প্রিয় হুজুর এবং আমি -৫ম অংশ
- মোমেন চৌধুরী
কলমের নিব ছুঁইয়ে দিলাম কাগজে। মনে হলো, আজকের অনুভূতিগুলো শুধু মনের ভেতর আটকে রাখা ঠিক হবে না। আমি লিখতে শুরু করলাম—
"আমি শুধু নামেই মোমেন নই,
আমি হতে চাই প্রকৃত মুমিন!
যে নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলে,
যে সিজদায় গিয়ে চোখের পানি ফেলে…"
কলম থামিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম। মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— আমি কি সত্যিই বদলাতে পারবো? এই অনুভূতি কি শুধু আজকের জন্য, নাকি আমৃত্যু ধরে রাখতে পারবো?
ঠিক তখনই মনে পড়লো হুজুরের কথা—
"এই অনুভূতিটাই ধরে রাখতে হবে, মুমিন!"
হ্যাঁ, আমি জানি, পরিবর্তন রাতারাতি হয় না। কিন্তু যদি প্রতিদিন একটা করে ভালো কাজ করতে পারি, যদি অন্তত পাঁচওয়াক্ত নামাজ ঠিকভাবে আদায় করতে পারি, তাহলেই হয়তো ধীরে ধীরে প্রকৃত মুমিন হওয়ার পথে হাঁটতে পারবো।
আমি কবিতার শেষ কয়েকটি লাইন লিখলাম—
"আমি আর হেলাফেলা করবো না,
আমি আর ভুল পথ হাঁটবো না,
আমার রব আমাকে ডাকছে,
আমি তাঁর সান্নিধ্যে যাবো…
আমি শুধু নামেই মোমেন নই,
আমি হতে চাই প্রকৃত মুমিন!"
শেষ লাইনটা লিখে কলমটা রেখে দিলাম। বুকের ভেতর এক ধরনের প্রশান্তি কাজ করছে। যেন নিজের সঙ্গেই একটা অঙ্গীকার করলাম।
হঠাৎ দরজার পাশে মা এসে দাঁড়ালেন। হাতে এক গ্লাস পানি। আমার দিকে তাকিয়ে মায়ের চোখে একটা প্রশান্তির ঝিলিক দেখতে পেলাম।
"কি লিখছো, তুমি?"
আমি মুচকি হাসলাম। কাগজটা একটু ভাঁজ করে বললাম—
"নতুন একটা কবিতা, মা। এবার একটু অন্যরকম… নিজের জন্য লেখা!"
মা কিছু না বলে শুধু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। আর আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম—
"আমি সত্যিই বদলাতে চাই… আমি শুধু নামেই মোমেন নই, আমি হতে চাই প্রকৃত মুমিন!"
০৩-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।