প্রিয় হুজুর এবং আমি -৯ম অংশ
- মোমেন চৌধুরী

পরের দিন সকালেই মাদ্রাসায় গেলাম। হুজুরের কথা মনে ছিল— আজ তিনি আমাকে শেখাবেন, কীভাবে অন্তরকে বিশুদ্ধ করতে হয়।

হুজুর জানালার ধারে বসে ছিলেন, হাতে তসবিহ, চোখে গভীর শান্তি। আমি সামনে বসতেই তিনি বললেন,

"মোমেন, বাহিরটা ঠিক করেছো, এবার ভেতরটা ঠিক করতে হবে। বলো তো, অন্তর পরিশুদ্ধ করার জন্য সবচেয়ে বড় বাধা কী?"

আমি একটু ভেবে বললাম, "রাগ, অহংকার, হিংসা?"

হুজুর হাসলেন, "ঠিক বলেছো। তবে আরেকটি জিনিস আছে, যা মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। তা হলো— 'নফস'।"

আমি অবাক হলাম। "নফস?"

হুজুর বোঝাতে শুরু করলেন—

"নফস মানে আমাদের ভেতরের প্রবৃত্তি। এটা আমাদের ভালো কাজ থেকেও ফিরিয়ে রাখে, মন্দ কাজের দিকে টানে।"

আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনছিলাম।

"এই নফসই কখনো অহংকারী করে তোলে, কখনো রাগান্বিত করে, কখনো হিংস্র করে তোলে। এটা আমাদের ভালো কাজকে ছোট করে দেখে, মন্দ কাজকে সুন্দর মনে করায়।"

আমি একটু চিন্তিত হলাম, "তাহলে হুজুর, নফসকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবো?"

হুজুর মৃদু হেসে বললেন—

"নবিজি (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন তিনটি উপায়—

১️⃣আল্লাহর জিকির: বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করো, তাহলেই অন্তর নরম হবে।
২️⃣ নিজেকে ছোট মনে করো: আমরা সবাই আল্লাহর সৃষ্টি, কারও চেয়ে বড় নই।
৩️⃣ সবকিছু আল্লাহর জন্য করো: নামাজ, দান, ভালো ব্যবহার— সব কিছু শুধুই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করো।"

আমি গভীরভাবে ভাবলাম। সত্যিই তো, আমার অন্তরে হয়তো এখনো অহংকার আছে, রাগ আছে। তাই শুধু বাহিরের ভালো কাজ করলেই হবে না, ভেতরটাও শুদ্ধ করতে হবে।

হুজুর বললেন, "আজ থেকে প্রতিদিন অন্তত একবার এই দোয়াটি পড়বে—

اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا، وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا

("হে আল্লাহ! আমার নফসকে তুমি পরিশুদ্ধ করো, তুমি-ই সর্বোত্তম পরিশোধক, তুমি-ই এর অভিভাবক ও মালিক।")

আমি মাথা ঝুঁকিয়ে বললাম, "ইনশাআল্লাহ, আমি চেষ্টা করবো হুজুর।"

হুজুর স্নেহভরে আমার মাথায় হাত রাখলেন।

আমি উঠে দাঁড়ালাম, মনে হলো, আজ থেকে আমার পরিবর্তনের আরেকটি নতুন অধ্যায় শুরু হলো…

(চলবে…)


১০-০২-২০২৫
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্য যোগ করুন

কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।

মন্তব্যসমূহ

এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।