বিনিময় পেতেই হয়
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট

ছেঁড়া ছেঁড়া এলোমেলো ঘরবাড়ি গ্রাম শিকারপুর ,
পশ্চিম-দখিনা কোণে একটি ঘরে থাকিত শুক্কুর ।
একটিই ছেলে নাম জব্বার বয়সে জোয়ান হলে ,
ঝুলিয়া পড়িল বিয়ের মালা আর বধূয়া তার গলে ।
শুক্কুর আলীর বয়স বেড়েছে সত্তর আশি তো হবে ,
বড়োজোর হলে বছর দশেক হয়তো সে আর রবে ।
পরের ঘরে শ্রম দিয়ে তার জীবন চলেছে এতকাল,
শ্রমের বিনে জীবনে তার আসে নাই কোন আকাল ।
ভাবিল শেষে বয়স হয়েছে ছেলেরে দিয়ে সে বিয়ে ,
সুখেই রবে সংসারের ভার ছেলের হাতে তুলে দিয়ে ।
হয়নি তার সেই সুখে থাকা আর ...
এতকাল পরেও ভেবে পাইনি দোষত্রুটি ছিল কার ?
বলে যাই তার জীবন কাহিনী যেটুকু আমি জানি ,
ছেলের বউয়ে ভাত দিতো তারে ছেলে দিতো পানি ।
পানি পান করে ঢেঁকুর তুলতো ভাত দিত'না পেটে ,
ছেলের বউয়ে কষ্টে থাকত বুকটা যেত তার ফেটে ।
ছেলেকে সে খুব ভালো বাসে , ছেলের বউকে নয় ,
ছেলের বউকে ফিরে দেখে'না ছেলেকে দিত হৃদয় ।
ছেলের বউ রাতে ঘরে শুয়ে ছেলের বুকে জড়ে ,
বাবার আচরণ করে উচ্চারণ বেদনার নীল সুরে ।
এমন করে রোজ রোজ শোনে ছেলে তার শুয়ে ঘরে ,
বিনা অপরাধে অপরাধী শুনে অন্তর কাতরে মরে ।
বাবাকে সে জিজ্ঞাসিলে বাবার উত্তর যে'টি ...
জন্ম দিয়েছি তোরে'রে বাপ বউ সেতো পরের বেটি ।
বছর শেষে ঘরে আসিল নবজাত সন্তান জাবের ,
শুক্কুর আলীর ব্যারাম আসিল যক্ষ্মা আর হাঁপের ।
সেই সময়ে হইলে কারো টিবি বা যক্ষ্মা ব্যারাম ,
হারাম হইত খানাদানা আর ঘরে থাকার আরাম ।
ঘরের বদলে খামারঘরে অথবা কোন নির্জন স্থান ,
একলা রাখিত সেই স্থানে করিত না কেউ সন্ধান ।
কণকণে শীত ঠনঠন কাঁপে শুক্কুর একলা খামারবাড়ি ,
ছেলে সেথা শুধু দু'বেলা খানা দিয়ে আসত তাড়াতাড়ি ।
খেলো... না খেলো এমন হদিস নেবার অবকাশ নাই ,
কি যেন ভয়ে সব মানুষ যেন বলিত পালাই পালাই ।
তিথি পার না হতেই শুক্কুর অবহেলায় গেলো মারা ,
তাড়াহুড়ো করে কবর দিয়ে করিল যেন দায় সারা ।
সেই কষ্ট আজো আমায় ক্ষণে ক্ষণে আঘাত হানে ,
আজো আমি বুঝি নাই কিছু ... কি ছিল উহার মানে ।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026