ভূতের কারবার
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট

যারে দেখিনি হায় সে যেন স্বর্গের দূত ,
যে আদর করে কাছে থাকে লাগে তারে ভূত ।
রং নাম্বারে কল দিয়ে ভোলা নারীর কন্ঠ শুনে ,
নিদ্রা তার আর আসেনা কভু রাতে দু'নয়নে ।
খানিক পর পর কল দেয় সে মধুর হাসি মুখে ,
উতলে পড়ে প্রেম যেন তার সারা অঙ্গে বুকে ।
খাইতে গেলে টেলিফোন শুইতে গেলেও তাই,
আপন স্বজন সব থাকতেও কেউ যেন তার নাই ।
শ্রুতি মধুর কন্ঠ শুনে পরাণটা তার যায় ফেটে ,
ঘরের বধূ ফোন করিলে লাইনটা দেয় কেটে ।
সংসারেতে ঢের অনটন সন্তান পড়ে ইস্কুলে ,
ফোনের নারীর তরে তার থাকে সদা দিল খুলে ।
মধুর ভাষায় নারী যবে চাহে স্বর্ণের দুল শাঁখা ,
বেতন'টা পেলেই সে পাঠিয়ে দেয় সব টাকা ।
সংসার তার দিনে দিনে অচল হয়ে পড়ে ,
সন্তানের বন্ধ পড়া, বধূর কর্ম অন্যের ঘরে ।
টাকা চাইলে ভোলার জবাব কর্ম তার নাই ,
যেমন খুশী তেমন থাকো, নিজের পেট বাঁচাই ।
এমন করে কয়েক বছর শূন্যে সে উড়াল টাকা ,
একূল ওকূল সব খাইল জীবন করলো ফাঁকা ।
ফোনের নারী লক্ষপতি সে ভোলার অবদানে ,
মূল্যবান ড্রেস পড়ে আর স্বর্ণ ঝুলায় নাক'কানে ।
আস্তে আস্তে ফোনের নারী হয়েছে বিশাল মার্চেন্ট ,
খুঁজছে স্বামী কোটিপতি অথবা কমিশন সার্জেন্ট ।
অবশেষে পাইল নারী কোটিপতি স্বামী ,
ভোলাকে সে জানান দিলো ভোলার চে দামী ।
জানান দিলো আরও সে ফোন করতে মানা ,
স্বামী তার জানতে পারলে কেটে করবে আটখানা ।
ভোলা কাঁদে নিরিবিলি না পারে সে সইতে ,
না পারে সে ভূতের কারবার কারো কাছে কইতে ।
এমন ভূত বঙ্গ দেশে হাজার দেখতে পাই ,
হিসেব কষতে পারেনা বলেই সবকিছু সে হারায় ।।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026