সেদিন ১৫ই অগাস্ট ১৯৭৫. শিমুল আহমেদ
- শিমুল আহমেদ
সে দিন এখানে আকাশ ক্লান্ত ছিল,
কৃষ্ণচূড়ার রক্তিমা হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণের মতো।
সে দিন মীরাবাঈ নৃত্যের তাল ভেঙ্গে
হঠাৎ থমকে গেলেন,
জলসায় হলোনা আর নৃত্য
তা তা থৈথৈ, তা তা থৈথৈ!
সেদিন সাকীর শরাব নিয়ে পিয়ালায়
হাফিজ জেগেছিলেন সারারাত
তুমি আর কেঁদো না নার্গীস!
নমশূদ্রের মতো আমি দেখেছি
অর্ধনগ্ন পাগলিনী, সূর্যের মুখে
তুলে ধরে তাঁর সমস্ত শরীর
অবিরাম বলে চলছে
"দ্যাশে কি একটাও মরদ নাই! "
সেদিন অ থেকে ঁ পর্যন্ত
আমার প্রতিটি বর্ণমালা কেঁদেছিল,
তুমি কোন বিবর্তনের কথা বলো?
বুকের ভেতর ব্যবচ্ছেদ করে দেখো
একুশ কোটি শেখ মুজিব ঘুমিয়ে আছে
একুশ কোটি বাঙালির বুকে।
সেদিন তারও কিছু দিন আগে
গোপন সভাকক্ষের দেয়ালে
ঝুলে থাকা মাকড়শা শুনে
কর্নেল ফারুক বলছেন ;
"জেনারেল, আমরা রাষ্ট্রের শাসন
ব্যবস্থায় একটা বিশাল পরিবর্তন
আনতে চাচ্ছি,
আমরা শেখ মুজিব কে চিরতরে সরিয়ে দেব,
আপনার সম্মতি থাকলে
রাষ্ট্র প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হবে আপনাকে। "
জেনারেল বল্লেন ;
"তোমরা যা ভালো মনে কর, তাই কর।
খোদার দোহাই আমাকে
এসবের মধ্যে জড়িয়ো না। "
মেঝেতে বসে থাকা আরশোলা বলে;
"জেনারেল জিয়া এই হত্যাকান্ডে
আপনিও নিরব সম্মতি দাতা।"
সেদিন মুয়াজ্জিন ডাকছেন
"আসসালাতু খাই রুম মিনান নাউম।"
গগনবিদারী গ্রেনেড আর গুলির শব্দ
ততক্ষণে কয়েকটি প্রাণের জীবনাবসান,
দেয়ালে বসে থাকা সন্ত্রস্ত টিকটিকি দেখলো
জাতির জনক দোতলার সিঁড়ি বেয়ে নামছেন
ধমকের সুরে বল্লেন ;
"এই তোরা কি চাস,
তোরা কি আমাকে হত্যা করতে চাস?
যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী
আমাকে হত্যা করার সাহস পায়নি
তা কখনো তোরা পারবিনা।"
মেজর মহিউদ্দিন কাঁপছিলেন
"স্যার আপনি নিচে নেমে আসুন।"
মেজর নূর বল্লেন;
"ডোন্ট মেক ডিলে, হি ইজ বঙ্গবন্ধু,
ইউ উইল বি ইনফ্লুয়েন্সড বাই হিজ ওয়ার্ড,
সো ফায়ার, ডোন্ট মেক ডিলে।"
তারপর মেজর নূরের মেশিন গান গর্জে উঠলো
লুটায়ে পড়লেন বঙ্গবন্ধু।
প্রাণ ভয়ে ধাবমান একটা কাঠবিড়ালি
প্রাচীরের উপর থমকে দাঁড়াল
নিথর দেহে রক্তাক্ত বঙ্গবন্ধু,
রক্তস্নাত বাংলাদেশ।
০২-০৮-২০২১ইং
নিজ বাসভূমে।
১৩-০৭-২০২৪
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।