জেলের গন্ধ
- আশরাফুন নাহার

হাতের কাঁচের চুড়ি দুটি বাজত নিস্বন সন্ধ্যাপ্রাতে,
ভেঙে গেছে সেই রাতে,
পরেছে শোভাহীন
লোহার শিকল সেই হাতে।
কোমরের দড়িতে জেলের গন্ধ
দড়ি টেনে বলে,চল ফাবু তোরে
নিয়ে যাব সাথে,
পালাবার পথ বন্ধ।

স্বামী হত্যা দায় কাঁধে দিল তবু পড়শির গাল,
এযে ফাবিহার চির উন্নত কপাল।
কোন শাপে আজ তার এমন তর হাল?
শ্বশুর সাজায় মিথ্যে সাক্ষীর চাল।
আদালতের অকাট্য আইনে
একটু ছাড় রেহাই পাইনে।
অবলার তরে এতটাই নির্মম।
"খুন করেছ নিজ স্বামীকে" এবার খাট ২৫ বছর জেল সশ্রম।

নির্বাক সে,
চোখ দু'টো কেবল ভাসে।
কোলের মেয়ের মুখটি ভেবে কান্নার ঢেও আসে।

কারাগারে পুরে তাকে পুলিশ পাহারারত
দুঃখিনীর দিন চৌদ্দ শিক ধরে ক্ষত বিক্ষত।
ফসকা ফুলে ফাবুর হাতে দিনভর ভারি শ্রম
কেঁদে কেঁদে জল শুকায় দৃষ্টিও তার কম।
অলস দেহ এলিয়ে এক কোনে
মেয়েটির মুখ ভেসে উঠে ক্ষণে ক্ষণে।
বায়ু চলাচলে ছোট্ট কুঠুরী ফাঁকে
এক ফালি চাঁদ পুরোনো স্মৃতি নকশি কাঁথা আঁকে।

ফাবু ফাবুরে আমার বউ
কই গেলি রে তুই।
মধুর ডাকে
বাসর রাতে ভরে স্বামীর সোহাগটাতে।
ভাঙা চালের ফুটোঢ় ফুটোয় জ্যোৎস্না ধরে রাখে।

ওমন আদর সোহাগ দিনে দিনে হয় ভীম রাগ,
বাপের বাড়ির টাকা এনে দে নইলে আজই ভাগ।

জুয়ায় হেরে মাতাল মত্ত
বাসায় বউরে মারে,
অসহায় ফাবু এ ব্যথা লুকায়,কয় না কো কারে।

সয়ে গেল দুঃখ ধকল,
ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে সকল।
হারিকেনের কাঁচ ভাঙে বউরে পুড়াতে দরুন,
নিজেই পুড়ল সেই আগুনে
নিজেই হল খুন।
আহারে লোভী হায়রে টাকা
ভুতল গেল সবই
স্বামীহারা ফাবুর দুনিয়া ফাঁকা
তবুও খুনী অপবাদ তারই।

কাজের ভীড়ে মেয়ের ছবি দেখে বুক ভাসায়,
বছর শেষে একটি পলক মেয়েকে দেখার আশায়
এভাবেই দিন কেটা যায়


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।