প্রেমের জয়গান
- আশরাফুন নাহার

পুষ্প সৌরভ মাখিয়া মাতে বিশ্ব
পুষ্প কি পায় তাতে সে তো নিঃস্ব।
পরের তরে সকলি দিয়া
নীরবে পুষ্প বাঁধিয়া রাখে হিয়া।
তাহার রূপ রঙ গন্ধ বাহার
গ্রহনে হৃদয় ধন্য হল যাহার
সে তো ভুলেও চায় না ফিরিয়া
ফুরালে আশা ফিরে যায় অলি
আজ কেন তবে তার কথাই বলি
পুষ্পকে এত ক্ষীণ তুচ্ছ করিয়া।

যে তরঙ্গের ভারে নত স্রোতস্বিনী
কতশত ঢেউয়ে বুক বাঁধে তরঙ্গিনী
সে তো জানে না তার বুক চিরিয়া
বয়ে যায় কত চোখের পানি
নদী যার কথা কয়
যার তরে তোলে সুর
সে সাগর বুঝি আছে অনেক দূর
মিলিতে সখা সনে
নদী বয়ে যায় নিরজনে
অপেক্ষার পালার কি নাই কোন শেষ?
ঢেউয়ে ঢেউয়ে সাগরজল অতল অশেষ।

অসীম সীমানা নিয়ে অসহায় আসমান
চাহিয়া চাহিয়া নিরবে করে আওভান
কোন দিগন্তের ডাকে মেঘমালা চলে যায়
গগনের ফেলিয়া যেতে সে কি সুখ পায়
প্রেমের মূল্য কি জানে না মেঘমালা
গগনেই ঠাঁই তবু বোঝে না তার জ্বালা
বেচারা গগন নিয়ে তার একেলা ভুবন
ক্ষনিকের সাথী লয়ে গাঁথে প্রেমমালা।

জানি সে তো অটল গিরি রহে নিশ্চল
গিরিমালা ভাবে কেমনে বায়ু বয়
চঞ্চলা চপলা বায়ু কেন এত উতলা রয়
শিহরিত পাহাড় স্পর্শে তাহার
অজানা বাঁধনে বাঁধিয়া রাখিতে চায়
তবে কেন সে হাওয়া
বোঝেনা তার কি চাওয়া
অচলারে আরো উতলা করিয়া
দূর দিগন্তে যায় সে চলিয়া
অটলবুকে বেদনা জড়িয়া
কত দিবষ রাত্রি যায় কাটিয়া
শুধুই তাহারে স্মরিয়া স্মরিয়া।

অকূল পাথার রচিয়া তাহার
গদ্য কবিতা মহাকাব্য গুলি
বিফল হবে কি তার সকল রচনাবলী
শোকের সমুদ্র আরো গভীর করি
যদি বা এ জনমে নাহি মিলে দেখা,
কাটিবে কি কেবলই একা একা
দূরে থাকি তুমি হাসিবে আকাশ
তোমার কি নাই ভালবাসার অবকাশ!
মোর জলরাশি সকল উত্তাল করি
চাহিয়া তার পানে যেন আমি মরি।

গুনগুন গুঞ্জরনে মাতায় পাখি,
কি রূপ দেখে মেলিয়া ঐ দুটি আঁখি!
শাখায় শাখায় ডালে উড়িয়া বেড়ায়
বৃক্ষ তারে কভু কিছু না কয়,
কেন এই নিরব প্রেমবাঁধনে বাঁধিলে পক্ষীকূলে
যেখানেই যতদূরে যাই ফিরে আসি মনভুলে।
সজীব প্রেম কেন বোঝেনা বৃক্ষলতা
গানেগানে কানেকানে বলে যায় সেই কথা।

দিবস গেলে রাত্রি এলে ছড়ায় আঁধার
সেই আঁধার মোর ম্লান করে দেয় চন্দ্রমা,
চাঁদকে দেখে রাত্রি কাঁদে বেদনায় বিধুর
প্রকৃতি ঘুমায় রাতের ঘুম নেই হেরিয়া প্রিয়তমা
চন্দ্র যেন সারা পৃথিবীর সুন্দরী অধিপতি
নিশিরাত জাগে তার আলোর নেশায় তাতে কি ক্ষতি।

জোনাকিরা দ্বীপ জ্বেলে
সুখের পাখনা মেলে
জমাতে চাহে ভাব রাতের সনে
প্রিয়তম সনে মিলিব কোন ক্ষণে
রাত কাটিয়া যায় তারি অপেক্ষায়।
আবার কখন আসিবে রাত্রি
জাগিবে রাত আলোর যাত্রী।
কি সুখের তরে হায়
জোনাকিরা ভালবেসে যায়।

দিবা অবাক হয়ে দেখে রবিরে,
কেমনে আঁকিবে তার প্রিয় ছবিরে।
সূর্য সে তো আলো দেবতা
অভাগিনী দিবস মানে তা
তারে কাছে পাওয়ার আশে
দিবস তারই রৌদ্রকিরণে ভাসে।
সূর্য দগ্ধ করিয়া তারে
রৌদ্র যেন এক বিন্দু না হারে।
দিনের পরিনাম দেখিয়া তবে
সূর্যদেবতা যেন শান্ত হবে।

পতঙ্গ বলে ওগো অগ্নিশিখা
কেন জ্বালো আলো দাও না দেখা।
তব আগুন যেন ফাগুন আনে,
পতঙ্গ মাতে তারি প্রেম গানে,
মাতাল হয়ে ভাসিয়া যায়
নিজেরে আগুনে পুড়ায়ে হায়,
মরণে পতঙ্গ কি যে সুখ পায়,
এত নিষ্ঠুর তুমি হলে বহ্নি
কেন তব এত কঠিন রূপ
তব বক্ষে কেন ছড়ালে মাতাল ধুপ।

তেমনি সকলে প্রেমের তরে
দিয়াছে তনুমন উজার করে
কেহ বাঁচে আশায়,
আবার কেহ অকালে মরে
আমারো কেন সে সাধ জাগে,
মরিতে তোমার প্রেম অনুরাগে।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।