প্রিয় হুজুর এবং আমি -৪র্থ অংশ
- মোমেন চৌধুরী
মসজিদ থেকে বেরিয়ে আকাশের দিকে তাকালাম। সন্ধ্যার আলো-আঁধারির মাঝে এক টুকরো চাঁদ উঁকি দিচ্ছে। বাতাসটাও কেমন জানি শান্ত, প্রশান্ত। মনে হলো, প্রকৃতি যেন আমাকেই কিছু বলতে চায়—
"তুমি বদলাচ্ছো, মোমেন!"
পায়ে চলার গতি একটু ধীর করলাম। আজকের এই ঘটনা যেন আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। হুজুরের কথাগুলো এখনো কানে বাজছে— "নামাজ হলো আত্মার খাদ্য"। সত্যিই তো, আমি এতদিন শুধু দেহের খাবার খেয়েছি, কিন্তু আমার আত্মা? তাকে কি কখনো খাওয়ানোর কথা ভেবেছি?
রাস্তার পাশে এক দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দেখি, কয়েকজন তরুণ জটলা পাকিয়ে গল্প করছে। কেউ সিগারেট ধরিয়েছে, কেউ ফোনে মগ্ন, কেউ আবার উচ্চস্বরে হাসাহাসি করছে। আমি একসময় এদের মাঝেই ছিলাম, তাই না? নামাজের কথা ভাবিনি, হেলাফেলা করতাম। কিন্তু আজ? আজ কেন জানি মনে হচ্ছে, আমি আর আগের আমি নেই।
হঠাৎ, একজন আমাকে দেখে ডেকে উঠল—
"ওই মোমেন, কই যাস?"
আমি একটু হাসলাম, তারপর বললাম—
"ঘরে যাচ্ছি, নামাজ পড়ে আসলাম।"
ওরা অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল, তারপর একজন হাসতে হাসতে বলল—
"কিরে, হুজুর হয়ে গেলি নাকি?"
আগে হলে হয়তো হেসে দিতাম, বিষয়টা উড়িয়ে দিতাম। কিন্তু আজ আমি অন্যরকম অনুভব করলাম। একটু এগিয়ে গিয়ে তার কাঁধে হাত রাখলাম।
"শোন, নামাজ পড়লেই হুজুর হওয়া লাগে না। মানুষ হওয়ার জন্য নামাজ পড়তে হয়!"
সে থমকে গেল, অন্যরাও চুপ। আমি আর কিছু না বলে এগিয়ে গেলাম। মনে হলো, এই কয়েকটি কথার মাঝেও হয়তো একটা পরিবর্তনের বীজ রেখে গেলাম।
রাস্তা পেরিয়ে ঘরে ঢুকে প্রথম কাজই করলাম—কাগজ-কলম বের করলাম। আজকের অনুভূতিটা লিখতে হবে। প্রথম লাইনটাই যেন মনে গেঁথে গেছে—
"আমি শুধু নামেই মোমেন নই, আমি হতে চাই প্রকৃত মুমিন!"
বিশেষ দ্রষ্টব্য ;আমি জানিনা ৫ম অংশ আসবে কিনা!
০৩-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।