অকৃতজ্ঞ (৬)
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
গাঁয়ের আসমত খুঁজে পায়না পথ... বিষণ্ণে দিশেহারা ,
যন্ত্রণায় বারেবার আঁখি ঝরে তার... জীবন প্রায় সারা ।
গাঁয়ের জমিদারে উদ্ধার করিতে পারে এ দুর্দশা দুর্গতি ,
হাতে পায়ে ধরে মন তার জয় করে চাকরী মিলে যদি ।
শুকনা মুখে মধ্যাহ্নে ঝরায়ে নীর নয়নে আকুতি ভানে ,
অযুত অজুহাত মিলেনা ভাত শুনাল জমিদারের কানে ।
ঘরে সবে অনাহারে কাঁদে জারেজারে হেরিয়া বুক ফাটে ,
তবু নিই মেনে খোদা যে নেয়না টেনে এমনে দিন কাটে ।
তোমার দরবারে রক্ষা করিতে পারে জীবন-টানাপোড়েন,
এ হতভাগারে রাখিলে তোমার দরবারে যদি দয়া করেন ।
জমিদার বাবু হয়ে গেলেন কাবু তৎক্ষণাৎ দিলেন চাকরী,
শর্ত দিলেন কড়া নামায পড়া... মস্তকে দিলেন পাগড়ী ।
শতবিঘা জমি তাঁর দিলেন তারে ভার দেখালেন ফাঁকে ,
তারে দিলেন বিঘা দুই চষিয়া ভুঁই অভাব যেন না থাকে ।
সাজি ম্যানেজার নিয়ে সব ভার জমিন সব দেখে রাখে ,
কে করেন চাষ কয়বার কয়মাস কোন দাগে কোন বাঁকে ।
প্রথম ছয় মাস নিরিখ নির্যাস খুঁটে খুঁটে হিসেব বুঝে আনে ,
গোলা ওঠে ফুঁসি জমিদার বেজায় খুশী ভরে গোলা ধানে ।
অবিরাম হাল চাষ জমিদার মনে জমে বিশ্বাস, পুঙ্খরূপে
বসে রহেন খাটে জান না আর মাঠে দেখেন না চুপে চুপে ।
কথায় আছে নির্জনে রূপবতী সঙ্গোপনে বেসামালে লোভ ,
মন্দিরের পূজারী চুরি করে দানহাঁড়ি বেসামাল যে ক্ষোভ ।
আসমত এমন পেয়ে জমিদারের খেয়ে খোঁজে নব্যভোগ ,
প্রজার ভুঁই ছিনিয়ে নিই আপনার দু'বিঘাতে করি যোগ ।
এমন করি এক যুগ ধরি তিলে তিলে গড়ি স্বর্ণকোমল ,
জমিদারের আড়ত করি শূন্য-গারদ করি যে চূর্ণ বিকল ।
বয়সের ভারে কাবু জমিদার বাবু না পারেন চলাফেরা ,
ভাবনা শুধু কবর রাখেন না জমির খবর হিসেব চুলচেরা ।
একদিন ভোরবেলা মৃত্যুর সনে করে খেলা গেলেন হেরে ,
না ফেরার দেশে পরিশেষে গেলেন চলে জীবন দায় সেরে ।
আসমত চায় জমিদারী বলে সব তারই, সব জমিজমা ...,
জমিদারের ছেলে এসে পরিশেষে ঘরে ডাকে মোকদ্দমা ।
আসমত হেরে গেলে জমিদারী ফেলে স্বর্ণকোমলে ফিরে ,
দেড় যুগে সে উঠিছে যে শীর্ষে অধঃতলে নামায় কোন বীরে ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।