাববো,করবো কিছু একটা;
এখন জানি না কি?
এখন শুধুই হৃদয় ভরা ঘৃণা তোরা জগণ্যদের জন্যে পুষি।
আর কিছু না হউক,
আমরা যদি লক্ষ্যে থাকি স্থির;
দেখেনিস এই ছোঁকড়ার দল,
তোদের করবেই করবে বিবর্ণ,অস্থির।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।