অকৃতজ্ঞ (১)
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
বিরেন ডাকিয়া কহে শোন হে মেজর ভাই ,
তুমি বিনে এই জীবনটার রক্ষা বুঝি নাই ।
একবেলা জোটে ভাত আরেক বেলা হাভাত,
অভাগার রাত্রি যায় অনাহারে দারা পুত্র সাথ ।
আপন পেটে পাষাণ বাঁধি রুধিবার তো পারি ,
সইতে যে পারিনা আমি পুত্রের রোনাজারি ।
তোমার দয়ায় বাঁচতো মোদের ক্ষুধার্ত জীবন ,
তোমার তরে মোদের দোয়া রইতো আজীবন ।
চাও যদি তুমি নগদ কড়ি দিবো সেঁচে সেঁচে ,
ঘরভিটাতে যাহা আছে দিবো সকল বেচে ।
মেজর কহেন বিরেন'দা টাকার ব্যাপার নয় ,
জন্মের পরই তোমার সনে আমার পরিচয় ।
আমার উপর সার্জন আছেন তারে কিছু দিলে ,
হয়তো'বা চাকরী তোমার অতি জলদী মিলে ।
হয়তো'বা হাজার দশেক লাগবে এমন কিছু ,
থাকতে হবে জোঁকের মতো সারাটা দিন পিছু ।
তোমার জন্য করতে পারবো প্রতিবেশী বলে ,
হাজার দশেক ম্যানেজ করো যাও তুমি চলে ।
বিরেন'দা ঘরে এসে সকলকে হাঁকে ডাকে ,
আমার মতো ঠামু বিরেন ব্যর্থে কি আর থাকে ?
মেজর দেখেই চমকে ওঠে ডাকিয়া কয় মোরে ,
বিরেন তুমি চাইলে আমি চাকরী দিবো তোরে ।
মেজর সাহেবের কথা আর ফেলতে নাহি পারি ,
জয়েন করলাম চাকরীতে মম অতি তাড়াতাড়ি ।
চাইলো না সে কিছুই নিতে, আমিই গরজ করে ,
হাজার দশেক দিতে চাইলাম, তার পকেট ভরে ।
গিন্নী তোমার গরু ছাগল সকল কিছু বিকাও ,
মোদের পেট সইবে না যে যদি খাই ফাওফাও ।
গরু ছাগল বেচা'র পর... করো কিছু কর্য ঋণ ,
তাও যদি না হয় তব বিকিয়ে দাও চালের টিন ।
সর্বস্বান্ত করে বিরেন চাকরী নিতে গেলো ...,
নগদ টাকা বুঝিয়ে দিয়ে চাকরী বেটা পেলো ।
চাকরী পেলো বেতন পেলো সংসার যায় ভালো ,
হঠাত একদিন মেজর সাব গাঁয়ের বাড়ি এলো ।
গাঁয়ে এসে খবর পেলো বিরেন বাড়িতে আছে ,
খবর দিলো বিরেন যেন আসে মেজরের কাছে ।
বিরেন কয় কেন যাবো, আমার কিসের দায় ?
শুনেই মেজর মাথা ঠুকে বলে সে হায় হায় ।।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।