সিদ্ধান্ত
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট

শ্রমের একটা সীমা থাকে ...
আমার বেলায় এই সীমানার মাপকাঠি করা হয়নি ।
শ্রম দিতে দিতে কঙ্কালের প্রত্যেক কশেরুকা যেন
ঝিঁঝিঁ পোকার মতো ঝিঝি করে ডাকে পঁচিশ ঘণ্টা ।
দিবস রজনীর চব্বিশঘণ্টার চেয়ে এক ঘণ্টা বেশী ডাকে ।
কিছুই যেন করার নেই ।
মাঝে মাঝে মন চায় বনে গিয়ে নিজেই ঝিঁঝিঁপোক হই ।
তাতে কি সুখ মিলবে ? সুখ কি? তাহা ঝিঁঝিঁপোক জানে ?
দুখের সংজ্ঞাও তো তাদের জানা নেই । জ্বালা রে ।
সুখ দুঃখের সংজ্ঞাতেই সংজ্ঞাহীন হয়ে যাই মাঝে মাঝে ।
যত সব প্যাঁচ লাগায় এই পেট । মন চায় পেটেরে দু'চার
দশটা লাথি মারতে পারতাম । কিন্তু সমস্যা হল পেট পর্যন্ত
পা ওঠে না । মাঝে মাঝে মন চায় কিছু পাথর ঠেসে ঢুকাই ।
ক্ষুধার জ্বালা যেন এই জনমে আর না পোহাতে হয় ।
এই ক্ষুধা জিনসটা কোথা থেকে আসলো ?
আর সে আছে তাতে আপত্তি নেই । সেই বলে এইভাবে ?
দিতেই নাই দিতেই নাই । আর সে যদি পাথর সইতো
তাতেও আপত্তি ছিল না । নাহ আমার হিসেবে গোলমাল
চেপে বসেছে । পাথর খেতে পারলে তো এই পাথর আর
ফ্রি পাওয়া যেত না । ঘরে ঘরে পাথর নিয়ে পাথরযুদ্ধ
শুরু হতো । আর পাথরের তো চাষবাস করা যেত না ।
কষ্টের বিনে হলেও শস্যাদি চাষ করে বেঁচে আছি ।
পাথর খাদ্য হলে শ্রম দিবার জায়গা না পেয়ে
ঘরণীর সাথে চব্বিশ ঘণ্টা থেকে থেকে প্রতি মাসে
একজন করে সন্তান জন্ম হতো । পৃথিবীতে পা ফেলার
জায়গা থাকতো না । পিঠে পিঠে চড়ে থাকতো ।
ধুর এতো গোলযোগের চিন্তা ভাল্লাগে না ... আর ।
প্রভু তুমি মরণ দাও । মরণই ফাইনাল সিদ্ধান্ত ।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026