জাত-পাত
- কেয়ন ইমরান
সুন্দর পৃথিবীতে অসুন্দর কর্মকাণ্ড!
আর তাহাকেই সমর্থন করে-
মানুষ বড়ই আজব প্রাণী!
খারাপকে গ্রহণ করে শ্রদ্ধাভরে।
সৎ নীতির মূল্য নাই
এই পৃথিবীর সমাজ সংসারে।
অসৎ লোকে ভরিয়াছে সমাজ
পৃথিবী আজ অন্তিম দ্বারে।
নাই কোন বাঁধা-ব্যবধান
ইচ্ছা মতো চলিতেছে মানুষ।
অধর্ম আজ হইয়াছে গোঁড়ামি,
হারাইয়া ফেলিয়াছি মোরা হুঁশ।
বিষের সহিত অমৃতের মিল
করিয়াছি মোরা মানব জাতি।
একত্র হইয়া থাকিতেছে তাহারা-
কেবল ভিন্নতা রহিয়াছে মতি।
ছেলে-মেয়ে বন্ধু হয়,
রাত্রি যাপন নয় একত্রে।
মানিবে না সমাজ ইহা,
ভিন্নতা সে লিঙ্গের ক্ষেত্রে।
সবই আছে এই পৃথিবীতে-
কিছু গ্রহণে আছে নিষেধাজ্ঞা।
সকল ক্ষেত্রেই মানবীয় গুণ,
ইহা নয় তব আজ্ঞা।
ভাবিতে হইবে গ্রহণের সময়
জায়েজ কি নাজায়েজ উহা।
নাজায়েজ জিনিসও উপকারে আসে।
নিষিদ্ধ কলঙ্কের ছাপ তাহা।
ধর্মেরও কিছু বিধান আছে,
তাহা মানিয়া চলো জাতি।
ঈশ্বর, খোদা, ভগবান তিনিই
স্মরণে ওপারের লাভ-ক্ষতি।
সর্পের মাথার মনি মূল্যবান,
তাহা জীবন নাশ করে।
সকলে নিকটে যায় না,
জীবনের মায়া এই শহরে।
বাকির আশায় নগদ ছাড়ো,
তব ভিতরের পাখি অচিন।
এই জগৎ রঙিন সিনেমা,
অন্তর্যামীর লীলা বোঝা কঠিন।
দুই ক্ষুধাকে নিয়ন্ত্রণ করিলে
শুদ্ধ মানবে রুপান্তর হয়।
জগতে শান্তি বিরাজ করে
থাকে না কোন সংশয়।
ক্ষুধার নিমিত্তে মানব চিত্তে
জাগ্রত হয় হিংস্র পশু।
জগৎ লীলায় অবগাহন করে
আপনারে ভাবে অবুঝ শিশু।
খোদার সৃষ্টি শ্রেষ্ঠ জাতি
আমরা যে, আশরাফুল মাখলুকাত।
আমরা শিক্ষিত, নাই গোত্র,
ভুলিয়াছি আপন জাত-পাত।
কাকের বাসায় কোকিলের বাস,
ইহা নয় ভালো লক্ষণ।
স্বর যখন চিনিতে পারে
ঠিকই উচ্ছেদ করে তখন।
দ্বিমত লইয়া একই ঘরে
করিতেছি দিব্যি মোরা বসবাস।
একই মতে বিশ্বাসী না
রঞ্জন-ভোজনে হইতেছি দাস।
২২-০১-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।