ফুলির বাপের জবানবন্দী
- রফিকুল ইসলাম রফিক
ফুলির বাপের জবানবন্দী
তোর মনে আছে ফুলির মা
বাড়িততে যাওয়ার সময় রোজ সকালে
আমারে ছাড়তি চাতিসনে
কতিস দু’একদিন কাজে না গিলি কি হয়?
আমি কতাম-পাগলী তাকি কি হয়
কাজই আসল কাজ ছাড়া কি বাঁচা যায়?
তুই চুপসে জাতিস
হাওয়া বেরোয় যাওয়া বেলুনির মতো
আমি দেখতাম সেই আন্ধার মুখিও
ঝিলিক দিতো চান্দের আলো।
তারপর একে একে ঘরে আ’লো ফুলি, তুলি ও খোকন
আমাগের মাঝের সেতুর বান্ধন
ফুলিরে বিয়ে দিলাম মাত্তর ফাইভ পড়ায়ে
তুলিরে আর এক কিলাস বেশি
খোকনরে কথা শুনোতি পারিনি
তুই আমি আমরা কেউ
ম্যাট্রিক পাশ যদিও দেলো
আই এ ফেল তার হয়েই গেলো
কি করবো অন্য বাপ-মাগের মতো
আমাগের তাগত ছিলো না সিরাম
তাই খারাপ হইছি তুই আমি ওগের কাছে
তোর কি আর দোষ সব ছিলো আমার।
সারাজীবন শুধো পরের খাটনি খাটেই গিছি
বিনিময়ে যা পাইছি তা দিয়ে শুধো
পেটটাই চলেছে আর কিছু না
তুই তো সবই জানিস।
আমি জানি তোর কোনো চাওয়াই আমি
পূরণ করতি পারিনি এই জীবনে
মনের কষ্ট মনেই রয়ে গেছে তোর।
এতো কিছুর মধ্যিও তুই আমারই ছিলি
খোকন কিছু কলি তুই আগলে দাঁড়াতিস
কতিস তোর বাপরে কিছু কসনেরে খোকা
ওর জীবনডা বড় কষ্টের বাপ
আমি অবাক হয়ে দেখতাম তোরে
ভাবতাম কী মায়ার বাঁধনে তুই বাধিছিস আমায়!
মনে মনে কতাম-শুকরিয়া খোদা-
এ কী অমূল্য সম্পদ তুমি দিছো গো আমায়
সেই তুই আজ দিনি দিনি একি হয়ে গিলি!
ক্যান আজ আমারে তুই দুরি ঠেলে দিলি
জানি আমার সব না পারাই এর মূল
পাসনি ঘর পাসনি জীবনের কূল
তবুও তো এই অভাগারেই পরাইলি সুখীর বকুল
আমি জানি আমি তোর তুইও আমার
আর অভিমান করে থাকিসনে
আমারে তুই মাফ কর
আমি বাঁচতি চাই
কষ্টের এই মানুষটার আকুতি শোন
আমার হাত দুটো ধর।
লেখাটি আঞ্চলিক ভাষার মিশ্রণে হওয়ায় আঞ্চলিক শব্দগুলির অর্থ উল্লেখ করলামঃ বাড়িততে=বাড়িথেকে,ছাড়তি=ছাড়তে,চাতিসনে=চাইতিনা,আ’লো=এলো,মাত্তর=মাত্র,সিরাম=যথেষ্ট,কতিস=বলতিস, বাধিছিস=বেঁধেছিস,কতাম=বলতাম,পরাইলি=পরিয়েছিলি,সুখীর=সুখের।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।