মোমেনা
- বেঞ্জিন বেঞ্জয়েট
বেলা বয়ে যায় পশ্চিমে ঢলি মোমেনা ফিরেনা ঘরে ,
জননী কাঁদে পথের ধারে শোকাহত মেয়ের তরে ।
বাপ মরা মেয়ে অর্ধ এতিম জননী বহিছে সব ঘানী ,
পিতৃস্নেহাভাব বুঝিতে দেয়নি একাকী লয়েছে টানি ।
মেয়ের বায়না মিটাতে গিয়ে ঝরেছে জননীর ঘাম ,
তবু জননী চায়নি পেতে সে হাড়ভাঙা শ্রমের দাম ।
চাহিয়াছে সদা মেয়ের সুখ চাহিয়াছে মেয়ের হাসি ,
মেয়ের সুখ তরে হাজার ঘরে সাজিছে জননী দাসী ।
আজি সেই মেয়ে তার উধাও চকিত জানেনা সন্ধান ,
উদাস জননী কাঁদি কাঁদি সে আনিয়াছে অশ্রুর বান ।
জননী জানে না জুজুবুড়ি আসি খাওয়ায়ে খিলি পান ,
তাহার মেয়েরে করিয়াছিল সে দিনে দুপুরে অজ্ঞান ।
অজ্ঞান করি পায়ে বাঁধি দড়ি রিক্সায় ঠেলে তুলে লয়ে,
মেয়েকে তাহার লয়ে গেছে বুড়ি শীতার্ত পতিতালয়ে ।
কুড়ি টাকা দরে বিকিয়া দিয়াছে এতিম জীবনখানি ,
মোমেনার জ্ঞান ফিরিয়া আসিলে নয়নে ঝরেছে পানি ।
জননী কাঁদে মেয়ে হারাতে, মেয়ে কাঁদে ইজ্জত হারি ,
ভাসে কান্না আকাশ বাতাস স্বর্গ মর্ত্য ত্রিভুবন ছাড়ি ।
কাঁদে না কেবল সমাজপতি সমাজের ভার কাঁধে যার ,
হারাম হালাল চিনেনা সে কেবলই তার টাকা দরকার ।
পথহীন মশাই পথ কি চিনেন, চিনেন টাকার গলি ,
সব জায়েজ হয় পূর্ণ হলে টাকার দ্বারা টাকার থলি ।
মিডিয়ার যুগে সব জলে গেলেও, যায় না সাংবাদিক ,
খবরের খোঁজে ভোজে অভোজে ঘোরে সে চতুর্দিক ।
পতিতালয়ে আসিয়া বাছা মোমেনার খবর পেলো ,
ছবি সহ তার বিবরণ সকল পত্রিকায় লিখে দিলো ।
থানা হতে সে থানায় চলিল... করিতে তারে উদ্ধার ,
শ্রম দিলো সে ফিরিয়ে দিতে মানুষের ন্যায্য অধিকার ।
মোমেনা ফিরিলে জননীর বুকে নামিল হরষের ঢল ,
মুক্তি পেলেও মোমেনার জীবন থেকেছে সমাজ-পদাতল ।
দোষী নয় সে তবুও দোষী সমাজ দিয়েছে পতিতাভিশাপ ,
জীবন কেটেছে তাচ্ছিল্যে কেবলই তার করিয়া অনুতাপ ।
অনূঢ়ার জীবন উপহার দিয়েছে কুসংস্কারের এ সমাজ ,
হয় নাই তায় পড়া মোমেনার কভু বিবাহের মুকুট তাজ ।
০৬-০৬-২০২৩
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।