অকৃতজ্ঞ (৫)
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট

রিক্সাচালক ইয়াকুব আলী বিদেশের কথা শুনে ,
আহার নিদ্রা সব ভুলিছে খুশীর ব্যঞ্জনা তূণে ।
জমিজমা তার নাই কোন কিছু এক কাঠাতে ঘর
বিকিবার লাগি লোক ধরে যায়, করে সে দরাদর ।
দারা পুত্র শ্বশুর বাড়ীতে রাখিবে সে কিছুকাল ,
বিদেশ গেলে বিদেশী ডলারে ফুরাবে সব আকাল ।
গাঁয়ের মণ্ডলের হাতে পায়ে ধরে বিকিল ঘরখানি ,
ন্যায্য দামেরও বেশী নিলো সে বিদেশ-ছুতো টানি ।
সব চুকে সে ঘর ছাড়িল বিদেশে জমালো পাড়ি ,
চোরাই পথে বিদেশ আসিলো জল দরিয়া ছাড়ি ।
বিদেশ আসি দালাল খপ্পরে পড়িল ইয়াকুব আলী ,
হাতে গোনা টাকা খানাদানাপিনা সব হয়েছে খালি ।
দাদালের হাতে বাঁধা ইয়াকুব, বিকিবে তারে দামে ,
নগদ কিছু ডলারের বিনে জড়ে দিলো এক কামে ।
কাজ করিবে বেতন বিনে খানা পাবে তিন বেলা ,
যেথা কর্ম সেথায় আহার সেথা'ই যেন তার ভেলা ।
সপ্তম তিথি পার হয়ে গেলে দেখা মিলে বাঙালীর ,
করুণ ইতিহাস ভেসে ওঠে তার বাঁধ মানেনা নীর ।
পাশের গাঁয়ের হিকমত আলী ছিল ওই পরদেশে ,
খোঁজ মিলে তার বাদানুবাদে নম্বরও মিলে শেষে ।
রাতে রাতে সে করে যোগাযোগ ক্রন্দনে বুক ফাটে ,
বাবাসোনা তুই উদ্ধার কর অনাহারে দিন যে কাটে ।
হাজার আকুতি হয় না সহ্য হিকমত নিল ঠিকানা ,
টেক্সি নিলো সে শত দাম দিয়ে চৌ-ঘণ্টার বিড়ম্বনা ।
রাত্রি গভীর শনশন করে জনমানবহীন পথঘাট ,
ইয়াকুব আলী দোয়া দরূদ পড়ে হয়না যেন বিভ্রাট ।
সব বাঁধা পেরিয়ে মুক্তি পেলো দুখী ইয়াকুব আলী ,
হিকমত আলীর বাসায় এলো হাসি তার মুখে হালি ।
কয়েকদিন গেলে কাজ মিলে গেলো বেতনাদি বেশ ,
টাকার মুখ দেখিয়া ইয়াকুবের মনে নামিলো রেশ ।
হাতে জমিলো কিছু টাকা কড়ি নজর গিয়েছে ঘুরে ,
বাড়ীতে সে পাঠায় না কড়ি মাসান্তে যায় সব ফুরে ।
টাকা'টা সে কিবা খাতে লাগায় হিকমত জিজ্ঞাসিলে ,
আর চিনে না হিকমতকে, থাকে না আর মিশেমিলে ।
একা বাসা নেয় টাকার গরমে পতিতা আনে রোজ ,
দারা পুত্র অনাহারে রয় , মিলেনা একবেলা ভোজ ।
উপায়হীনা পত্নী তার দিশেহারা হয়ে পড়ে ...,
বাবা মার গালি শুনে হালি হালি নিরুপায়ে ভিক্ষা করে ।।


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026