তোরা এমন হয়ে গেলি কেন রে?
- কাজী ফাতেমা ছবি

কতদিন বন্ধুদের ফোন পাইনা
দু:খ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে থাকি অপেক্ষায়
একটা ফোনের জন্য!
মুঠোফোনে বাজে না এখন আর সেই সুরেলা রিংটোন!
তোরা এমন হয়ে গেলি কেন রে?

আগে হঠাৎ করে যখন তোদের ফোন আসত
ভিড় করতো এসে কামরাঙা দুপুর
মনের মাঝে বেজে উঠত ...
রিনিঝিনি বেগুনি জারুল ফুলের শুকনো নূপুর,
বৈকালের পুকুরপাড়ের শুভ্র মেঘমালা
খোয়াই নদীর শুকনো চিকচিক বালুচর;
বুকের জমিন খালি করে নেমে যেত বয়সের ভার
কপালের ভাজ করা রেখায় ভর করত টানটান উত্তেজনা
চোখের কোণের নদীর ধারা,
মনের কোণে পুষে রাখা বিষন্নতা,
চাপা কষ্ট,রক্ত ছুপ আর্তনাদ
আর অনেক অনেক দীর্ঘশ্বাসগুলো হয়ে যেত নিমিষেই উধাও।

শুন্‌ না -হঠাৎ-ই যদি তোদের ফোন আসত
বাঁধাধরা সব নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে
আমি যেন জলতরঙ্গের নতুন সুরবাহার,
স্বামী,শাশুড়ি-সন্তানদের জোড়া জোড়া নির্বাক চোখ এড়িয়ে
মাঠ-ঘাট, ব্রিজ-সাঁকো, শহর-নগর, বাস-ট্রেন, নদী-খাল ভেঙ্গে,
পাকদণ্ডী পথ পেরিয়ে পৌঁছে যেতাম সেই উপত্যকায়।
যে উপত্যকায় রঙধনু বৃষ্টি ঝরতো
সেখানে বাস করতো আমার একান্ত মেয়েবেলা
ফুটে আছে ফুলের মতন,মেলে আছে পাখা পাখির মতন
যেখানে ছলাৎ ছলাৎ উপছে পরতো উচ্ছ্বাসের ঢেউ
সেই ঢেউ এই শহরে নেই রে-তোরা জানিস?
০৩ জানুয়ারী ২০১৫

শব্দার্থ
(পাকদণ্ডী-যে পথ ঘুরে ঘুরে পাহাড়ে উঠে গেছে-এমন পথ)


২৯-০২-২০২৪
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।