অকৃতজ্ঞ (২)
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট

কুয়াশার সকাল কাঁদে প্রকৃতি নীরব চারিদিক ,
শৈলী চলেছে পাশের গাঁয়ে ধরিতে সাংবাদিক ।
শৈলী লেখে কাব্য রোজ জানেনা কোন লোক ,
দিনে দিনে তাই বাড়ে মনে তার অযুত শোক ।
শোকের ভার কমাতে চায় প্রকাশ করি কাব্য ,
কেহ যদি হায় নাহি চায় নিজেই করিবে শ্রাব্য ।
এক ক্রোশ পথ পায়ে হেঁটে মাড়ে শৈত্য মাখা ,
চিরি হিমবায়ু দূর পাহাড় গিরি পথ আঁকাবাঁকা ।
ঘণ্টা দেড়েক পার হয়ে গেলে পায় সে ঠিকানা ,
কেহ নাই জাগি তবু সে দুয়ারে দিয়ে যায় হানা ।
সাংবাদিক উঠিয়া খুলিলো দুয়ার রুক্ষ মনন ...,
জোড়হাত করি পায়ে তার পড়ি ভাসালো নয়ন ।
কাঁদো কণ্ঠে বলে শৈলী হেল্প করো মোরে ভায়া ,
কাব্য আমার প্রকাশ করিতে তোমার চাই ছায়া ।
মায়ের দেওয়া হার'টা বিকে আনিছি কড়ি-পাঈ ,
আমার কাব্য তোমার পত্রিকায় প্রকাশিত চাই ।
আবেদনে কাতর সাংবাদিক সাব হইলো রাজি ,
ভালো কিছু কাব্য ডায়েরীতে সে চাইলো সাজি ।
বুকে জমা ব্যাথা হালকা হইলো শৈলীর কিছু ,
বাটীর পথে রওয়ানা দিলো সে মস্তক করি উঁচু ।
অপরাহ্নে সব বুঝিয়া দিলো সাংবাদিকের কাছে ,
ভালো ভালো যাহা কাব্য তার ডায়েরীতে আছে ।


কটা দিন গেলে প্রকাশিত হল কাব্য পত্রিকায় ,
কবি সে ঢোল পিটিয়া ছড়াইলো গোটা মহল্লায় ।
জনে জনে তারে কবি বলে ডাকে খুশীতে পাগল ,
নতুন সাংবাদিক আসিবে তাই খুলে রয় আগল ।
নাম ছড়ছে কবির খাতায় ফুপে ওঠে দিনে দিনে ,
মিলছে টাকা আঁখি হয় বাঁকা ভায়ারে নাহি চিনে ।
ভায়া আসিলে শৈলীর ঘরে বসা তো দূরের কথা ,
টাকা দিলে সে কাব্য দিবে ভায়ায়, নচেৎ নীরবতা ।
মাথা ঠুকিয়া কূল নাহি পায় ব্যাথায় বুক ভারী ,
সুখ সে পাবে ছাড়িয়া গেলে জলদী শৈলীর বাড়ি ।
জোরপায়ে সে ছাড়িল বাড়ি আঁখ ভরে তার জলে ,
কিবা করিবার উপায় থাকে অকৃতজ্ঞ হলে ?


০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।


slot gacor 2026 slot gacor situs slot gacor 2026