অতন্দ্রিতা: পাখির কান্না
- মোমেন চৌধুরী
সন্দুকি-কাঠপালঙ্কে মাথা রাখলেই ভেসে আসে,
মগজে করাতকলের কর্কশ সুর,
শালিকের ভাঙা ডানায় আঁকা কান্নার রেখা,
প্রকৃতির চুপচাপ অনুযোগ,
সবই মিশে যায় বোধের জং ধরা সুরে।
সুবোধ আমি, তবু অসহায়—
আঁধারের ক্যানভাসে তোমাকে শোনাই,
কাঠগাছের কাহিনি,
যেখানে শেকড় টানছে সময়ের ভার,
আর পাখিরা, ঘর হারানো পথিক।
তুমি শোনো, ভ্রু কুঁচকে,
তপ্ত শরীরে স্মরণ করো
শহরতলির নীরব ঈশ্বরকে।
ঈশ্বর নাজিল করেন ওষুধের নাম,
সিজোফ্রেনিয়ার প্রেকসিপশন হাতে রেখে
তুমি বলো, "এমন কবিতা কেন এত তিক্ত?"
আমি শব্দে মধু মেশাই,
তোমার চোখের জন্য লিখি—
"অতন্দ্রিতা, পাখিটা কেবল কী বলল জানো?
শুনবে? শুনো না... প্লিজ।
ও বলল, জীবন আসলে অপেক্ষা,
ঘুমহীন রাতের মতো দীর্ঘ,
আর হৃদয়ের প্রতিধ্বনি,
যেখানে কেউ শুধু শোনে না।”
তুমি এবার পাখিদের কান্না শুনে বলো,
“এরা কি কাঠগাছের জীবন জানে?”
আমি চুপ করে থাকি,
কারণ জবাবগুলো
তোমার মুখে শুয়ে থাকা কবিতার মতো
কখনো বলা হয়ে ওঠে না।
১২-০১-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।