প্রিয় হুজুর এবং আমি -৩য় অংশ
- মোমেন চৌধুরী
আমি মসজিদে ঢুকে ওজু করলাম। পানির প্রতিটি ফোঁটায় যেন আমার ভেতরের গুনাহ ধুয়ে যাচ্ছে। ওজু শেষ করে সোজা প্রথম কাতারে গিয়ে দাঁড়ালাম। আজান শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ আগে, এখন ইকামত হবে। চারপাশে তাকিয়ে দেখলাম, সবাই একের পর এক কাতারে এসে দাঁড়াচ্ছে। ছোট-বড়, ধনী-গরিব সবাই এক সারিতে—কোনো ভেদাভেদ নেই। এই দৃশ্য যেন আমাকে নতুন করে ভাবতে শেখাল।
নামাজ শুরু হলো। আমি তাকবির দিলাম—"আল্লাহু আকবার!"
হঠাৎ মনে হলো, আমি যেন সত্যিই আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আছি। প্রতিটি রাকাতে মনোযোগ দিয়ে পড়লাম, এক অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করলাম।
সিজদায় গিয়ে মনে হলো, আমি যেন সত্যিই আমার রবের সবচেয়ে কাছাকাছি আছি। চোখের কোণে অশ্রু জমে গেল। নামাজ শেষে কিছুক্ষণ দোয়া করলাম—
"হে আল্লাহ! আমাকে সত্যিকারের মুমিন বানিয়ে দাও। আমি যেন শুধু নামেই মোমেন না হই, বরং অন্তরেও মুমিন হতে পারি।"
মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দেখি, হুজুর দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। আমার চোখে চোখ পড়তেই মুচকি হাসলেন।
হুজুর: "মুমিন, আজ নামাজ পড়ে কেমন লাগলো?"
আমি একটুও ভাবলাম না, সরাসরি বললাম—
"অন্যরকম! মনে হলো যেন নতুন করে কিছু পেলাম!"
হুজুর আবার হাসলেন।
হুজুর: "এই অনুভূতিটাই ধরে রাখতে হবে, মুমিন। নামাজ হলো আত্মার খাদ্য, আর আত্মা যদি ক্ষুধার্ত থাকে, তাহলে মানুষ কখনোই পরিপূর্ণ শান্তি পায় না। তুমি কবিতা লেখো, এবার নামাজ নিয়েও একটা কবিতা লিখো, দেখবে তোমার কলমে নতুন এক আলো জ্বলে উঠবে!"
আমি বিস্মিত হলাম! নামাজ যে এত গভীরভাবে আমার ভেতরে পরিবর্তন এনে দেবে, তা ভাবিনি।
হুজুরের কথায় মাথা ঝুঁকিয়ে বললাম—
"ইনশাআল্লাহ, হুজুর! আমি শুধু কবি নই, আমি একজন মুমিন হতে চাই!"
(খুব শীঘ্রই আসবে -৪র্থ অংশ)
০৩-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।