চাই একতা
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
ধমনীর শিরায় শিরায় রক্তের তীব্র বহমান আজ ,
শিহরিত প্রাণ হেরিয়া শ্বাপদের বীভৎস কারুকাজ ।
বেলঘড়ির চর ... ...
দু'শ কাল আগে শাম ডাকাত তুলেছিল সেথা ঘর ।
জন্ম দিয়েছিল সন্তান এক নাম তার আসাম আলী ,
ছোট কাল থেকেই মুখে ছিল তার নোংরামো গালি ।
কু'পিতার কু'সন্তান শিখে নাই কোন আদব কায়দা ,
ফাঁক ফোঁকরে ছোট কাল থেকেই লুটিত শুধু ফায়দা ।
হাতের সামনে যাহাই পেত নিতো আপনার দখলে ,
চোখে হেরিলে সুন্দরী নারী টানি'ত আপনার বগলে ।
ছোট কাল থেকে বেয়াদব গুরু নেই কোন ভয়ভীতি ,
গডফাদারে পরিণত হলো বাবা টানিলে আয়ুর ইতি ।
এলাকার সকল সুন্দরী নারী তাহার যেন সম্পত্তি ,
ইচ্ছে মতো দখল করে সে, রহে না আর কেউ সতী ।
অর্চনা নামে সুন্দরী নারী এলাকার বিবেক বলা চলে ,
সেদিন প্রাতে ঘর থেকে বাহিরিলেই আসামের কবলে ।
"জোর যার মুল্লুক তার" করিল দখল সে অর্চনার দেহ ,
"জান বাঁচা ফরজ " ভাবি আসেনি তার উদ্ধারে কেহ ।
শিয়াল যেন পাইল ভেড়া, নিয়ে চলিল সে ধরি ঘাড় ,
কত রোনাজারি কত আহাজারি শোনেনি সে আবদার ।
শরীর 'পর আঘাত সহে, সহেনা কেউ মনের আঘাত ,
জান দিবে সে মান দিবে না অর্চনার তীব্র এক বাত ।
কু-সন্তানের অপকর্ম যবে শুরু করিল অর্চনার সাথে ,
বিষ ঝরে অর্চনার চোখে মুখে ঈর্ষায় জিভ কাটে দাঁতে ।
শয়তান যবে হাত উঠায় নন্দে...নিষ্পাপ অর্চনার বুকে ,
একদলা থুথু দিলো সে নির্বংশা শিয়াল শাবকের মুখে ।
ঘরে টেনে নিলো শিয়াল তাকে নিভে দিলো আলোবাতি ,
মুহূর্তে অর্চনা শিয়ালের বুকে কষে মারিলো এক লাথি ।
শিয়াল আর শিয়াল থাকলো না, সাজিলো জঙ্গলের বাঘ ,
মানুষ খুনের তরবারে অর্চনার দেহ কতলে করিলো দাগ ।
একবার নয় দু'বার নয় শতবার আঘাতে করিল ছিন্নভিন্ন ,
প্রাণ যায় যায়, মান রক্ষায় পড়িয়া রইল অর্চনা জীর্ণশীর্ণ ।
তবুও শ্বাপদ হয় না ক্ষান্ত, প্রাণে খোঁজে শান্তির পরশ ,
একহস্ত কাটি কৃত্রিম হ্রদে ফেলি হইলো তার প্রাণ সরস ।
গাঁয়ে আসিয়াছে অর্চনার দাদা থাকিত ল্যাথ অ্যামেরিকা ,
ঘরে আসিয়া দিদিরে না পেয়ে জ্বলে বুকে তার অগ্নিশিখা ।
জনে জনে সে হাজার ডলার দিতে চাহিল যবে ,
মিনিট দশেক সময় লাগিল , হইল হাজির গাঁয়ের সবে ।
দাদার আরজ শুধু একটি , চায় সে একতা সবার মিল ,
বাঁচিলে বাঁচিবে আর মরিলে এক সাথে যাবে সবার দীল ।
চাই শুধু একতা ...প্রাণের মিল সবার ... ... ,
থাকিবে মিলেমিশে , আসিলে অভাব দিবো মম ডলার ।
সবাই একসাথে রাজি রাজি বলে তুলিল জোর কলরব,
সুযোগ পাইয়া দাদা বলিল, হাতে নাও সবে দা-ছুরি-বল্লব ।
ছুটে চলো সবে বাঁচাতে হবে দিদি আমার মরে ভাগাড়ে ,
যেজন আসিবে রুধিতে মোদের, শেষ করিব আগে তারে ।
সবাই পাইল সাহস বল , ছুটিল বাঁচাতে দাদার দিদিকে ,
সূর্য আর চন্দ্রের আলো হেরিল এক সাথে তারা চতুর্দিকে ।
এতো জনবল হেরিয়া আসামের যত ছিল চ্যালা পুঁটি ,
নির্জনে নীরবে গোপনে সবাই পালাইলো দূরে ছুটি ছুটি ।
সবাই পাইল আসামেরে ঘরে , কর্তন করিল পা হাত ,
কে যেন আসিয়া গর্দান কাটিয়া পাঁজরে লাথি দিলো সাথ ।
পাইল দিদি উদ্ধার , ঘটেছে অঙ্গহানি , ঘটেনি মানহানি ,
তবু শ্বাপদের পরাজয় দেখে নয়নে তার ঝরিলো পানি ।
ফিরিয়া পাইলো সে নতুন জীবন , অন্য রকম সুখে ,
গাঁয়ের সবার একতা দেখে সময় কাটে তার হাসি মুখে ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।