অকৃতজ্ঞ (৩)
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
পরদেশ নামে ক্ষেতের খামারে কাজ করে যায় সামাদে ,
যত আয় করে সব'টা তার পাঠিয়ে দেয় ভাইয়ের হাতে ।
মাস শেষে তার খাবার থাকেনা ঋণ করিয়া চালায় দিন ,
তবু ভ্রাতার কাছে খবর জানায়, আছে সে সুখের অধীন ।
পঞ্চ ভ্রাতা বাড়ীতে তার একলা সামাদ পরদেশ কাটায় ,
খেয়ে না খেয়ে যতদূর পারে সব'টা টাকা স্বদেশে পাঠায় ।
টাকা পেয়ে ভ্রাতা রাজহংস খায় , খায় রসগোল্লা সন্দেশ ,
মাস শেষ হলে থাকেনা যে আর পাঠানো টাকার নিকেশ ।
জমি কিনে ভ্রাতা গোপনে গোপনে পায় না যে কেহ টের ,
সামাদের কাছে খবর আসে টাকা পাঠাতে হবে যে ফের ।
ভ্রাতা কিনে জমি খবর পাঠায় সামাদের নামে হচ্ছে ক্রয় ,
সে জমিনে দালান তুলিলে সামাদের হবে আজনম আশ্রয় ।
খুশীতে সামাদ পুরো দিশেহারা একবেলা থাকে অনাহারে ,
আগে যা দিতো তার'চে বেশী যোগে পাঠায় যতটুকু পারে ।
যত টাকা পায় নিত্য নতুন জমিন কিনে সহোদর ভ্রাতা ,
সামাদের নামে হচ্ছে বাড়ি পৌঁছে দেয় বরাত হিসেব খাতা ।
কয়েক সাল পাড়ি দিলে সে চালাতে পারেনা যে দেহ তার ,
বাড়ি আসিবে পৌঁছে দেয় সে অযুত খবর নিযুত আবদার ।
ভ্রাতার ক্ষুধা মিটেনি অনেক, সামাদের আসাতে রুদ্ধ বাক ,
খবরের পিঠে খবর চড়ায় সামাদ তুই আর কটা দিন থাক ।
ভাইয়ের কথা না ফেলে সামাদ কাটায় আরো দু'এক সাল ,
আধমৃত প্রায় সামাদের জান পারেনা আর সে দিতে সামাল ।
ধড় চলেনা...জান চলেনা... সামাদ আসিবে বাড়ী ... ,
ভ্রাতার কাছে খবর দিলো এয়ারপোর্টে আনিতে গাড়ী ।
ভ্রাতার জবাব টাকা নাই তার , কেমনে আনিবে গাড়ী ,
তার'চে ভালো বাসে চড়ে তুই আসিস আমাদের বাড়ী ।
অনেক কষ্টে সামাদ আসিলো নিশীথে তাহার গাঁয়ে ,
বুকভরা তার খুশীর জোয়ার ঢুকিলো বাড়ীতে পায়ে পায়ে ।
মা উঠিল বাবা নেই বেঁচে ছোট ভাই আসিল কাছে তাহার ,
যে ভাইয়েরে এতো কিছু দিলো সে নাই তার কাছে আর ।
সকালে উঠি সামাদ ছুটি ভাইয়েরে জিগায় বাড়ী প্রথম ,
ভাইয়ের জবাব বাড়ী কই? সংসার চালাতেই টাকা খতম ।
না পারে সহিতে কষ্টের জ্বালা , না পারে বহিতে তার ভার ,
চাপা এক ব্যাথায় সামাদের আত্মা কেঁদে মরে যে জারেজার ।
হাড়ভাঙা শ্রম বৃথা গেলো তার , আশা স্বপ্ন সব গেলো ভঙ্গে ,
বৃথা গেলো তার অনাহারে থাকা সহোদর ভ্রাতার অকৃতজ্ঞে ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।