এই গাঁও আর সেই গাঁও নাই
- আশরাফুন নাহার

মা তোর এই গাঁও আর সেই গাঁও নাই

মা তোর মেঠো পথটায় ধূলা উড়ায় গরুরগাড়ি হৈহুট হুট গাড়িয়াল ভাই পথরে বাঁধে গানে,

"যায়রে গরু গাঁও ছাইড়া উড়াল দেয়রে আসমানে,
মন ওঠে ধরফরাইয়া আমায় ফেলায় কোনখানে।
ও রে কেউ লাগাম টাইনা ধর,
নয়া বউ কানতে কানতে ভাসাইলো রে ঘর।"

সেই গরুর গাড়ি সেই গাড়িয়াল আর মেঠোপথটা পিচের রাস্তায় কোলাহল আর যান্ত্রিকতায় ঢাকা পড়ে যায়
গাড়িয়াল এখন ট্রাক চালায়।

মাগো তোর স্বর্ণালী আঁচল বিছানো ধানের ক্ষেতে মেতে ওঠে কৃষাণ ভাই শস্যসুখের গানে,

"ঘরে আইব নতুন বউ,
মেঘরাজা তুমি দূরদেশে রও,
ফসলে উঠান ভরবো,ভরবো সাধের গোলা,
উথালে ঐ দখিন বাও,
আর কটা দিন সবুর রও,
তুমি কালাচান ভোলা।"

আর সেই ধানের ক্ষেত নাই মা সেই কৃষক ফসল ঘরে তোলার আনন্দ আর না পায়,
কৃষক এখন শহরে কল চালায়।

এখন আর রাখাল বাঁশি ধরে না,
কিশোরী বিউনী নেড়ে মুচকি হাসে না,
পুকুরটা ভরাট হয়ে গেছে শ্যাওলায়,
ঝোঁপঝাড়ে ঝিঁঝিটার গলাও আটকে যায় কীটনাশকে,
দালান তুলছে ধানক্ষেতের উপর আর
শিমুলগাছের ডালগুলো আজ তাদের অসহ্য লাগে, বটের ছায়াটা বড্ড বেমানান তাই চিহ্ননাশ করে ছাড়ে,
শহর করবে নির্মান ডোবার উপর সাঁকো ফেলে মজবুত ব্রীজ গড়ে,
কারেন্ট এসেছে প্রদীপ টা ছুঁড়ে মারে,
মাটির কলস,উনুন,লাঙল আর ঢেঁকিটারে
রেখে আসে জাদুঘরে,
দাদার ঝুলিতে রূপকথা নাই বিজ্ঞান বোঝায় নাতি নাতনিরে,
যাত্রার পালার কান ঝালাফালা লোকগীতি ফালতু অতি,লালন হাছন কে শুনে রে,
নদীতে বৈঠা হাতে মাঝি কইরে দখলে লঞ্চস্টীমারে,
সবুজ দেখি না যে!
কৃত্রিমতায় গাঁও যে তোর শহরের মতো সাজে।

মারে এই গাঁও আর সেই গাঁও নাই।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026